
স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। দেরিতে হলেও করোনা এসে বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছিল আমাদেরকে এই কথা। আর এর পর থেকেই ওষুধের পাশাপাশি পথ্য নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায় বিশ্বজুড়ে। আমাদের দেশেও লেগেছে এর ছোঁয়া। হেলথফুড বা বিশেষ স্বাস্থ্যগুণসম্পন্ন খাবার নিয়ে বাংলাদেশে এখন আগ্রহ যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। চলুন দেখে নিই বছরজুড়ে কোন ৯টি খাদ্য উপকরণ ছিল বেশি আলোচনায়।
চিয়া সিডস

এক কথায় ভাইরাল এখন এই উপকরণটি আমাদের দেশে। এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন এখন যে চিয়া সিডস চেনে না। আর এর স্বাস্থ্যগুণও তেমনি। প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ভালো ফ্যাট, প্রোটিন আর মিনারেলের খনি চিয়া সিডস হার্ট ভালো রাখে, হজমে সহায়ক, ওজন কমায় আর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও আছে বহু গুণ। পানি, লেবু-পানি, ডাবের পানি বা দইয়ের সঙ্গে চিয়া সিডস বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। তবে অবশ্যই তা ভিজিয়ে রেখে তারপর খেতে হবে।
ওপরের লিংকে ক্লিক করে দেখুন চিয়া সিডস কীভাবে খেলে তরতর করে ওজন কমবে।
বিটরুট
আমাদের দেশে বিটরুট বহু বছর ধরেই স্বল্পপরিসরে চাষ হয়। সালাদে খাওয়া হয় শীতকালে। তবে এখন এই ভাইরাল সবজিটি সারাবছর মেলে। বাজার থেকে শুরু করে ফেরিওয়ালার ঝুড়িতে সহজেই পেয়ে যাবেন রক্তবর্ণ বিট। বিটের জুস পান করার ট্রেন্ড চললেও বলা হচ্ছে, ফাইবারসহ পুরো বিট খেলে তবেই পাবেন সুফল।

ভিটামিন, মিনারেল আর ফাইটোকেমিক্যালে ঠাসা বিট খেলে হার্ট থাকবে ভালো। ওজন কমাতে, প্রদাহ প্রতিরোধ করতে এর জুড়ি নেই। সেই সঙ্গে হজম আর ব্রেন ফাংশনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে বিট। এমন দিনে বিটরুটের কাঞ্জি বা ফারমেন্টেড পানীয়ও খুব উপকারী। নিচে এর লিংক রইল।
ওটস
যব বা পয়রা থেকে হয় এই শস্যজাতীয় খাবার। কিছুটা পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, দেশের সকল শ্রেণির মানুষের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নেওয়া এই উপকারি খাবারটি পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। অথচ এদেশেই উৎপাদন করা যায় তা বড় পরিসরে।

এদিকে যে ইন্সট্যান্ট ওটস টনকে টন বিক্রি হচ্ছে, তা আসলে সেভাবে কার্যকর নয়। হার্ট ভালো রাখা, হজম কার্যকর হওয়া, ওজন কমানোসহ সকল সুফল পেতে হলে রোল্ড বা স্টিল কাট ওটস খেতে হবে, ইন্সট্যান্টটা নয়।
পাম্পকিন সিডস
কুমড়ার বীজ তো আমাদের দেশে প্রচলিত স্ন্যাক। কিন্তু এখন তা হেলথফুড হিসেবে সমাদৃত। খোসা ছাড়ানো সবুজ পাম্পকিন সিডস পাওয়া যায় প্যাকেটে।

পুরুষের স্বাস্থ্য রক্ষায় এর পজিটিভ ভূমিকার কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। শুক্রাণুর মান ও প্রবাহ ঠিক রাখা, প্রোস্টেটের স্বাস্থ্য ঠিক রাখা আর টেস্টোস্টেরন লেভেল বজায় রাখার জন্য খুব উপকারি এই খাবারটি। এতে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ভালো ফ্যাট আর ভরপুর মিনারেল।
হলুদ
কাঁচা হোক না শুকনা গুঁড়া, হলুদের উপকারিতার কারণে এর চাহিদা খুব বেশি। প্রদাহ ও সংক্রমণে এর ভূমিকা বহু যুগ ধরেই স্বীকৃত। ভাইরাল অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি ডায়েটের কারণে পানিতে হলুদ গুলে খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।

দুধে হলুদ দিয়ে গোল্ডেন মিল্ক বানিইয়েও পান করেন অনেকে নিয়মিত। কাঁচা হলুদের ভাজি বা ভর্তার রেসিপি জনপ্রিয় হয়েছে। আর এর সবই হচ্ছে স্বাস্থ্যরক্ষার তাগিদে। নিচের লিংকে দেখুন হলুদ রোগ প্রতিরোধে কী উপকারিতা দেয়
অনেকেই চিকুনগুনিয়ার ব্যথা আর ফোলায় হলুদের মাধ্যমে উপকার পেয়েছেন এ বছর। তাই অর্গ্যানিক হলুদ গুঁড়ার চাহিদা এখন তুঙ্গে। এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট গুণের জন্য ক্যানসার চিকিৎসার সময়ও এর গুরুত্ব থাকে।
রাগি আটা
এই ট্রেন্ডি উপকরণটি আমাদের দেশে নতুন। রাগি নামের শস্য থেকে তৈরি হয় এই গ্লুটেন ফ্রি আটা। ফাইবার, ক্যালসিয়াম আর আয়রনে ভরপুর রাগি আটার রুটি অনেকেই খাওয়া শুরু করেছেন এখন।

এতে ওজন কমে, হজম ঠিক থাকে আর হার্ট থাকে ঠিকঠাক। প্রথম প্রথম টেক্সচার আর ফ্লেভার একতু অন্যরকম লাগলেও অনেকেই এখন নিয়মিত রাগি আটা কিনে খাচ্ছেন।
ডিম
ডিম নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। এখন ডিম খেলে কোলেস্টেরল প্রেশার বাড়বে, হার্ট অ্যাটাক হবে এসব ভুল ধারণা ভেঙেছে।

রোগ প্রতিরোধ, ভাইরাল জ্বরজারিতে পথ্য হিসেবে ডিম খাওয়া নিয়ে সবাই এখন বেশ সিরিয়াস। ডিমের কোলিন কুসুমে থাকে বলে ডিমের কুসুম ফেলে দেওয়ার প্রবণতাও বন্ধ হয়েছে। দেখুন ডিম বেশি খেলে কোলেস্টেরল আসলেই বাড়ে কিনা।
আমন্ড বাদাম
প্রচুর গুণাগুণ আছে এই বাদামের। ব্রেন ফাংশন ভালো রাখা, ওজন কমানো, মেটাবলিজম বাড়ানো আর হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখার কথা প্রথমেই আসে। রাতে ভিজিয়ে রেখে অনেকেই সকালে আমন্ড বাদাম খান। দেখুন আমন্ড খেলে আপনি কী কী উপকারিতা পাবেন।
এদিকে বাদাম হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি আমন্ড মিল্ক আর আমন্ড ফ্লাওয়ারও এখন খুব জনপ্রিয়।
কফি
এই চায়ের দেশে কফি এখন খুব জনপ্রিয়। আগে যেখানে চা ছাড়া আমাদের চলতোই না, সেখানে ঘরে-বাইরে কফি এই সময়ে সমান জনপ্রিয়। ক্যাফেগুলোতে তো ভিড়ের অভাব নেই। বাড়িতেও ইন্সট্যান্ট কফির পাশাপাশি ফিল্টার কফির প্রচলন বাড়ছে।

কফি বিনও মিলছে সহজে। শরীর ও মনে বহু উপকার দেয় কফি। তবে তা পান করতে হবে পরিমিত আর দুধ-চিনি-ক্রিম ছাড়া। এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ব্রেন ফাংশন বাড়ায়, হার্ট ঠিক রাখে। এর অ্যান্টি এজিং গুণও আছে। তাই তো এই বছর দেশে কফির জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।
ছবি: এআই ও ইন্সটাগ্রাম