
ফল কেনার ক্ষেত্রে আমরা অনেক সময় স্বাদের চেয়ে মর্যাদা বা বাহ্যিক সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিই। ধরুন, অসুস্থ কারও কাছে আপনি যদি এক কেজি আঙুর নিয়ে যান, সবাই তা বেশ সম্মানজনক উপহার বলেই গণ্য করবে। অথচ মাত্র ১০০ গ্রাম আমলকী রোগীর শরীরে যে শক্তি ও প্রতিরোধক্ষমতা যোগ করবে, তা আঙুরের চেয়ে বহুগুণ বেশি।
আঙুর নিঃসন্দেহে একটি দামি ও বিদেশি আমেজপূর্ণ ফল। কিন্তু রোগ প্রতিরোধে কার্যকারিতা বিচার করলে দেশীয় আমলকী অনেক বেশি মূল্যবান।

ক্যালরি ও শক্তি
আঙুর: প্রতি ১০০ গ্রামে ৬৯ কিলোক্যালরি
আমলকী: প্রতি ১০০ গ্রামে ৪৮ কিলোক্যালরি
ওজন নিয়ন্ত্রণে আমলকী ভালো।
প্রোটিন ও ফ্যাট
আমলকীতে প্রোটিন ও ফ্যাট—দুটিই সামান্য বেশি, তবে উভয়ই কম ফ্যাটযুক্ত।
কার্বোহাইড্রেট ও চিনি
আঙুরে রয়েছে ১৮.১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ও ১৫.৫ গ্রাম চিনি।
আমলকীতে কার্বোহাইড্রেট মাত্র ১০ গ্রাম, চিনি প্রায় নেই বললেই চলে।
ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য আমলকী অনেক নিরাপদ।

ভিটামিন সি: আঙুরে মাত্র ৩.২ মিলিগ্রাম, আমলকীতে গড়ে ৪৭৮ মিলিগ্রাম—প্রায় ১৫০ গুণ বেশি।
ভিটামিন এ: চোখের স্বাস্থ্যের জন্য দরকারি; আমলকীতে আঙুরের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।
ভিটামিন কে: আঙুরে উল্লেখযোগ্যভাবে আছে, রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

আমলকী ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, জিংকে সমৃদ্ধ, যা হাড় মজবুত করতে, অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। আঙুরেও পটাশিয়াম ও ফসফরাস আছে, তবে তুলনায় আমলকী বেশি শক্তিশালী।
অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের ভান্ডার
অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট শরীরকে ক্যানসার, প্রদাহ ও বয়সজনিত নানা সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করে।
আমলকী: গ্যালিক অ্যাসিড, কোয়ার্সেটিনসহ প্রচুর অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে ভরপুর।
আঙুর: রেসভেরাট্রল নামের অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী।
স্বাস্থ্য উপকারিতা একনজরে
আমলকী
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়
ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা করে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
হজমশক্তি উন্নত করে
এলার্জি ও প্রদাহ কমায়
আঙুর
শক্তি জোগায়
হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখে
শরীরকে সতেজ রাখে
গুণমানে আমলকী অনেক এগিয়ে। দিনে মাত্র ৩-৪টি আমলকী খেলে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি ও খনিজের প্রয়োজন পূর্ণ হয়ে যায়। অন্যদিকে আঙুরে একই পরিমাণ পুষ্টি পেতে চাই অন্তত ২০০ গ্রাম।


স্বাস্থ্য রক্ষায় ফল খাওয়ার বিকল্প নেই। আঙুর ও আমলকী দুটিই উপকারী হলেও পুষ্টিগুণ, সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে আমলকী অনেকটাই এগিয়ে। তাই শরীরের সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দেশীয় আমলকী যোগ করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
লেখক: খাদ্য ও পথ্য বিশেষজ্ঞ; প্রধান নির্বাহী, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র।
ছবি: পেকেজলসডটকম