কর্মক্ষেত্রে সুখী হতে হলে
শেয়ার করুন
ফলো করুন

জীবিকার তাগিদে কোনো না কোনো পেশার সঙ্গে যুক্ত আমরা সবাই। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে জব স্যাটিসফ্যাকশন বা কর্মক্ষেত্রে সুখী হওয়া যেন এক সোনার হরিণ। কোনোক্রমে অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণ হলেও প্রতিদিন অফিসে নিরানন্দ সময় কাটিয়ে গভীর ডিপ্রেশনে চলে যেতে থাকেন অনেকেই। মানসিক রোগ বাসা বাধে মনের পরতে পরতে।

আর একসময় কাজের চাপে পিষ্ট মানুষটি আর ভালোভাবে কাজই করতে পারেন না। কর্মদক্ষতা হারাতে হারাতে একসময় জীবনযুদ্ধে হারতে বসি আমরা। আর সামষ্টিকভাবে হেরে যায় সেই প্রতিষ্ঠানও, যেখানে আমরা কাজ করি। তাই শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন হিসেবে নয়, বড় বড় অর্গানাইজেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় এ নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়।

নিজেকেই নিজে পুরস্কৃত করা

ভালো কিছু করলেই যে অফিসে সবাই ভালো বলবে, তা নয়। পুরস্কার মিলবেই, এমন আশাও না করা ভালো। এর চেয়ে ভালো বুদ্ধি আছে আরেকটি। ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও নিজেকে টুকটাক ঘুষ দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া যায় অনায়াসে। ‘এই রিপোর্ট লেখা শেষ করতে পারলেই পছন্দের লাতে অর্ডার করব বাড়ি ফেরার পথে ক্যাফে থেকে’ অথবা ‘এ মাসের ঝুলে থাকা কাজগুলো মিটিয়ে নিতে পারলে একটা নতুন হেয়ারকাট’— এভাবেই নিজেকে এগিয়ে নেওয়া যায় অনেকটা।

বিজ্ঞাপন

বড় হলেও খেলা ছাড়া যাবে না

খেলা ব্যাপারটি আমরা যেভাবে শুধুই শিশুতোষ মনে করি, সেটি আসলেই বোকামি। কাজের ফাঁকে রুবিকস কিউব, পাজল গেম, ক্রসওয়ার্ড ইত্যাদি সত্যিই সাহায্য করতে পারে মগজের জট খুলতে। প্লে-ডো বা ক্লে দিয়ে ছানাছানি করে মজার কিছু বানানো যেতে পারে। পাশের সহকর্মীর সঙ্গে সময় মিলিয়ে নিয়ে একদান কাটাকুটি, দাবা, লুডু, স্ক্র্যাবল, এমনকি রক, পেপার, সিজার্স খেলা যায়। পাঞ্জা লড়াই করলেই–বা ঠেকায় কে! কম্পিউটার বা মুঠোফোনেও প্রিয় কোনো গেম খেলা যায়, তবে এ ক্ষেত্রে সময়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে

বিজ্ঞাপন

ডেস্ক বা কাজের জায়গা সাজিয়ে–গুছিয়ে রাখা

কাজ করতে করতে ডেস্কের এককোণে ফুলদানিতে রাখা পছন্দের ফুলের রূপ আর সুবাস দুই-ই মন ভরাবে, দূর করবে ক্লান্তি। বেলি, কাঠগোলাপ বা বকুলের মালা কলমদানিতে জড়িয়ে রাখলে শুকিয়ে গেলেও সুগন্ধ ছড়াবে। আর অফিসে ডেস্কে বা কাজের জায়গার আশপাশে যে সবুজের ছোঁয়া থাকলে মন ভালো থাকে, তা অনেক গবেষণায় দেখা গেছে।

গান শুনলে কর্মদক্ষতা বাড়ে

পছন্দের গানগুলো একটা প্লে লিস্টে রেখে দেওয়া যায়। গান শুনলে যে স্ট্রেস কমে, সে কথা গবেষণার ফলাফলই বলে। আবার সংগীত বাড়াতে পারে কর্মদক্ষতা ও দূর করতে পারে পরিশ্রমজনিত শ্রান্তি। দ্রুতলয়ের মিউজিক বা জনপ্রিয় পপ গান কাজে গতি আনবে। আবার ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক বা প্রিয় রবীন্দ্রসংগীত মনকে করবে শান্ত, আনবে ফোকাস।

মেডিটেশনেই মুক্তি

মেডিটেশন কথাটি একেবারে চর্বিতচর্বণ হয়ে গেছে আজকাল। কিন্তু এটি আসলেই খুব গুরুত্বপূর্ণ। কাজের ফাঁকে সময় বের করে মেডিটেশন করলে নিজের আবেগের ওপরে নিয়ন্ত্রণ আসে, মানসিক শক্তি ও ক্ষমতা বাড়ে। আর এই কথাগুলো হার্ভার্ড গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। পাঁচ মিনিট সময় বের করে কোনো এক চুপচাপ জায়গা বের করে বা শব্দরোধী ইয়ারফোন কানে গুঁজে ডেস্কে বসেই অন্তত ব্রিদিং এক্সারসাইজ বা ছোট ছোট মেডিটেশন রুটিন অনুশীলন করা যায়।

সঠিক খাবার ও পানীয় গ্রহণ

সকালে নাশতা না করে বের হলে দুপুরে ঠিকমতো না খেলে বা বিকেলে শক্তি দেয়, এমন কোনো স্ন্যাকস গ্রহণ না করলে আর দিনের প্রয়োজনীয় পানি পান না করলে কর্মক্ষেত্রে ভালো থাকা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ফল, বাদাম, উপকারী বীজজাতীয় স্ন্যাকস, হোল গ্রেন বা ওটের ক্র্যাকার, লাল চালের চিড়া-মুড়ি ইত্যাদি মজুত রাখলে ভালো। বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসাই উচিত। আর লেবু-পানি, ডাবের পানি, প্রাকৃতিক কোনো নির্যাসে তৈরি চায়ের বাইরে অতিরিক্ত চা-কফি, কোমল পানীয় বা বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা জুস পান করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই মুড খুব বিগড়ে থাকলে পিৎজা বা মোমো অর্ডার করা যাবেই না, এমন কোনো কথা নেই।
গানের কথায় আছে, আসলে কেউ সুখী নয়। আবার এই একটুখানি সুখের জন্যই সব। কর্মক্ষেত্রে সুখী না হতে পারলে জীবনটা দুঃখেই কাটবে। তাই অন্তত চেষ্টা তো করা যেতেই পারে।

ছবি: পেকজেলসডটকম

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৩, ১০: ০০
বিজ্ঞাপন