কোন চা-পাতা কতক্ষণ গরম পানিতে রাখবেন
শেয়ার করুন
ফলো করুন

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও উপভোগ্য পানীয়গুলোর একটি হলো চা। চায়ের সুগন্ধ ও স্বাদে মজে আছে পুরো বিশ্ব। শরীরকে সতেজ ও চাঙা রাখতে চাপ্রেমীদের কাছে এর কোনো বিকল্প নেই। প্রাত্যহিক কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি কাটাতে কিংবা মুহূর্তেই গল্প বা আড্ডার আসর জমাতে চায়ের জুড়িমেলা ভার।

যদিও এই জনপ্রিয় পানীয়ের জন্ম চীনে, কিন্তু সারা বিশ্বের সব জায়গায়ই চা পান করেন সবাই। গত কয়েক শতাব্দীতে চায়ের পাতার ধরনে এসেছে বিভিন্ন পরিবর্তন। কিন্তু যত যা-ই হোক, এর আবেদন কিন্তু এতটুকুও কমেনি।

বিজ্ঞাপন

প্রতিটি উপাদানের সামঞ্জস্য চায়ের পুষ্টিগুণ ও স্বাদে ভারসাম্য আনে। এক কাপ সুস্বাদু চা তৈরির অনেক উপায় রয়েছে। তবে চা-পাতা কতক্ষণ ফোটানো হলো বা টি-ব্যাগটি চায়ের কাপে কতক্ষণ রেখে দিলেন এর ওপরও চায়ের স্বাদ অনেকাংশে নির্ভর করে এবং স্বাদের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।

আবার চা-পাতা লম্বা সময় ফোটানো হলে বেরিয়ে আসবে বাড়তি ক্যাফেইন ও ট্যানিন, যা চাকে তেতো করে তুলবে। সর্বোপরি এই চা তখন শরীরের জন্য উপকারী হবে, তবে তার স্বাদ হবে বিস্বাদ। অপর দিকে চা-পাতা খুব অল্প সময় ফোটালে বা পানিতে রাখলে চা হয়ে পড়ে পানসে এবং এতে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। চা-পাতা কতক্ষণ পানিতে ফোটাতে হবে, তার নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। তবে স্বাদ ও গুণগত মান বাড়ানোর জন্য কিছু কৌশল অবশ্যই রয়েছে।

প্রায় সব ধরনের চায়ের আলাদা মিউটেশন আর টেম্পাচেরার পয়েন্ট থাকে। এই সীমা বজায় রেখে বানালে সুস্বাদু ও পূর্ণাঙ্গ গুণাগুণসম্পন্ন চা পাওয়া যায়। প্রায় সব ধরনের চা-পাতাই সংগ্রহ করা হয়ে থাকে ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস নামের গাছ থেকে। তবু এর উৎপাদন কৌশলের ওপর ভিত্তি করে ব্যবহার বিধিতে ভিন্নতা দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

ব্ল্যাক টি

সহজভাবে বলতে গেলে, এটি দুধ ছাড়া কালো চা। ব্ল্যাক টিয়ের নানা গুণ রয়েছে। এতে রয়েছে ‘এল থ্যানাইন’ নামের অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা শরীরের ক্লান্তি দূর করে কাজে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে ব্ল্যাক টি পান করলে তা শরীরে স্ট্রেস হরমোন হ্রাস করে। এক কাপ দারুণ ব্ল্যাক টি বানাতে চাইলে চা-পাতা কখনোই ফুটন্ত গরম পানিতে মেশানো উচিত নয়। এর পরিবর্তে চুলার আঁচ নিভিয়ে এক মিনিট অপেক্ষা করুন, এরপর চা–পাতা যোগ করুন। তারপর ঢাকনা বন্ধ করে চার থেকে পাঁচ মিনিটের জন্য সেট হতে দিন। এটি চায়ের সুগন্ধ বাড়াতে সাহায্য করবে।

গ্রিন টি

বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক জনপ্রিয় চায়ের মধ্যে একটি হলো গ্রিন টি। ব্ল্যাক টি ও গ্রিন টিয়ের প্রস্তুত প্রণালি প্রায় একই রকম। গবেষণায় জানা যায়, অন্যান্য চায়ের মতো গ্রিন টি আমাদের শরীরে জারিত হয় না। তাই এই চা অন্য চায়ের তুলনায় স্বাস্থ্যকর এবং এতে ব্ল্যাক টিয়ের তুলনায় ক্যাফেইনের মাত্রাও কম থাকে।

মসলা টি

মাথা ধরা, সর্দি-কাশি বা বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকে শরীরকে সুস্থ রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে হারবাল চা। এতে ব্যবহৃত সব উপাদানই আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই চা তৈরিতে সাধারণত আদা, গোলমরিচ, দারুচিনি, এলাচি, লেবু, লবঙ্গ, পুদিনাপাতা ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই সব উপাদান পানিতে মিশিয়ে তার সঙ্গে চা-পাতা যোগ করে কিছু সময় ফুটিয়ে নিলেই তৈরি করা যায় মসলা চা। এই চা তৈরিতে অন্যান্য উপাদানের পুষ্টিগুণ বজায় রাখার জন্য অল্পসময় ধরে চা-পাতা ফোটানো বা ভিজিয়ে রাখা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন স্বাস্থ্যবিদেরা।

ওলং চা

ওলং চা সুগন্ধযুক্ত একটি ঐতিহ্যবাহী চাইনিজ চা। এটি ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস গাছের পাতা, কুঁড়ি ও ডালপালা থেকে তৈরি এক বিশেষ ধরনের চা। ওলং চায়ের বহু স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে। সুস্বাদু ওলং চা খুব গরম পানিতে তৈরি করা হয় না। এক কাপ পারফেক্ট ওলং চা পেতে পানি ফুটে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে এতে চা-পাতা যোগ করতে হবে এবং তারপর প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মিনিটের জন্য চা-পাতাসহ চায়ের মিশ্রণটি ঢেকে রাখতে হবে।

হোয়াইট টি

ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস গাছের কচি পাতা ও কুঁড়ি দিয়ে তৈরি করা হয় হোয়াইট টি বা সাদা চা। ১৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার গরম পানিতে এই চা-পাতা দিয়ে এক মিনিট ফুটিয়ে এই চা তৈরি করা হয়। তবে এই চা খুব বেশি প্রচলিত নয়।

ছবি: রোয়েনা মাহজাবীন

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৩, ১৩: ০০
বিজ্ঞাপন