
পাহাড়ের ও সমতলের আদিবাসীদের খাবার, জুমসহ জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফসল ও অন্য ঐতিহ্যবাহী পণ্য ছিল এই মেলায়। অনলাইন সংবাদমাধ্যম আইপিনিউজ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নাগরিক উদ্যোগ’-এর আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো রাজধানীতে উদ্যাপিত হলো এই মেলা। বিভিন্ন উপাদেয় খাবার, পাহাড়ি ও সমতলের পরিচিত-অপরিচিত শাকসবজি, ফলমূল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ নানা জাতের কৃষিপণ্যের সমাহার ছিল মেলায়। দুপুরের পর থেকে আসতে শুরু করে নানা বয়সী দর্শনার্থী। মেলায় উপস্থিত ছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় আর্টিস্ট ‘মাসু আঁকে’র মাসুদা খান। ঘুরে দেখেছেন পুরো আয়োজন ও স্বাদ নিয়েছেন নানা খাবারের।
মাসু জানান, দেশ-বিদেশে এ পর্যন্ত যত খাবার খেয়েছেন, তার মধ্য তাঁর সবচেয়ে পছন্দের খাবার হলো পাহাড়ি মুন্ডি। এখানে এসে তিনি মুন্ডি খেতে পেরে বেশ খুশি। তা ছাড়া শামুকও তাঁর বেশ ভালো লেগেছে।
কাঁকড়া, শামুক, লাকসু, মুন্ডি, ব্যাম্বু চিকেনের মতো জনপ্রিয় খাবারের পাশাপাশি ছিল ঐতিহ্যবাহী গোলপাতায় মোড়ানো পিঠা, নারকেলের পুর দেওয়া পিঠা, বিন্নি চালের পিঠাও। মেলার আরেকটি অংশজুড়ে ছিল বাহারি পদের শুঁটকির আয়োজন। মুরগি হরবো, গরুর গুদেয়ি, শুঁটকি হেবাং, সান্যে-পিদে, বালাচাওসহ বৈচিত্র্যপূর্ণ সব পাহাড়ি খাবারের পসরা নিয়ে বসেছিলেন বিক্রেতারা।
পাহাড়ি সবজি কিনতে উৎসুক মানুষের ভিড় দেখে অনেকটা ছোটখাটো পাহাড়ি বাজার মনে হচ্ছিল মেলা প্রাঙ্গনকে। এখানে আরও ছিল মাটির চুলা। আর তাতে ভাজা হচ্ছিল বিন্নি চালের পিঠা। গরম–গরম পরিবেশন করা হচ্ছিল এই মজাদার পিঠাগুলো।
চিংগস নামের একটি স্টলের বিক্রেতা জানান, তাঁরা এই আয়োজনে নিজের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার সুযোগ পান।
দর্শনার্থীরাও এসে খুব উপভোগ করেন এ আয়োজন।বিকেলের পর দর্শনার্থীদের ভিড়, খাবারের সৌরভ ও ছেলেমেয়েদের নাচগানে জমে ওঠে মেলা।
মেলায় ঘুরতে আসা তাসনিম জাহান জানান, ‘বাংলাদেশে আমরা যারা বসবাস করি, তারা শুধু মূলধারার খাবারের স্বাদই বেশি গ্রহণ করি। এখানে এসে আমরা বাহারি খাবারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছি।’