
এই সময় শুষ্ক থেকে তৈলাক্ত, সব ধরনের ত্বকে সমানভাবে আর্দ্রতা দরকার। কারণ, পানিশূন্যতায় ত্বক আর্দ্রতা হারায়। এর ফলে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। আর্দ্রতার অভাবে ত্বক হয়ে ওঠে মলিন ও নিষ্প্রাণ। বয়সের ছাপ, বলিরেখা পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সুস্থ সতেজ এবং স্নিগ্ধ ত্বকের জন্য বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। আর এই যত্ন নিতে ঘরে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি করা যায় হাইড্রেটিং মাস্ক।

পেঁপে সব ধরনের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এটি একটি প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর, যা খুব কোমলভাবে ত্বকের মৃতকোষ সরাতে পারে। সেই সঙ্গে পেঁপেতে আছে অনেক অ্যান্টি-এজিং উপাদান। এটি ত্বককে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেল থেকে রক্ষা করে। আর পেঁপের পটাশিয়াম ত্বকের আর্দ্রতা প্রদান করে।নরম পাকা পেঁপে ব্লেন্ডারের সাহায্যে পেস্ট তৈরি করতে হবে। মুখে পেস্টটি লাগিয়ে এর ওপর পাতলা সুতি বা মার্কিন কাপড় বিছিয়ে রাখতে হবে। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখার পর ধুয়ে ফেলতে হবে। ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হলে এর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মেশানো যেতে পারে।
অসংখ্য পুষ্টি উপাদান এবং অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে ভরপুর অ্যালোভেরা ত্বকের বয়সের ছাপের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং রোদে পোড়াভাব খুব সহজেই সারিয়ে তুলতে পারে। মধু ত্বকের দাগ ছোপ দূর করে থাকে। যখন এই দুটি উপাদান একসঙ্গে কাজ করবে তখন ত্বক নিমিষেই হয়ে উঠবে সতেজ এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ অ্যালোভেরার সঙ্গে এক টেবিল চামচ মধু মিশালেই চলবে। মাস্কটি মুখে লাগিয়ে রাখতে হবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
ওটস ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নিতে পারে এবং এর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট আর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান শুষ্কতা দূর করতে বিশেষ সহায়ক। এটি একই সঙ্গে প্রাকৃতিক ক্লিনজার এবং এক্সফোলিয়েটর। আর শসা ত্বকের সব জ্বালাপোড়া দূর করে একে শীতল অনুভূতি দেয় এবং আর্দ্র করে।

তিন টেবিল চামচ ওটসের গুঁড়া বা ময়দার সঙ্গে এক টেবিল চামচ শসার রস এবং এক টেবিল চামচ টকদই মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করতে হবে। এটি লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। যাঁদের ত্বকে অল্প বয়সের রিংকেল বা হালকা বলিরেখা দেখা দিয়েছে, মাস্কটি তাঁদের জন্য বিশেষ উপকারী।ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এই মাস্কগুলো ব্যবহারে পাশাপাশি ত্বকে সব সময় পানিভিত্তিক জেল ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে এবং অবশ্যই প্রচুর পানি পান করতে হবে।