চুল পড়া ও গজানো নিয়ে যে ৭টি ভ্রান্ত ধারণা আজও সবাই বিশ্বাস করে
শেয়ার করুন
ফলো করুন

ভারতীয় প্লাস্টিক ও অ্যাসথেটিকস সার্জন ডা. আনমোল চুঘ এক সাক্ষাৎকারে জানান, চুল পড়া নিয়ে যে সব প্রচলিত ধারণা আছে, তার বেশিরভাগই ভুল।

১. তেলই চুল পড়া রোধের ওষুধ

ডা. চুঘ বলছেন, চুলে তেল দিলে উজ্জ্বলতা ও স্ক্যাল্পের আর্দ্রতা বজায় থাকে বটে, তবে হরমোন বা জেনেটিক কারণে হওয়া চুল পড়া রোধ করতে পারে না। এবং নতুন চুল গজাতে কোন ধরনের ভূমিকাও পালন করে না। থাইরয়েডের অসুস্থতা, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) কিংবা জেনেটিক কারণেই মূলত চুল পড়ে।

হরমোন ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস পরীক্ষা করিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করা জরুরি
হরমোন ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস পরীক্ষা করিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করা জরুরি

২. শ্যাম্পুই সব দোষের মূল

অনেকেই মনে করেন শ্যাম্পুই চুলের সবচেয়ে বড় শত্রু। কিন্তু বিশেষজ্ঞের মতে, কোনো শ্যাম্পুই স্থায়ীভাবে চুল পড়ার কারণ নয়। তবে অতিরিক্ত সালফেট বা কেমিক্যালে চুল শুষ্ক হয়ে উঠে। কিন্তু চুল পড়ার আসল কারণ হচ্ছে মানসিক চাপ, অপুষ্টি কিংবা হরমোনের সমস্যা।

৩. মহিলাদের টাক পড়ে না

এটি সম্পূর্ণ ভুল। সন্তান জন্মের পর বা মেনোপজের সময়ে মহিলাদের মধ্যেও চুল পাতলা হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। হরমোন ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস পরীক্ষা করিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

৪. হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টে চুল কৃত্রিম লাগে

পুরোনো দিনের মতো আর নয়। আধুনিক প্রযুক্তির ফলিকুলার ইউনিট এক্সট্র্যাকশন (FUE) বা রোবোটিক ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে এখন স্বাভাবিক ও মানানসই চুলের লাইন তৈরি করা সম্ভব। এমনকি এআই ব্যবহারে চুলের ডিজাইনও ব্যক্তিগত চেহারার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া হয়।

তেল চুল পড়া রোধ করতে পারে না
তেল চুল পড়া রোধ করতে পারে না

৫. সাপ্লিমেন্টই ম্যাজিক পিল

ভিটামিন ডি, আয়রন বা বায়োটিনের ঘাটতি চুল পড়ার গতি বাড়ায় ঠিকই, কিন্তু শুধুমাত্র সাপ্লিমেন্ট খেলেই সমস্যা মিটবে না। প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা, পিআরপি (Platelet-Rich Plasma), লো-লেভেল লেজার থেরাপি, জীবনধারায় পরিবর্তন কিংবা প্রয়োজনে সার্জারি।

৬. স্ট্রেসে পড়া চুল আর গজায় না

মানসিক চাপের কারণে অতিমাত্রায় চুল পড়ে না। বড় ধরনের স্ট্রেস, অপারেশন, ট্রমা বা কেমোথেরাপির পর যদি বেশি পরিমাণে চুল পড়ে, তবে পর্যাপ্ত যত্নে তা আবার গজাতেও পারে। অর্থাৎ পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার ও মানসিক স্বস্তি ফিরে পেলে চুল আবার গজায়।

মানসিক চাপের কারণে অতিমাত্রায় চুল পড়ে না
মানসিক চাপের কারণে অতিমাত্রায় চুল পড়ে না

৭. চুল শেভ করলে ঘন হয়

শেভ করার পর চুলের ডগা সমান হয়ে যায় বলে তা মোটা ও ঘন মনে হয়। কিন্তু আসলে চুলের ঘনত্ব বা গুণাগুণের কোনো পরিবর্তন হয় না।

চুল পড়ে রোধের জন্য মূলত দরকার সঠিক ডায়াগনোসিস, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক প্রশান্তি এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। তেল, শ্যাম্পু বা সাপ্লিমেন্ট কোনোটিই একা সমস্যা মেটাতে পারবে না। সময়মতো চিকিৎসা নিলে এই সাধারণ সমস্যার জটিলতা কমানো সম্ভব।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ছবি: এআই

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০: ০৪
বিজ্ঞাপন