
অনেক সময় নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে কাজ করেও ঠিক বোঝা যায় না আপনি কর্মক্ষেত্রে কেমন করছেন। সামান্য প্রশংসা আর মৌখিকভাবে স্বীকৃতি দিতে ভয়াবহ কার্পণ্য দেখা যায় অনেক প্রতিষ্ঠানেই। এর ফলে কর্মীদের মধ্যে একধরনের হতাশা আর দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা যায়। আপনি যা করছেন তা ঠিক হচ্ছে কি না বা আপনার কাজ ভালো হয়েছে কি না, এমন কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না পাওয়ার কারণে সঠিক দিকনির্দেশনা মেলে না আসলে। আর তার প্রভাব একসময় ব্যক্তিগত ও দলীয় পারফরম্যান্সকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই সব সময় কারও মৌখিক স্বীকৃতির ওপরে নির্ভর করা যাবে না। বরং বুদ্ধি খাটিয়ে ও পর্যবেক্ষণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কিছু বিষয় লক্ষ করলেই বুঝতে পারবেন, আপনি আসলে কর্মক্ষেত্রে ভালো করছেন।

১. আপনার কাজের ফিডব্যাক পাচ্ছেন
শুধু ফাঁকা প্রশংসায় কী–বা এসে যায়! দেখুন আপনার বস আপনার কাজগুলো কীভাবে করলে আরও ভালো হতে পারত, এমন কিছু বলেন কি না। তিনি যখন দেখবেন আপনার মধ্যে ভালো করার সম্ভাবনা আছে, তখন তিনি আপনার ভুল সংশোধন করবেন বা গঠনমূলক সমালোচনা করবেন।
২. আপনাকে সবাই সবকিছু জিজ্ঞেস করে
আপনার সহকর্মীরা কি কোনো প্রশ্ন থাকলে বা কাজের ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধায় পড়লে আপনার কাছে আসে? আপনার মতামত বা সাহায্য যদি ছোট–বড় সবাই নেয় তবে তা নিঃসন্দেহে এক সুলক্ষণ। এতে বোঝা যায়, আপনার প্রতি তাদের সবার আস্থা আছে। আর এই আস্থা আপনার কর্মদক্ষতা আর দলগতভাবে কাজ করা অর্থাৎ টিম ওয়ার্ক করার ক্ষমতার পরিচায়ক।

৩. আপনার মতামত জানতে চাওয়া হয়
সবাই প্রশ্ন বা সমস্যা নিয়ে আপনার শরণাপন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি আপনার মতামত গুরুত্বসহকারে নেওয়া হয় সব বিষয়ে, তার মানে আপনি ঠিক পথেই হাঁটছেন। বিশেষত কোনো স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগত পরিকল্পনা, আর্থিক খরচের খাত বা অন্য কর্মী নিয়োগ ও পদোন্নতির ব্যাপারে আপনার পরামর্শ প্রায়ই নেওয়া হলে, সেটি আপনার যোগ্যতার মাপকাঠি ধরতে হবে।
৪. আপনার ওপরেই আপনার বস সবচেয়ে বেশি নির্ভর করেন
প্রতি সপ্তাহেই যদি আপনার বসের হয়ে কিছু করতে বলেন তিনি, তবে আপনার নিজেকে বাহবা দেওয়া উচিত মনে মনে। এর অর্থ হচ্ছে, আপনার ওপর নির্ভর করা যায়। আপনাকে হয়তো এ জন্য কিছু বাড়তি দায়িত্ব নিতে হয়। কিন্তু আখেরে তা কর্মক্ষেত্রে আপনার অবস্থানই শক্ত করবে।

৫. আপনি স্বাধীনভাবে কাজ করেন
কাজের ক্ষেত্রে অনেক সময় সবচেয়ে আরাধ্য একটি বিষয় এটি। আজ্ঞাবহ কর্মী হয়ে একঘেয়ে কর্মজীবনে নিশ্চিন্ত থাকা গেলেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার উদ্দীপনা মেলে না। তাই আপনি যখন দেখবেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে আপনাকে কেউ বাধা দিচ্ছে না, তখন বুঝবেন আপনার কাজটি হয়তো আপনি ভালোই বোঝেন।
তথ্যসূত্র: ফোর্বস
ছবি: পেকজেলস ডট কম