
মানুষ আসলে কীসে আটকায়? কীসের বন্ধনে বাঁধা পড়লে কারও সঙ্গে কাটিয়ে দেওয়া যায় বছরের পর বছর? ট্রুডো-সোফির সংসার ভাঙার পর থেকে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে জোর আলোচনা। এদিকে নাস ডেইলি খ্যাত নুসায়ের ইয়াসিন হোক, আর সম্প্রতি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন—কেন চারদিকে শুধু ভাঙনের সুর? আর মনোবিদেরা এর কারণস্বরূপ মূলত দায়ী করছেন আমাদের অস্থির যাপনরীতি ও ব্যস্ততাকে৷

বর্তমান যুগে যে জিনিসটি আমাদের জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে, তা হলো অতিরিক্ত ব্যস্ততা। এই ব্যস্ততার কারণে দাম্পত্য জীবনেও প্রতিনিয়ত বেড়ে উঠছে দূরত্ব। আর এই দূরত্বের সীমা বাড়তে থাকলে, তা কাটিয়ে ওঠা বেশ কঠিন। তবে আমরা চাইলেই কিন্তু প্রতিদিন ছোট ছোট কিছু মুহূর্ত একসঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি, যার জন্য আমাদের অতিরিক্ত কোনো কিছুই করতে হবে না এবং সম্পর্কও থাকবে সুন্দর। চলুন জেনে নেওয়া যাক, প্রতিদিনের জীবনে যে ছয়টি কাজ নিয়মিত করলে দাম্পত্য জীবনের বন্ধন হবে মজবুত।
প্রাত্যহিক জীবনের ব্যস্ততার কারণে আমরা প্রায়ই যে যার ইচ্ছা এবং সুযোগমতো খাবার খেয়ে নিই। কিন্তু এটি মোটেও ঠিক নয়। চেষ্টা করুন খাওয়ার সময় সঙ্গীকে নিয়েই খাবার খেতে। যদি সব সময় এটি সম্ভব না হয়, দিনে কমপক্ষে একবার একসঙ্গে খাবার খান। এটি শুধু দূরত্বই ঘোচাবে না, বরং একে অপরকে একধরনের মানসিক শান্তিও দেবে। সেই সঙ্গে সারা দিনের ব্যস্ততার মধ্যে এটি আপনাদের জন্য একটি থেরাপির মতো কাজ করবে।

একসঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ব্যায়াম হলো সবচেয়ে সুন্দর উপায়গুলোর একটি। তাই ব্যায়াম করার সময় একসঙ্গেই ব্যায়াম করুন। একে অপরকে ব্যায়ামের সময় সাহায্য করুন। সকালে একসঙ্গে হাঁটতেও বের হতে পারেন। মার্কিন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডগ পোলস্টারের মতে, ব্যায়াম হলো মানসিক চাপ হ্রাস করার একটি দুর্দান্ত উপায় এবং একসঙ্গে ব্যায়াম করলে মানসিক সংযোগ স্থাপনেও তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
একই সঙ্গে ঘুমাতে যাওয়া একটি সম্পর্কের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যদিও কাজটি বেশ কঠিন। কারণ, সবার ঘুমানোর সময় এক হয় না। এমন হতে পারে, আপনি রাত জেগে বই পড়তে ভালোবাসেন কিংবা সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন। অন্যদিকে আপনার সঙ্গী তাড়াতাড়ি ঘুমাতে পছন্দ করেন। তবে একটু চেষ্টা করলে এটিও আয়ত্তে আনা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া দাম্পত্য জীবনে আন্তরিকতা ও ভালোবাসা বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিদিন কয়েক মিনিটের জন্য হলেও একে অপরকে জড়িয়ে ধরে রাখুন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আলিঙ্গনের সময় ত্বক অক্সিটোসিন নিঃসরণ করে, যা দাম্পত্য বন্ধন দৃঢ় করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া আলিঙ্গন স্নেহময় অন্তরঙ্গতাকেও বাড়িয়ে তোলে।
বছরের পর বছর একই জায়গায় একইভাবে বাস করতে করতে জীবনকে একসময় একঘেয়ে ও ফ্যাকাশে মনে হতে শুরু করে। আর এমন অনুভব আমাদের সম্পর্কগুলোও দুর্বল করে তোলে। তাই মাঝেমধ্যে চেষ্টা করুন সঙ্গীকে নিয়ে দূরে কোথাও ঘুরে আসতে। এই ছোট পদক্ষেপটি আপনাদের জীবনে এনে দেবে নতুনত্ব। সেই সঙ্গে জীবনের পাতায় সুন্দর কিছু মুহূর্ত যোগ হবে। এটি আপনাদের বন্ধনকে আরও সুন্দর ও দৃঢ় করতে সাহায্য করবে।
ব্যস্ততার কারণে বেশির ভাগ দম্পতিই ছোট ছোট জিনিস উদ্যাপন করতে ভুলে যান। কিংবা এই বিষয়গুলো খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। কিন্তু এটি মোটেও ঠিক নয়। ছোট ছোট জিনিসগুলো একসঙ্গে উদ্যাপন করা অনেক জরুরি। বিবাহবার্ষিকী, জন্মদিন ছাড়া অন্য দিনগুলোও উদ্যাপন করুন। যেমন আপনাদের প্রথম দেখা, বাগ্দানের তারিখ ইত্যাদি মনে রাখুন এবং সঙ্গীর সঙ্গে উদ্যাপন করুন। তারিখ মনে না থাকলে ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রাখুন। চাইলে মুঠোফোনে রিমাইন্ডার দিয়েও রাখতে পারেন। এ ছাড়া আপনার সঙ্গীজীবনে নতুন কিছু করলে, সাফল্য পেলে সেগুলোও উদ্যাপন করুন।

এই পদক্ষেপগুলোর কোনোটিরই কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। আসলে দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে চাইলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একে অপরকে বোঝা। একে অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং কথা বলার সুযোগ দেওয়া। তাই সবকিছুর পাশাপাশি একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করুন।
মডেল : স্বচ্ছ ও সুস্মিতা
ছবি : পূর্ন দাশ