
অনেক সময় দেখা যায়, দিনের বেশির ভাগ সময়ই একটা মানুষ শুধু বসে বা শুয়ে থাকেন। কোনো ধরনের ব্যায়ামের বালাই তো নেই, শারীরিকভাবে নড়াচড়াও খুব কম হয়। এটি এমন একটি লাইফস্টাইল, যেখানে একজন ব্যক্তি দৈনন্দিন জীবনে পর্যাপ্ত পরিমাণে শারীরিক কার্যকলাপ করেন না। এমন নিষ্ক্রিয় জীবনধারার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, টেলিভিশন দেখা, কম্পিউটারে বা মুঠোফোনে একটানা ভিডিও গেম খেলা ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, লম্বা সময় বসে বা শুয়ে থাকতে থাকতে রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

নিষ্ক্রিয় জীবনধারায় বিপদ
শুয়ে ও বসে থাকা অবসন্ন জীবনযাত্রায় ফুসফুসের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। এ ছাড়া কার্ডিওভাসকুলার রোগ, ডায়াবেটিস, স্লিপ অ্যাপনিয়া সিনড্রোম, করোনারি ধমনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ এমনকি ক্যানসারের মতো একাধিক রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।

এই নিষ্ক্রিয় লাইফস্টাইল শুধু ঝুঁকিই বাড়ায় না, বরং সক্রিয় জীবনধারার সঙ্গে তুলনা করলে বেঁচে থাকার হারকেও বিরূপভাবে প্রভাবিত করে। গবেষণায় বলে, কোন মানুষ যথেষ্ট শারীরিক পরিশ্রম করলেও দিনে ৭ থেকে ১০ ঘণ্টার বেশি বসে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ।
যেভাবে সক্রিয় থাকতে হবে
* সক্রিয় থাকার জন্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ব্যায়ামের মাধ্যমে দিন শুরু করতে হবে। হতে পারে এটা অ্যারোবিক ব্যায়াম যেমন দ্রুত হাঁটা, দৌঁড়ানো, সাইকেল চালানো বা সাঁতার কাটা। দৈনিক ক্রিয়াকলাপের একটি সময়সূচি ঠিক করে চলাও ভীষণ জরুরি।

* নিজেকে সক্রিয় করতে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারেন। পার্কে হাঁটার একটা অভ্যাসও করতে পারেন। হাঁটা বেশ কিছু স্বাস্থ্য সুবিধার সঙ্গে যুক্ত যেমন হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমানো, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করা, চাপ ও রক্তচাপের মাত্রা কমানো। এভাবে ছোট ছোট অভ্যাস গড়ে তুললে জীবনে সক্রিয়তা আরও বাড়বে।

* টানা এক ঘণ্টার বেশি ডেস্কে বসে থাকা এড়িয়ে চলতে হবে, সেটা বাড়ি বা অফিস যেখানেই হোক। কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে উঠে, হাঁটতে পারলে ভালো। এতে পেশি শক্ত হয়ে যাবে না। এ ছাড়া অফিসে কাজের সময় দুই মিনিটের বিরতি নিয়ে বিভিন্ন ব্যায়াম করা যেতে পারে। এতে নিজেকে অল্প সময়েই চনমনে করা যাবে। এই ভাব অনেকক্ষণ পর্যন্ত স্থায়ীও থাকে।

* অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষ করে চিনিযুক্ত খাবার ও মিষ্টি পানীয়। অবশ্যই ডায়েটে স্বাস্থ্যকর শাকসবজি ও মৌসুমি ফল যোগ করতে হবে। সেই সঙ্গে অ্যালকোহল ও ধূমপান এড়িয়ে চলা উচিত।

* যাপনে ধ্যান ও ব্যায়াম যোগ করতে হবে। তবে খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যায়াম নয়, বরং এক থেকে দুই ঘণ্টা পর করতে হবে।
ছবি: হাল ফ্যাশন ও পেকজেলসডটকম
