
ফেসবুকের এত এত গয়নার পেজের মধ্যে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা অনলাইন ফ্যাশন উদ্যোগ ‘দয়ীতা’-এর নেকপিসগুলো সত্যিই চোখে পড়ার মতো। আর আরও একটি জিনিস চোখে পড়ে এই পুঁতির গাঁথুনিতে বোনা গয়নাগুলোয়। তা হলো অন্যান্য ডিজাইনের মধ্যে প্রজাপতির ডানার থিমের প্রাধান্য।

এ নিয়ে দয়ীতার উদ্যোক্তা আর স্বহস্তে এই নিখুঁত চিত্রকর্মের মতো নেকপিসগুলোকে যিনি বানান, সেই সাইদা সুলতানার কাছে জানতে চাওয়া হলো হালফ্যাশনের পক্ষ থেকে। উদ্যোক্তা ও ক্রেতামহলে সবার কাছে মিলি নামে সুপরিচিত তিনি। তিনি বললেন, প্রজাপতির ডানার নানা রঙের অপরূপ কারুকাজ খুব টানে তাঁকে। তাই এই থিম নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগে।


ছোটবেলা থেকেই ক্র্যাফটিংয়ের প্রতি খুব ঝোঁক ছিল সাইদার। শখের বশে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নানা আয়োজনে নিজের বানানো শিল্পকর্ম বিক্রি করেছেন সেই ১৯৯৪ সাল থেকে। পরিবারের সদস্য আর বন্ধুদের অনুপ্রেরণায় বিয়ের ১৩ বছর পর, ২০১৭ সালে কন্যার নামে নিজের উদ্যোগ ‘দয়ীতা’ ফেসবুক পেজের প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত কাজ শুরু করেন।
শুরুতে দয়ীতার মূল পণ্য ছিল হাতে আঁকা, নিজস্ব নকশার টিপ। আর এখন নজরকাড়া সব পুঁতি বা বিডসের নেকপিস দয়ীতার সিগনেচার পণ্য। দয়ীতার সব টিপ ও গয়নার নকশা শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে কপিরাইট করা। জাতীয় প্রশিক্ষক আছেন সাইদা এসএমই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে। রাজধানীর পান্থপথ ও শান্তিনগরে নিজস্ব ট্রেনিং ইনস্টিটিউট আছে তাঁর। পেয়েছেন নানা স্বীকৃতি ও পুরস্কার।

দয়ীতার নেকপিসগুলো বানাতে অনেক সময় লাগে। সম্পূর্ণ হাতে বানানো এই গয়নাগুলো ডিজাইনের ব্যাপ্তি ও কাজের ঘনত্বভেদে ছয় ঘণ্টা থেকে শুরু করে এক সপ্তাহ লেগে যায় বানাতে।
সুই-সুতা দিয়েই অত্যন্ত ধৈর্যসহকারে এই গয়না বানানো হয়। সাইদা সুলতানা বললেন, ‘উদ্যোক্তা হতে হলে কাজের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। কঠোর পরিশ্রম অত্যাবশ্যকীয় বলে মনে করেন তিনি এ ক্ষেত্রে।

ধৈর্য, শক্তি, সাহস, বিশ্বাস আর সততা দিয়ে স্বপ্নপূরণ করা সম্ভব বলে বিশ্বাস তাঁর। দয়ীতার স্বপ্নডানা মেলে এভাবেই এগিয়ে চলছেন তিনি।
ছবি: দয়ীতা