
আজ দেশের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী রুনা লায়লার জন্মদিন। ১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর তিনি জন্ম নেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে জুগনু সিনেমার জন্য সেসময়ের পশ্চিম পাকিস্তানে তাঁর গানের জগতে অভিষেক হয় ১৯৬৪ সালে। এরপর পাকিস্তান আর ভারত কাঁপিয়েছেন সিনেমার প্লে ব্যাক আর স্টেজ পারফরম্যান্সের সঙ্গে সঙ্গে গানের রেকর্ড বের করে। আর স্টেজে বা রেকর্ডের কভারে রুনার স্টাইল নজর কাড়ছে সেই প্রথম থেকেই। এই তো গত বছরই ভারতের তারকা ডিজাইনার সব্যসাচী মুখার্জি ছোটবেলায় দেখা দূরদর্শন টিভি চ্যানেলে উপমহাদেশের সর্বকালের অন্যতম সর্বসেরা স্টাইলিশ গায়িকা রুনা লায়লার স্টাইলের অনুপ্রেরণা থেকে নিজের চান্দবালি কালেকশন তৈরি করার কথা বলেছিলেন।


রুনা লায়লা শুধু আমাদের বাংলাদেশে নয়, পুরো উপমহাদেশেই সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে অত্যন্ত সমাদৃত। তবে এমন সব ঘটনা বলে,রুনা লায়লার নিজস্ব আইকনিক স্টাইলও কিন্তু তাঁর সঙ্গীত প্রতিভার চেয়ে কোনও অংশে কম নয়।
আসলেই ষাটের দশকে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে সংগীতশিল্পী জীবন শুরু করা থেকে এখন অবধি রুনা লায়লার স্টাইল স্টেটমেন্ট কেউ ছুঁতে পারেনি।


এরপর আজ ১৭ নভেম্বর তাঁর জন্মদিনে রুনা লায়লা বিশাল চমক দিলেন কোক স্টুডিও বাংলার আয়োজনে আইকনিক মাস্ত কালান্দার গানের পরিবেশনায়। এই গানটি তো রুনা নিজের করে নিয়েছেন বহু বছর আগে। কিন্তু সত্তর পেরোনো এই ডিভার পুরো লুক আর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ যেন সম্মোহিত করে ফেলেছে সবাইকে।

বছর দুয়েক আগে দেশের সুপরিচিত গয়নার উদ্যোগ সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি সবসময়ের মতো এক ব্যাতিক্রমী কালেকশন নিয়ে আসে। কিন্তু এখানে ছিল এক বিশাল চমক।
পুরো কালেকশনটিই ছিল আমাদের দেশের এই কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী আর স্টাইল আইকন রুনা লায়লার সাজপোশাকের অনুপ্রেরণায় সাজানো।
সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরির স্বত্বাধিকারী ও প্রধান ডিজাইনার জেরিন তাসনিম খান নিজে রুনা লায়লার আবেগী ভক্ত। তাই তো তিনি তাঁর ডিজাইন করা গয়নায় রুনা লায়লাকে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছেন।


আর এই প্রক্রিয়ায় তাঁরা পুরো আইকনিক লুকগুলোকে অসাধারণ দক্ষতায় রিক্রিয়েট করেছেন। চুল,গয়না,মেক আপ আর পোশাকের প্রতিটি ডিটেলের প্রতি নজর দেওয়া হয়েছে।
স্লিভলেস ব্লাউজ, ঝিকমিকে চুমকি বা সিকুইনের কাজ করা শিফন ও জর্জেটের শাড়িতে আইকনিক ডিভা হিসেবে আমাদের মনে গেঁথে গেছেন। বব কাট বা সামনে পাফ করা চুলের স্টাইল, গ্লসি রঙিন ঠোঁট আর গ্ল্যামারাস মেকআপে তিনি নজর কেড়েছেন ষাট ও সত্তরের দশকে উপমহাদেশের সকল শ্রেণির দর্শক-শ্রোতাদের।


কখনওবা আশির দশকে পরেছেন ট্রেন্ডি সালোয়ার কামিজ। আর তাঁর পরিবেশনার স্টাইলে সাজপোশাকের আকর্ষণ বেড়েছে অনেক গুণ।
ফ্যাশন তো বহমান সময়ের সঙ্গে। কিন্তু রুনা লায়লার স্টাইল তাঁর নিজস্ব। আর তা একেবারে ছোট বয়স থেকেই।


মেকআপে বেশ নিরীক্ষার ছাপ রেখেছেন তিনি সবসময়। ফ্ল্যাশি আই শ্যাডো, নানা শেপের ভ্রু; কোনো কিছু ট্রাই করতে যেন সংকোচ নেই এই ডিভার।
মেকআপ সবসময় রুনার লুকের এক বড় অংশ। আজকের গানে চোখের পাতায় গ্লিটার আর উজ্জ্বল সবুজের ব্যবহার, গ্লসি লিপস আর গ্ল্যাম মেকওভার বলছে রুনা লায়লার আবেদন চিরন্তন। রূপালি কারুকাজের কালো শিয়ার শাড়ির সঙ্গে খোলা চুলে বেড়েছে গ্রেস।


হেয়ারস্টাইলেও বৈচিত্র্য এনেছেন রুনা লায়লা বিভিন্ন সময়ে। বব থেকে শুরু করে পাফড সফট কার্লস বা ব্লো ড্রাই করে ছেড়ে রাখা আর সামনে ব্যাংস রেখে হাফ পনিটেইলও দেখা যায় রুনা লায়লার লুকে।
পরবর্তীতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর স্টাইলিশ ইমেজে কোনো ভাটা পড়েনি। উল্লেখ্য, রুনা লায়লার সাজপোশাকে গয়না এক অপরিহার্য অনুষংগ৷


আংটি, দুল, নেকলেস আর চুড়ি-বালায় তিনি সবসময় জাঁকজমকপূর্ণ লুকেই এসেছেন সকলের সামনে৷ তাঁর বিখ্যাত গানের কথায় আছে,' শিল্পী হয়ে তোমাদেরই মাঝে চিরদিন আমি রব। আসলেই রুনা লায়লার মতোস্টাইল আইকন 'শিল্পী' একবারই আসেন যুগে যুগে।
ছবি: সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি, প্রথম আলো, রুনা লায়লার ইন্সটাগ্রাম ও ফেসবুক, কোক স্টুডিও বাংলার মাস্ত কালান্দার গানের ভিডিওর স্ক্রিনশট