মেঘ-বৃষ্টির ঈদের ছুটিতে মন ছুটে যায় এই ৫ ভ্রমণ-তীর্থে, পাহাড়-মেঘ-জলের খোঁজে
শেয়ার করুন
ফলো করুন

সারা বছরের ব্যস্ততা, যানজট আর নিরন্তর কাজের চাপে শহুরে জীবন অনেক সময় হয়ে ওঠে ক্লান্তিকর। তাই ঈদের ছুটি মানেই একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস, পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও হারিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা। আসলে আবহাওয়া যেমনই থাক, ঈদের লম্বা ছুটিতে ভ্রমণবিলাসীদেরকে ধরে রাখা যায় না। এমন বৃষ্টিতেও তাই মন ছুটে যায় এই ৫ ভ্রমণ-তীর্থে পাহাড়-মেঘ-জলের খোঁজে।

এবারের ঈদে যারা শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে চান, তাদের জন্য জল, মেঘ আর পাহাড়ে ঘেরা কিছু দারুণ গন্তব্যের খবর থাকলো হাল ফ্যাশনে। এবারের ঈদের ছুটিতে ভ্রমণে গেলে কখনো ঝুম বৃষ্টি, আবার কখনো ভ্যাপসা গরম দুটোরই দেখা মিলবে। তবে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এই আবহাওয়াই যেন সবচেয়ে রোমান্টিক।

বিজ্ঞাপন

সাজেক: মেঘের রাজ্যে অবসর

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পাহাড়ি গন্তব্যগুলোর একটি সাজেক ভ্যালি। বর্ষার শুরুতে সাজেক যেন আরও বেশি মোহনীয় হয়ে ওঠে। পাহাড়ের গায়ে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘ, ভোরের সূর্যোদয় আর সবুজের বিস্তার কয়েক দিনের জন্য ভুলিয়ে দিতে পারে শহুরে ক্লান্তি। কংলাক পাহাড়ে দাঁড়িয়ে মেঘ ছোঁয়ার অনুভূতি কিংবা সন্ধ্যার পূবালী বাতাসে এক কাপ চা ঈদের ছুটির জন্য একেবারে উপযুক্ত।

সাজেকের অনেক রিসোর্ট থেকেই মেঘ দেখা যায়
সাজেকের অনেক রিসোর্ট থেকেই মেঘ দেখা যায়
ছবি: মেঘছুই রিসোর্ট

এক্ষেত্রে দারুণ দুটি রিসোর্ট থাকতে পারে আপনার পছন্দের তালিকায়— মেঘাদ্রি ইকো রিসোর্ট এবং মেঘছুই ক্লাউড ভ্যালি। সাজেকের অনেক রিসোর্ট থেকেই মেঘ দেখা যায়, তবে দারুণ সব ছবি আর নান্দনিক আবহের জন্য এই জায়গাগুলো বেশ জনপ্রিয়।

বিজ্ঞাপন

তরী ময়ূরাক্ষী চড়ে নীলাদ্রি লেক

সুনামগঞ্জের নীলাদ্রি লেক এখন ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য। নীলাভ পানির এই লেকের একপাশে বাংলাদেশের সবুজ, অন্যপাশে দূরের মেঘালয়ের পাহাড়। বর্ষাকালে জায়গাটি যেন রূপকথার মতো লাগে। দিনভর নৌকাভ্রমণ, জলের ধারে বসে আড্ডা আর কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি, নদীর ঢেউয়ের গুঞ্জন যারা শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এটি হতে পারে আদর্শ জায়গা।

সুনামগঞ্জের নীলাদ্রি লেক এখন ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য
সুনামগঞ্জের নীলাদ্রি লেক এখন ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য
ছবি: তরী ময়ূরাক্ষী
তরী ময়ূরাক্ষী। তাঁদের বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট চারটি বোট আছে
তরী ময়ূরাক্ষী। তাঁদের বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট চারটি বোট আছে
ছবি: তরী ময়ূরাক্ষী

সেক্ষেত্রে হাল ফ্যাশনের রেকমেন্ডেশনে আছে তরী ময়ূরাক্ষী। তাঁদের বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট চারটি বোট আছে। নামগুলোও দারুণ ইউর হারমোনিক বোট, এক বাইনারী ফিউশন, চিলেকোঠার সেপাই ও দ্যা ইভিনিং অন ওয়াটার ইন স্টাইল । নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ এর উপন্যাসের আবহ থেকে অনুপ্রাণিত এই ভ্রমণ আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্যরকম নস্টালজিক জগতে।

বান্দরবান: পাহাড়ি নীরবতার টান

অ্যাডভেঞ্চার আর প্রকৃতি দুটোই যদি একসঙ্গে চান, তাহলে বান্দরবান হতে পারে এবারের ছুটির সেরা গন্তব্য। নীলগিরি, চিম্বুক কিংবা রুমা প্রতিটি জায়গাই আলাদা সৌন্দর্যে ভরপুর। বর্ষার সময় পাহাড়ে নেমে আসা মেঘ আর সবুজ বনভূমির সৌন্দর্য মনকে এনে দেয় অন্যরকম প্রশান্তি। এক্ষেত্রে আমাদের সাজেশন থাকবে নতুন রিসোর্ট টংকাবতী নেচার রিট্রিট। দিন শেষে যখন চারপাশ শান্ত হয়ে আসে, ঠিক তখনই টংকাবতীর আসল রূপ ফুটে ওঠে।

বান্দরবানের নতুন রিসোর্ট টংকাবতী নেচার রিট্রিট
বান্দরবানের নতুন রিসোর্ট টংকাবতী নেচার রিট্রিট
ছবি: টংকাবতী নেচার রিট্রিট
সাঁঝের আলোয় কাঠের ডেকে বসে গরম এক কাপ চা হাতে কাটানো সময়টুকুর প্রশান্তি সত্যিই আলাদা
সাঁঝের আলোয় কাঠের ডেকে বসে গরম এক কাপ চা হাতে কাটানো সময়টুকুর প্রশান্তি সত্যিই আলাদা
ছবি: টংকাবতী নেচার রিট্রিট

শহরের একটানা ব্যস্ততার পর আমাদের সবারই এমন একটা জায়গা দরকার, যেখানে থাকবে শুধু পাহাড়ের হাওয়া আর নিজেদের গল্প। সাঁঝের আলোয় কাঠের ডেকে বসে গরম এক কাপ চা হাতে কাটানো সময়টুকুর প্রশান্তি সত্যিই আলাদা। এখানে শুধু থাকা নয়, আছে নানা ধরনের রোমাঞ্চকর কার্যক্রমের সুযোগও। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ ইউটিভি ও এটিভি ট্রেইল অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে এক্সট্রিম এডভেঞ্চার। পাহাড়ি মেঠোপথে অফরোড যাত্রার রোমাঞ্চ এই ভ্রমণকে করে তুলবে আরও স্মরণীয়।

রাতারগুল: রহস্যময় সোয়াম্প ফরেস্ট

সিলেটে বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট বর্ষায় পায় নতুন প্রাণ। গাছের ভেতর দিয়ে নৌকা চলার অভিজ্ঞতা সত্যিই অন্যরকম। প্রকৃতিপ্রেমী কিংবা ফটোগ্রাফি পছন্দ করেন যারা, তাদের জন্য রাতারগুল হতে পারে অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা।

এই ছুটিতে  রাতারগুল হতে পারে অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা
এই ছুটিতে রাতারগুল হতে পারে অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা
ছবি: শুকতারা ন্যাচারাল রিট্রিট
সিলেটের অন্যতম নান্দনিক রিসোর্ট শুকতারা ন্যাচারাল রিট্রিট
সিলেটের অন্যতম নান্দনিক রিসোর্ট শুকতারা ন্যাচারাল রিট্রিট
ছবি: শুকতারা ন্যাচারাল রিট্রিট

বৃষ্টির দিনে পানির ওপর গাছের প্রতিচ্ছবি জায়গাটিকে করে তোলে আরও রহস্যময়।সিলেট শহর থেকে সহজেই এখানে যাওয়া যায় তবে থাকতে চাইলে পরামর্শ থাকবে শুকতারা ন্যাচারাল রিট্রিটে থাকার। সিলেটের অন্যতম নান্দনিক রিসোর্ট এটি। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত প্রকৃতির মাঝে শান্ত সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি হতে পারে ঈদের আদর্শ গন্তব্য।

মেরিন ড্রাইভ ও পেঁচার দ্বীপ: নীল জলের ছুটি

সমুদ্র ভালোবাসেন? তাহলে মেরিন ড্রাইভ রোড হতে পারে ঈদের ছুটির সেরা ঠিকানা। নীল জল, শান্ত সৈকত আর বিস্তৃত সমুদ্রতট মনকে এনে দেয় অন্যরকম প্রশান্তি। সাইকেল চালিয়ে সমুদ্রপাড় ঘোরা, বিকেলের সূর্যাস্ত দেখা কিংবা সৈকতের ধারে বারবিকিউ সব মিলিয়ে জমে উঠতে পারে ছুটি।

কাছেই রয়েছে তীরে নীড় কিংবা চাঁদের বাড়ি বিচ রিসোর্ট এর মতো নান্দনিক রিসোর্ট, যেখানে রয়েছে ব্যক্তিগত সৈকতের সুবিধাও। সাগরের জলে পা ভিজিয়ে মুহূর্তেই হারিয়ে যেতে পারবেন ছুটির আত্মিক আনন্দে।

ভ্রমণে যা মাথায় রাখবেন

ঈদের ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় বেশি থাকে, তাই আগেই হোটেল ও পরিবহন বুকিং নিশ্চিত করুন।

পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন।

পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখানো একজন সচেতন ভ্রমণকারীর দায়িত্ব।

এই ঈদে চাইলে কয়েক দিনের জন্য নিজেকে মেঘ, পাহাড় আর জলের কাছে সঁপে দিতে পারেন। হয়তো প্রকৃতির কাছাকাছি কাটানো এই সময়ই দূর করে দেবে দীর্ঘদিনের ক্লান্তি।

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬, ০৮: ১৯
বিজ্ঞাপন