শেষ ক’দিনের সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে সত্যিকারের পরিবেশবান্ধব অভিজ্ঞতা দেবে যে রিসোর্ট
শেয়ার করুন
ফলো করুন

আর মাত্র ৫দিন পর্যটকদের জন্য খোলা থাকবে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। তারপর আবার ভ্রমণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাই তো এই মৌসুমে যাঁরা এখনও সমুদ্র দেখেননি তাঁদের ঝটিকা গন্তব্য হতে পারে ‘দারুচিনি দ্বীপ’। আর আজ সন্ধান দিব দ্বীপের অন্যতম নিরিবিলি এক রিসোর্টের, যা আপনাকে শেষ ক’দিনের সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে সত্যিকারের পরিবেশবান্ধব অভিজ্ঞতা দেবে। সমস্ত কোলাহল থেকে দূরে দ্বীপের একদম দক্ষিণ–পশ্চিম অংশে এর অবস্থান।

আর মাত্র ৫দিন পর্যটকদের জন্য খোলা থাকবে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ
আর মাত্র ৫দিন পর্যটকদের জন্য খোলা থাকবে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ
বিজ্ঞাপন

রিসোর্টটি আসলে কোথায়

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে জাহাজ ঘাটে নেমে যদি বলেন, আমি 'সুন্দরবন' যাবো, তাহলে আর কোনো লোকেশন জানার দরকার নেই। স্থানীয় বাহনে অর্থাৎ অটোরিকশা বা ভ্যানগাড়িতে আধ ঘন্টার যাত্রায় দ্বীপের অবারিত সৌন্দর্য দেখতে দেখতে আপনি পৌঁছে যাবেন এর শেষ প্রান্তের 'মিউজিক ইকো রিসোর্ট'-এ।

বাইরে থেকে দেখে কেয়ার জঙ্গল মনে হবে
বাইরে থেকে দেখে কেয়ার জঙ্গল মনে হবে

এর পূর্ব দিকে আছে নয়নাভিরাম ম্যানগ্রোভ গাছের সমারোহ। স্থানীয়রা তাই এ কর্ণারের নাম দিয়েছে 'সুন্দরবন'। প্রকৃতি রক্ষায় ছেঁড়া দ্বীপ ভ্রমণ নিষিদ্ধ হওয়ায় এই অংশকেই বলা যায় ভ্রমণ উপযোগী বাংলাদেশের শেষ ভূমি।

এর পূর্ব দিকে আছে নয়নাভিরাম ম্যানগ্রোভ গাছের সমারোহ
এর পূর্ব দিকে আছে নয়নাভিরাম ম্যানগ্রোভ গাছের সমারোহ
বিজ্ঞাপন

প্রকৃতিদর্শনের অনন্য অভিজ্ঞতা

রিসোর্টের মূল আকর্ষণ-এর প্রকৃতি। ছেঁড়াদ্বীপ সংলগ্ন এ রিসোর্টের দু'দিকেই সমুদ্র। একদিকে পাথুরে সৈকত অন্যদিকে বালিয়াড়ি সমুদ্র সৈকত বা স্যান্ডি বিচ।

ইট–পাথর, স্টিল কিংবা বাশেঁর বেড়া নয়, রিসোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে কেয়া গাছ। অর্থাৎ চারিদিকে কেয়া গাছের বাউন্ডারি। রিসোর্টের ভেতরেও অসংখ্য গাছপালা। মনে হবে যেন প্রাকৃতিক জঙ্গলে ঢুকেছেন।

৪০০শ’র বেশি নারকেল গাছ আছে এই রিসোর্টে
৪০০শ’র বেশি নারকেল গাছ আছে এই রিসোর্টে

রিসোর্টের মূল ফটক দিয়ে ঢোকার পরেই নজর কাড়বে সারি সারি নারকেল গাছ। আর সেগুলোর মাঝেই তাবু আর কন্টেইনার। ওয়াশরুম ছাড়া ইট-পাথরের কোনো নির্মাণ নেই এখানে।

হ্যামকে শুয়ে-বসে সমুদ্রের কলতান শুনে এখানে সময় কেটে যায় চোখের পলকে
হ্যামকে শুয়ে-বসে সমুদ্রের কলতান শুনে এখানে সময় কেটে যায় চোখের পলকে

হ্যামকে শুয়ে-বসে নারকেল পাতার ফাঁকে দিনে নীল আকাশ আর রাতে তারা ভরা আকাশ উপভোগ করা যায়৷ আর এর পকেট গেট খুললেই পাথুরে বিচ। সেন্ট মার্টিনের সিক্রেট বিচ এটি। সব পর্যটক উত্তর পাড়ের রিসোর্টে থাকে। তাই দ্বীপের এই অংশের খোঁজ খুব কম মানুষই জানে। অনেকটা প্রাইভেট বিচের মতো সূর্যাস্ত দেখা যায় এখানে বসে। এককথায়, প্রকৃতি সকল আয়োজন সাজিয়ে বসে আছে আপনাকে ঋদ্ধ আর মুগ্ধ করতে।

রিসোর্টের পকেট গেট খুললেই এই পাথুরে বিচ
রিসোর্টের পকেট গেট খুললেই এই পাথুরে বিচ

প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানই রিসোর্টটির মূলমন্ত্র। রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা আবিদ এ আজাদ বলেন, জায়গাটা কেনার পরেই আমার মাথায় এসেছে, আর যাই হোক এখানে আমরা কোনো গাছ কাটবনা, বরং আরও গাছ লাগাব।

আর এখানে সবচেয়ে মনোগ্রাহী হলো প্রকৃতির সংগীত। সমুদ্রের র্গজন, বাতাসে কেয়া আর নারকেল পাতার শব্দ, জানা-অজানা পাখির কিচিরমিচির এক অন্য জগতে নিয়ে যায় অতিথিদের। সেজন্যই এর নাম ’মিউজিক ইকো রির্সোট। রাতে এখানকার রূপ আরও মোহনীয়।

তাবু আর কন্টেইনারগুলো যেমন

প্রকৃতির সব আয়োজন অক্ষুন্ন রেখেই বাংলাদেশের শেষ প্রান্তে গড়ে উঠেছে মিউজিক ইকো রিসোর্ট। থাকার ব্যবস্থা তাই ইট-পাথরে নয়, বরং পরিবেশবান্ধব কনটেইনার হাউজ ও তাবুঘরে।

নামে তাবু হলেও এদের কাঠামো অনেকটা ঘরেরই মতো
নামে তাবু হলেও এদের কাঠামো অনেকটা ঘরেরই মতো

জীবনে প্রথমবার বারান্দাসহ তাবু দেখার অভিজ্ঞতা হবে এখানে। কারণ নামে তাবু হলেও এদের কাঠামো অনেকটা ঘরেরই মতো। দরজা–জানালা সবই আছে আর যথেষ্ট প্রশস্তও। বাতাস আসা-যাওয়া করতে পারে তাবুর ভেতর। বারান্দায় পাটি পেতে শুয়ে–বসে গল্প করে দিব্যি সময় কাটানো যায়।

দৃষ্টিনন্দন করতে নানা রকম ডুডলে রাঙানো হয়েছে কন্টেইনার হাউজগুলো। কোনটায় দেখায় যায় চিংড়ি, কোনোটায় কোরাল দ্বীপ, নোনাজল।

দৃষ্টিনন্দন করতে নানা রকম ডুডলে রাঙানো হয়েছে কন্টেইনার হাউজগুলো
দৃষ্টিনন্দন করতে নানা রকম ডুডলে রাঙানো হয়েছে কন্টেইনার হাউজগুলো

রাতে এখানকার রূপ

দ্বীপের এই অংশে বিদ্যুৎ নেই। প্রয়োজনে সীমিতভাবে চলে জেনারেটর। সূর্যাস্তের পর তাই সমুদ্রের কলতানে সন্ধ্যা আরও গাঢ় হয়। ঢেউয়ের গর্জন শুনতে শুনতে নারকেল পাতার ফাঁকে চাঁদ ওঠতে দেখা নিশ্চয়ই অনন্য এক অভিজ্ঞতা।

নারকেল পাতার ফাঁকে চাঁদ
নারকেল পাতার ফাঁকে চাঁদ

এছাড়া জোয়ারের পানি চলে আসে রিসোর্টের মূল ফটকে। এখানে ছোট মাছ বিশেষ করে চিংড়ি আর কাঁকড়া ধরা হয়। অতিথিরা নিঃসংকোচে যোগ দিতে পারেন এই অভিযানে। ছেলেবেলা মনে করিয়ে দিবে এই দৃশ্য। সেই মাছই আবার পছন্দমতো রান্না করে পরিবেশন করা হয়। আর তাজা মাছের স্বাদ তো সকলের জানা।

জোয়ারের পানিতে চলে মাছ ধরা
জোয়ারের পানিতে চলে মাছ ধরা

খাওয়া-দাওয়া

রিসোর্টটি সেন্ট মার্টিনে বেশ প্রশংসিত এর খাবারের জন্য। কাঠের চুলায় সামুদ্রিক মাছের নানা রেসিপি, বারবিকিউয়ের আসল স্বাদ পাওয়া যাবে এখানে। আর নারকেল জিন্জিরার বিখ্যাত নারকেল আর ডাব তো আছেই। খাওয়ার রিসোর্টের অতিথিরা ছাড়াও দ্বীপের এই অংশে ঘুরতে আসা পর্যটকরা আগে থেকে অর্ডার করে সকাল, দুপুর বা রাতের খাবারও খেতে পারবেন।

রিসোর্টটি সেন্ট মার্টিনে বেশ প্রশংসিত এর খাবারের জন্য
রিসোর্টটি সেন্ট মার্টিনে বেশ প্রশংসিত এর খাবারের জন্য

খেলাধুলা

৪ একর জায়গা জুড়ে রিসোর্টটির অবস্থান। আবার ইট–পাথরের কোনো নির্মাণ না থাকায় খোলা জায়গা অনেক। অতিথিদের জন্য এখানে ব্যাটমিন্টন ও ক্রিকেট খেলার ব্যবস্থা আছে।

অতিথিদের জন্য এখানে ব্যাটমিন্টন ও ক্রিকেট খেলার ব্যবস্থা আছে
অতিথিদের জন্য এখানে ব্যাটমিন্টন ও ক্রিকেট খেলার ব্যবস্থা আছে

অন্যান্য

খুব বেশি মানুষের আনাগোনা নেই এখানে। নিরিবিলি যারা থাকতে চান, এমন অতিথিই আসেন। তবে কেউ চাইলে ছোট বা বড় গ্রুপ, যে কোনো পার্টি অথবা শ্যুটিংয়ের জন্য পুরো রিসোর্ট ভাড়া করা যাবে।

ছবি: লেখক ও মিউজিক ইকো রিসোর্ট

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১: ৪৫
বিজ্ঞাপন