
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের সোনাপাহাড় ফার্মহাউসে গড়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম মিয়াওয়াকি ফরেস্ট। মিয়াওয়াকি ফরেস্ট হলো কৃত্রিমভাবে তৈরি একটি ঘন ও বৈচিত্র্যময় বন। জাপানের উদ্ভিদবিদ ড. আকিরা মিয়াওয়াকি ১৯৭০–এর দশকের প্রথম দিকে ‘মিয়াওয়াকি’ পদ্ধতিতে কৃত্রিম বন তৈরির এই উপায় উদ্ভাবন করেন।
এ পদ্ধতিতে কোনো জায়গায় ২০-৩০ বছরের মধ্যে গভীর বন তৈরি করা সম্ভব। মিয়াওয়াকি বনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এ বনের গাছ সাধারণ বনের গাছের চেয়ে ১০ গুণ দ্রুত বৃদ্ধি পায় ও সাধারণ বনের চেয়ে প্রায় ৩০ গুণ বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে পারে।


মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় এলাকার যে জায়গাটায় সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে মিয়াওয়াকি ফরেস্ট তৈরি করা হয়েছে, সেখানে আগে ইটভাটা ছিল। ইটভাটার ধোঁয়া ও প্রতিনিয়ত পাহাড় কাটার দরুণ সেখানকার পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সে কারণেই এই সোনাপাহাড় ফার্মহাউস প্রকল্পে মিয়াওয়াকি ফরেস্ট তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেন আমজাদ হোসেনসহ আরও কয়েকজন।
এখানে ৬ একর জায়গাজুড়ে প্রায় ১২০ প্রজাতির লতাগুল্ম ও গাছ লাগানো হয়েছে। দ্রুত বৃদ্ধির কারণে মাত্র ১৩ মাস বয়সী এই বনকে দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন এক যুগের। নেদারল্যান্ডস ও ভারত আগে মিয়াওয়াকি ফরেস্ট তৈরিতে সফল হলেও বাংলাদেশে এই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে কৃত্রিম বন তৈরির এই চেষ্টা সফল হয়েছে।


সীতাকুণ্ড-মীরসরাই রেঞ্জে আমি আগেও ৫–৬ বার এসেছি। প্রতিবার এখানকার পাহাড় আর অরণ্যে ঘেরা বিভিন্ন ট্রেইলে ট্রেকিং করে ঝরনা দেখতে যাওয়ার সময় ভাবতাম, এমন সুন্দর জায়গায় যদি থাকার সুযোগ হতো! অবশেষে এবার সেই ইচ্ছা পূরণ হলো।
সোনাপাহাড় ফার্মহাউসের সবুজে ঘেরা প্রকৃতির মধ্যে দারুণ দুটি দিন কাটিয়েছি।
এখানে থাকার জন্য আছে বেশ কয়েকটা ভিলা। আয়েশিভাবে দিনযাপনের জন্য ভিলাগুলোতে আধুনিক সব সুযোগ–সুবিধাই বিদ্যমান। চারপাশে নানা রকম জানা–অজানা গাছপালা, ফুলের সমাহার।

এসবের মধ্যে এখানে একটা শান্ত সুন্দর লেক আছে, যেটার চারপাশে কয়েকটা ছাউনিঘর এবং ওয়াচ টাওয়ার গড়ে তোলা হয়েছে। এগুলোতে আলসভাবে একমনে বসে থেকে আর প্রকৃতি দর্শন করেই একটা অলস দুপুর বা শান্ত বিকেল পার করে ফেলা যায়।

সব মিলিয়ে এখানকার পরিবেশটাই এমন, যেন মনে হচ্ছিল এখানেই থেকে যাই আরও কয়েকটা দিন।
ছবি: লেখক