
প্রচণ্ড গরমে যখন সবাই স্থবির, তখন ভ্রমণপিয়াসীরা কিন্তু থেমে নেই। শহরের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে অনেকেই খুঁজছেন উপযোগী ভ্রমণের স্থান। তাই ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য রইল তেমন কিছু ভ্রমণগন্তব্যের সন্ধান।

দেশজুড়েই প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ চলছে। এ সময়ে একটু শীতলতার ছোঁয়া পেতে চলে যেতে পারেন আমাদের খুব কাছের দেশ নেপালে। এখানে ভ্রমণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে অন অ্যারাইভাল ভিসা। যেকোনো সময় আকাশপথে চলে যাওয়া যাবে এখানে। তবে সড়কপথে গেলে ইন্ডিয়ান ভিসা সেন্টার থেকে ডাবল এন্ট্রি ভিসা নিতে হবে। আগে থেকে বুকিং করলে হোটেল ও মোটেল পেয়ে যাবেন আপনি। অত্যন্ত পর্যটকবান্ধব হওয়ায় পর্যটনের সব সুযোগ–সুবিধা এখানে পাওয়া যায়।

যাওয়ার আগে বুক করে যেতে পারেন হোটেলের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত ভ্রমণ প্যাকেজ। এই মুহূর্তে তাপমাত্রা সহনীয় থাকায় এই গরমে নেপাল ভ্রমণ স্বস্তিকর হবে নিঃসন্দেহে। নেপালে সড়কপথে গেলে খরচ কম পড়বে। আর আকাশপথে বেশি। কাঠমান্ডু আর পোখরা থেকে অনায়াসে ঘুরে আসতে পারেন চার দিন বা তিন দিনের প্যাকেজে।

কাঠমান্ডু গেলে অবশ্যই স্বয়ম্ভুনাথ স্তূপ, কাঠমান্ডু দরবার স্কোয়ার, পাটান, ভক্তপুর, ঐতিহ্যবাহী নেওয়ারি রেস্তোরাঁ, পশুপতিনাথ মন্দির আর বৌদ্ধনাথ স্তূপ দেখতে যেতে ভুলবেন না। আর পোখরায় গেলে অবশ্যই ফেওয়া লেক, ওয়ার্ল্ড পিস প্যাগোডা, গুপ্তেশ্বর মহাদেব গুহা, দেবীর জলপ্রপাত , তিব্বতি মঠ ও ইন্টারন্যাশনাল মাউন্টেন মিউজিয়াম অবশ্যই ঘুরে আসবেন ।

দার্জিলিংয়ের সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার হচ্ছে এখানে অনেক কম খরচে ঘুরে আসতে পারবেন। বছরের সব সময় এখানে ভ্রমণপিয়াসীদের ভিড় থাকে। দেশের অনেক পর্যটন স্পটের চেয়ে অনেক কম খরচে এই গরমে ঘুরে আসতে পারেন দার্জিলিং। ইন্ডিয়ান ভিসা সেন্টার থেকে ভিসা নিয়ে চলে যেতে পারেন ব্রিটিশ শাসনামলের উপমহাদেশের সুইজারল্যান্ডখ্যাত এই নয়নাভিরাম জায়গায়।

সড়কপথে যাওয়া যায় দার্জিলিং অথবা কলকাতা আকাশপথে গিয়ে সেখান থেকে বাস, ট্রেন বা গাড়িতে চলে যেতে পারেন গন্তব্যে। পথে মিরিকে নিতে পারেন যাত্রাবিরতি কিংবা থেকে যেতে পারেন এক রাত। সেখান থেকে গাড়িতে করে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে চলে যেতে পারবেন দার্জিলিং। উপর্যুপরি হিট অ্যালার্টে যখন নগরজীবন স্থবির, তখন দার্জিলিং হতে পারে দারুণ এক গন্তব্য । এখানকার প্রতিটি ভিউ পয়েন্ট থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। এখানে খুব সহজেই তিনবেলার খাবার এবং মনোরম ভিউ আছে এমন ভালো মানের হোটেল পেয়ে যাবেন আপনি।

দার্জিলিংয়ে দেখতে পারেন টাইগার হিল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা, বাতাসিয়া লুপ, হিমালয়ান জু, হ্যাপি ভ্যালি টি স্টেট, রক গার্ডেন, মনেস্ট্রি ও প্যাগোডা। সত্যজিৎ রায়ের অমর সৃষ্টি ফেলুদার গ্লেনারি ক্যাফের কথা নিশ্চয়ই পাঠকদের মনে আছে । সেখান থেকে সকালের বা বিকেলের নাশতা একবার হলেও করে নেবেন । ট্যুরে গিয়ে সেখানকার ট্র্যাডিশনাল খাবার না খেলে যেন ভ্রমণ সম্পূর্ণ হয় না।

দার্জিলিংয়ে বাঙালি, নেপালি, ইন্ডিয়ান, চায়নিজসহ সব ধরনের খাবার পাওয়া যায়। স্ট্রিট ফুড দার্জিলিংয়ের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। দামটাও একদম হাতের নাগালে। মল রোড বরাবর অনেক ফুড কার্ট পাবেন সন্ধ্যার দিকে। এ ছাড়া বিভিন্ন রেস্তোরাঁও আছে।

সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সঙ্গে স্থলসীমান্ত আছে মেঘালয়ের। চোখজুড়ানো আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর শীতল আবহাওয়ার জন্য এই রাজ্যের রাজধানী শিলং শহরকে ডাকা হয় প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড নামে। শহরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দেড় হাজার মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।

বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল স্থান চেরাপুঞ্জি মেঘালয়েই অবস্থিত। শীতল আবহাওয়া ও বৃষ্টি সবকিছুর সমন্বয়ে প্রশান্তিময় অনুভূতি পেতে চলে যেতে পারেন মেঘালয়ে। সিলেট শহর থেকে তামাবিল চেকপোস্টে এসইউভি বা মাইক্রোবাসে করে গিয়ে সড়কপথে চলে যেতে পারবেন ওপারের মেঘালয় রাজ্যে। ভারতীয় ভিসা করে নিতে হবে আগেই।

মেঘালয়ে রয়েছে অনেক পর্যটন স্পট। তার মধ্যে ঘুরে দেখতে পারেন মাওসাওডং জলপ্রপাত, মাওলংবনা গ্রাম, কংথং গ্রাম, সোহখমি, ওয়েই সাওডং জলপ্রপাত, লোলং পার্ক, শিলং পিক ও সোহপেতবিনেং পিক, ওয়ার্ডস লেক ও উমিয়াম লেক, শিলং গলফ কোর্সসহ বেশ কিছু আকর্ষণীয় জায়গা।