থাইল্যান্ডে দীর্ঘ ছুটি বা ওয়ার্কেশনের প্ল্যান করছেন? আগে জেনে নিন নতুন ভিসানীতি
শেয়ার করুন
ফলো করুন

থাই সরকার তাদের ভিসা নীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনছে, যার প্রভাব পড়বে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের ওপর। শুধু এশিয়াই নয়, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের আরও অনেক দেশের ভ্রমণকারীদের জন্যও বদলে যাচ্ছে দেশটিতে প্রবেশ ও অবস্থানের নিয়ম।

২০২৪ সালে মহামারির ধাক্কা সামলে পর্যটন খাতকে চাঙা করতে থাইল্যান্ড ৯৩টি দেশের নাগরিকদের জন্য ৬০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা চালু করেছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে থাইল্যান্ডে পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ে। বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে স্বল্প খরচে পরিবারভিত্তিক ভ্রমণ, শপিং ট্রিপ এবং স্বল্পমেয়াদি অবকাশযাপন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

কিন্তু সম্প্রতি থাই সরকার সেই নীতিতে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগের মতো দীর্ঘ সময় ভিসা-ফ্রি অবস্থান করা আর সহজ হবে না। দেশটি এখন আরও নিয়ন্ত্রিত ও পর্যবেক্ষণভিত্তিক প্রবেশ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ থাইল্যান্ড বরাবরই বাংলাদেশের পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় আন্তর্জাতিক গন্তব্য। নতুন নীতির আওতায় এখন ভ্রমণের আগে ভিসা সংক্রান্ত প্রস্তুতি আরও গুরুত্ব দিয়ে নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নিয়মে এশিয়ার দেশগুলো থেকে ভ্রমণে ‘স্পন্টেনিয়াস ট্রাভেল’ বা হঠাৎ পরিকল্পনার ট্রিপ কমে যেতে পারে। কারণ ভিসা আবেদন, প্রসেসিং সময়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অতিরিক্ত খরচ ভ্রমণকে কিছুটা জটিল করে তুলবে।

বিজ্ঞাপন

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইল্যান্ড এত দ্রুত আকর্ষণ হারাচ্ছে না। তুলনামূলক কম খরচ, সহজ বিমান যোগাযোগ, সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন, নাইটলাইফ, স্ট্রিট ফুড ও শপিংয়ের কারণে বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া কিংবা ইন্দোনেশিয়ার পর্যটকদের কাছে দেশটির আবেদন এখনও শক্তিশালী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন নিয়মের ফলে দীর্ঘমেয়াদি পর্যটক, ডিজিটাল নোম্যাড এবং ধীরে-সুস্থে একাধিক শহর ঘোরার পরিকল্পনা করা ভ্রমণকারীরা বিকল্প গন্তব্যের দিকে ঝুঁকতে পারেন। এর ফলে ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, বালি বা শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলো পর্যটন খাতে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।

থাইল্যান্ডের এই সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে বিদেশিদের অবৈধ ব্যবসা, অনলাইন প্রতারণা, ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে অবস্থান এবং পর্যটকদের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ নিয়ে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ বাড়ছিল। সেই চাপ থেকেই সরকার এবার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার পথে হাঁটছে।

নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হওয়ার পর এশিয়ার ভ্রমণ মানচিত্রে কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। তবুও থাইল্যান্ড যে আগামী দিনেও বাংলাদেশি ও এশীয় পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য হয়ে থাকবে, সে বিষয়ে খুব একটা সন্দেহ নেই।

ছবি: পেকজেলসডটকম

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ১২: ৪২
বিজ্ঞাপন