মাউন্ট এলব্রুসের পথে: প্রথম দিন
শেয়ার করুন
ফলো করুন

রাশিয়ার ককেশাস পর্বতমালার বুকে দাঁড়িয়ে আছে মাউন্ট এলব্রুস, ইউরোপের সর্বোচ্চ বিন্দু হিসেবে পরিচিত প্রায় ৫ হাজার ৬৪২ মিটার উঁচু এক সুপ্ত আগ্নেয়গিরি। পৃথিবীর সাত মহাদেশের সর্বোচ্চ সাতটি শৃঙ্গ নিয়ে গড়া ‘সেভেন সামিটস’-এর অন্যতম এই পর্বত জয় করতে যাত্রা শুরু করেছেন বাংলাদেশের এভারেস্ট বিজয়ী, গ্রেট হিমালয় ও সি-টু-সামিট বিজয়ী ইকরামুল হাসান শাকিল।

অভিযানের শুরু টারস্কল থেকে

এলব্রুস অভিযানের প্রথম দিনের শুরু হয় খুব ভোরে টারস্কল থেকে। বাকসান উপত্যকায় অবস্থিত ছোট্ট এই পাহাড়ি জনপদকে বলা যায় এলব্রুস অভিযানের অন্যতম প্রবেশদ্বার। সেখান থেকেই শুরু হয় শাকিল ও তাঁর দলের মূল যাত্রা।

মাত্র ১৫ মিনিটের জিপযাত্রায় তাঁরা পৌঁছে যান কেবল কার স্টেশনে। এরপর কেবল কারে করে উঠে যান প্রায় তিন হাজার মিটার উচ্চতায়, মাউন্ট ছেগেতে। উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যেতে থাকে চারপাশের দৃশ্য। সবুজ পাহাড় ধীরে ধীরে হয়ে উঠে বরফে ঢাকা শৃঙ্গ।

বিজ্ঞাপন

উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি

তিন হাজার মিটার উচ্চতায় পৌঁছে দলের সদস্যরা অপ্রয়োজনীয় ব্যাকপ্যাক লজে রেখে বেরিয়ে পড়েন হাইকিংয়ে। উদ্দেশ্য ছিল শরীরকে ধীরে ধীরে বেশি উচ্চতার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। পর্বতারোহণের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘অ্যাক্লিমাটাইজেশন হাইক’।

শাকিল প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ মিটার হাইকিং করেন। তাঁদের গন্তব্য ছিল পাহাড়ের কোলে থাকা ছোট্ট ও স্বচ্ছ একটি হ্রদ, স্থানীয় অভিযাত্রীদের কাছে যা ‘এলব্রুস লেক’ নামে পরিচিত।

হাইকিং শেষে দুপুরের মধ্যেই সবাই ফিরে আসেন মাউন্ট ছেগের লজে। দুপুরের খাবারের পর চলে দিনের নির্ধারিত কিছু রুটিন অ্যাক্টিভিটি। এভাবেই ধীরে ধীরে কেটে যায় অভিযানের প্রথম দিন।

বিজ্ঞাপন

ভিন্ন দেশ, এক স্বপ্ন

এই অভিযানে শাকিল একা নন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন গাইড অ্যালেক্স এবং হংকং থেকে আসা হেদার। ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতি থেকে আসা এই তিন অভিযাত্রীর লক্ষ্য অবশ্য এক, মাউন্ট এলব্রুসের চূড়ায় পৌঁছানো।

শাকিলের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনটি মোটামুটি ভালোই কেটেছে। এই সময়টায় শরীরকে সামনের কঠিন অভিযানের জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি মানসিকভাবেও নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

যদিও এলব্রুসের পথ এখনও অনেকটা বাকি। প্রথম দিনের স্বস্তির পর সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন উচ্চতা, ঠান্ডা আর অনিশ্চয়তায় ভরা পথ। তবে শিখরে ওঠার স্বপ্নই এখন শাকিলের প্রতিটি পদক্ষেপের প্রেরণা।

ছবি: ইকরামুল হাসান শাকিল

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ০৩
বিজ্ঞাপন