
অনেক দিন পর খানিকটা কাজে ফিরেছি গ্রামে। তবে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটিতে একেবারেই বাড়িতে থাকা হলো অনেক দিন পর। নাটোরের লালপুর উপজেলার বোয়ালিয়াপাড়া গ্রামে এখন শীতের সকালগুলো বেশ আলসে। ঘুম থেকে যেন উঠতেই ইচ্ছে করে না। শহুরে কোলাহল নেই, অফিসে যাওয়ার তাড়াও নেই।

ঘুম থেকে উঠেই পাই মায়ের হাতের বানানো আমাদের এলাকার জনপ্রিয় খাবার কালাই রুটি আর সঙ্গে বেগুনভর্তা। ঝাল মরিচের ভর্তা দিয়ে কালাই রুটি খাওয়ার সময় কান দিয়ে যেন ধোঁয়া বের হয়। অনেক দিন পর ঝাল মরিচের ভর্তা দিয়ে কলাই রুটি মুখে পুরতেই মনে হলো শৈশবের দিনগুলোতে ফিরে গেছি।


সকালের নাশতা করার পর মিষ্টি রোদে ছাদে দাঁড়িয়ে খেজুরের গুড়ের দুধ–চা। অন্য রকম এক স্বাদ। সকাল থেকে দুপুর হতে যেন সময় নেয় না।
ভরদুপুরে ভরপেট খেয়ে একটা ভাতঘুম। টুপ করে সূর্যটা যায় ডুবে। রাতের খাবারও বেশ তাড়াতাড়ি খাওয়া হয়। বাড়িতে বানানো কুমড়ার বড়ি আর ফুলকপি দিয়ে রান্না পুকুরের মাছ, সঙ্গে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত। খাওয়া শেষে রসে ভিজানো দুধচিতই। মুখে দিলেই যেন গলে যায়।

শীতের রাতে কানে ভেসে আসে শিয়ালের হুক্কাহুয়া ডাক আর নাকে হাসনাহেনা ফুলের গন্ধ। তবে সকালে বাড়ি থেকেই পাওয়া যায় গ্রামের এবাড়ি–ওবাড়িতে তৈরি হওয়া খেজুর গুড়ের মিষ্টি ঘ্রাণ। এই অভিজ্ঞতাগুলো এমন নয় যে শহরে বসে নেওয়া যাবে। আর নিতে হলে গ্রামেই আসতে হবে। ব্যয়বহুলও নয়। চাইলে এই অঞ্চলে ঘুরে আসতে পারেন এক–দুই দিনের সফরে। বাস কিংবা ট্রেন হতে পারে আপনার বাহন। তবে ভারী শীতের পোশাক নিতে হবে। দিনে মোটামুটি সহনীয় থাকলেও রাত নামতেই হাড়কাঁপানো শীত পড়ে যায়।