
বৈশাখ পেরিয়ে জ্যৈষ্ঠ আসতে না আসতেই প্রকৃতি নানা রূপবৈচিত্র্যে ভরপুর হয়ে ওঠে। কদিন ধরে বেশ বৃষ্টি হওয়ায় নতুন পানিতে খাল-বিল ভরে উঠেছে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে জলসিক্ত সব জানা-অজানা ফুলেরা। এর মধ্যে আছে ফুরুস, দুপুরমণি, চাঁদমালা, ঝাঁঝি, রেইন-লিলি, ঘাসফুল, মালতী, নয়নতারা, কলাবতী, কদম, বেলি, কেয়া, কামিনী, দোপাটি, শাপলা, শালুক, পদ্ম, দোলনচাঁপা, সুদর্শন, স্পাইডার লিলি, সুখদর্শন, ঘাসফুল, সন্ধ্যামালতী, কামিনী, গুলনার্গিস, টগর, রজনীগন্ধা, চালতা, জুঁই, বকুল, স্বর্ণচাঁপা, অলকানন্দা, কাঠগোলাপ, রঙ্গন, জবা—আরও শত শত সুশোভিত সুরভিত ফুল।

এ ছাড়া আছে ফল ও ফসলের বৈচিত্র্যময় ফুলের সম্ভার। এই বৃষ্টিস্নাত দিনের অনন্য এক ফুল হলো ফুরুস। বিভিন্ন রঙের ঢঙে এই ফুলের থোকা বাগানে সৌন্দর্যের মাত্রা বাড়ায় বহুগুণে।
ফুরুস গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia indica, এটি Lythraceae পরিবারের উদ্ভিদ। ইংরেজিতে (crape myrtle) ক্রেপ মার্টল নামে পরিচিত। অনেকে এই ফুলকে চেরি ফুল বলে ভুল করেন। এর আদি নিবাস চীন। উদ্ভিদটি প্রায় ৪ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। এরা শক্ত, ডালপালা ভরা পত্রমোচী গাছ। কাণ্ড বাদামি ও মসৃণ। পত্রবিন্যাস একান্তর বা ঘূর্ণিত ধরনের।

এতে তিনটি পাতা থাকে, যা ডিম্বাকার, ৩.৫-৬ সেন্টিমিটার লম্বা এবং বেশ মসৃণ। বর্ষায় ডালের আগায় ছোট ছোট ফুলের বেশ বড় থোকা দেখা যায়। পুষ্পমঞ্জরি ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার লম্বা, শাখায়িত। নানা রঙের ফুল হয় এতে। সাদা, গোলাপি, লাল ও বেগুনি ফুরুস দেখা যায়। ফুল ৩ সেন্টিমিটার চওড়া। এর পাপড়ি ৬টি ও কিছুটা কোঁকড়ানো। কলম ও শিকড় থেকে গজানো চারা থেকেই নতুন গাছ হয়। বসন্তে ছেঁটে দিলে নতুন ডালে প্রচুর ফুল হয়।
সাধারণত তিনটি রঙে এই ফুল আমাদের দেশে বেশ পরিচিত। সাদা, গোলাপি, বেগুনি। সম্প্রতি কিছু টকটকে লাল রঙের ফুরুসও দেখা যাচ্ছে।

জারুলের জ্ঞাতিভাই হলেও এর আবেদন আজকাল ছাদবাগানিদের কাছে বেশি দেখা যাচ্ছে। অতিমারিকবলিত সময় কাটানোর পরে অনেক ছাদবাগানি নতুন করে বাগান সাজানোর কাজে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এই সময়ে ছাদে ফুরুস ফুলের ঝোপালো আয়োজনে মন ভরে উঠবে সবার।
ছবি: লেখক ও প্রথম আলো