ইলন মাস্কের ট্রান্স কন্যা হুলস্থুল ফেলে দিয়েছেন বোল্ড এআইবিরোধী ক্যাম্পেইন দিয়ে, কী বার্তা আছে এতে
শেয়ার করুন
ফলো করুন

এআই নিয়ে বিতর্ক এখন আর প্রযুক্তির জগতেই সীমাবদ্ধ নেই। ফ্যাশন, শিল্প ও সৃজনশীল পেশায় এর প্রভাব নিয়েও চলছে আলোচনা। সেই বিতর্কে এবার নিজের অবস্থান জানালেন ইলন মাস্কের ট্রান্স ত্যাজ্য কন্যা ভিভিয়ান উইলসন। স্প্যানিশ ফ্যাশন ব্র্যান্ড ডিজিগুয়ালের ২০২৬ সালের অটাম ক্যাম্পেইনে রোবটের সঙ্গে অভিনব এক গল্পের মাধ্যমে এআইয়ের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছেন ২২ বছর বয়সী এই মডেল। ক্যাম্পেইনের নাম 'বর্ন টু ডিসওবে' অর্থাৎ অবাধ্য হতে জন্মেছি।

ক্যাম্পেইনের নাম 'বর্ন টু ডিসওবে' অর্থাৎ অবাধ্য হতে জন্মেছি
ক্যাম্পেইনের নাম 'বর্ন টু ডিসওবে' অর্থাৎ অবাধ্য হতে জন্মেছি

আর এতেই লেগে গিয়েছে হুলস্থুল। কারণ তাঁর বাবা ইলন মাস্ক বিশ্বের অন্যতম বড় টেক মোগল। এআই ছাড়া তো তাঁর অস্তিত্বই থাকে না। তবে সব বিষয়ের মতো এখানেও বাবার বিপরীত অবস্থানে আছেন ভিভিয়ান। আর সেখানেই টুইস্ট আর সকলের আগ্রহ বেশি।

বিজ্ঞাপন

বিদ্রোহ মানে শুধু সিস্টেমের বিরুদ্ধে যাওয়া নয়

ডিজিগুয়ালের ভাষ্য, এই ক্যাম্পেইনের মূল বার্তা একটিই। আর তা হলো সবচেয়ে বড় বিদ্রোহ এখন আর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করা নয়; বরং সেই ব্যবস্থার অংশ হতে অস্বীকার করা। যখন চারপাশ থেকে আপনাকে মেনে চলতে বলা হয়, তখন নিজের মতো থাকা, নিজস্ব স্বাধীন রসবোধ আর স্বাধীনতাই হয়ে উঠতে পারে প্রতিবাদের ভাষা।

ভিডিওতে ভিভিয়ানের সঙ্গী ডিইএসআই ৮৪ নামের একটি রোবট
ভিডিওতে ভিভিয়ানের সঙ্গী ডিইএসআই ৮৪ নামের একটি রোবট
একপর্যায়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে রোবটটির সীমাবদ্ধতা
একপর্যায়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে রোবটটির সীমাবদ্ধতা

ক্যাম্পেইনের ভিডিওতে ভিভিয়ানের সঙ্গী ডিইএসআই ৮৪ নামের একটি রোবট। দৈনন্দিন কাজে মানুষকে সহযোগিতা করার জন্য তৈরি এই রোবটকে ভিভিয়ান এমন সব পরিস্থিতিতে ফেলেন, যেসব কাজের জন্য তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। ফলে একপর্যায়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে রোবটটির সীমাবদ্ধতা। রোবটকে ঘিরে এই মজার ও ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনাই মূলত এআই ও রোবটিকসের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেয়।

বিজ্ঞাপন

এআই প্রতিভাবানদের কাজ কেড়ে নিচ্ছে

পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক ই-মেইল সাক্ষাৎকারে ভিভিয়ান জানান, ডিজিগুয়ালের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হওয়ার অন্যতম কারণ ব্র্যান্ডটির প্রাণবন্ত ও কিছুটা ম্যাক্সিমালিস্ট নান্দনিকতা। সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি খুবই উচ্চাভিলাষী, যেটি আমি পছন্দ করি, বলেন তিনি।

ভিভিয়ানের ভাষায়, এআই প্রতিভাবান সৃজনশীল মানুষদের কাজ কেড়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর
ভিভিয়ানের ভাষায়, এআই প্রতিভাবান সৃজনশীল মানুষদের কাজ কেড়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর
শিল্পের সঙ্গে মানুষের আবেগের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি
শিল্পের সঙ্গে মানুষের আবেগের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি

তবে শুধু ফ্যাশনের কারণেই এই প্রচারে যুক্ত হননি ভিভিয়ান। এআই কীভাবে ফ্যাশন ও সৃজনশীল শিল্পকে প্রভাবিত করছে, সে বিষয়েও নিজের অবস্থান জানাতে চেয়েছেন তিনি। ভিভিয়ানের ভাষায়, এআই প্রতিভাবান সৃজনশীল মানুষদের কাজ কেড়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। শিল্পের সঙ্গে মানুষের আবেগের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর মতে, শিল্প হলো অভিব্যক্তির মাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশ। অনুভূতি যেহেতু মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য, তাই এআই শিল্পের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যকে সরিয়ে দেয় এবং তার জায়গায় চৌর্যবৃত্তি করা রং ও আকৃতি বসিয়ে দেয়।’

২০২০ সালে নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে প্রকাশ করেন ভিভিয়ান। নিজেকে বরাবরই স্পষ্টভাষী মনে করেন ভিভিয়ান।

২০২০ সালে নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে প্রকাশ করেন ভিভিয়ান
২০২০ সালে নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে প্রকাশ করেন ভিভিয়ান
মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করলে সমালোচনামূলক চিন্তার ভিত্তি আরও শক্ত হয়
মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করলে সমালোচনামূলক চিন্তার ভিত্তি আরও শক্ত হয়

নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করলে সমালোচনামূলক চিন্তার ভিত্তি আরও শক্ত হয়। কারণ এতে আপনি কেন এবং কীভাবে কোনো বিশ্বাস ধারণ করেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য হন, বলেন ভিভিয়ান।

পোশাকেও প্রচলিত ধারার বাইরে

ভিভিয়ানের ব্যক্তিগত ফ্যাশনেও রয়েছে একই ধরনের বিদ্রোহী মনোভাব। অতিরিক্ত কেনাকাটা বা ভোগবাদী ফ্যাশনের দিকে না গিয়ে পুরোনো পোশাক ও নানা উপকরণকে নতুনভাবে ব্যবহার করে নিজের স্টাইল তৈরি করতে পছন্দ করেন তিনি। নিজের ফ্যাশন অনুপ্রেরণা হিসেবে ড্র্যাগ কুইন, অটিস্ট, স্টোনার ও প্রচলিত সামাজিক মানদণ্ডের বাইরে থাকা নানা ধরনের মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন ভিভিয়ান।

ভিভিয়ানের কাছে ফ্যাশন মানে শুধু নতুন পোশাক কেনা বা চলতি ট্রেন্ড অনুসরণ করা নয়
ভিভিয়ানের কাছে ফ্যাশন মানে শুধু নতুন পোশাক কেনা বা চলতি ট্রেন্ড অনুসরণ করা নয়

পোশাক নিয়ে তাঁর পরামর্শও বেশ সহজ। নিজের পোশাক নিজেই বদলে নেওয়ার কৌশল শিখুন। একটি স্কার্ফকে ব্যাগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, পুরোনো সোয়েটশার্ট ছোট করে নিতে পারেন। পোশাকে নতুন কিছু যোগ করে নিজেকেই চ্যালেঞ্জ দিন, বলেন তিনি। ঘরে পড়ে থাকা পুরোনো একটি বিনি টুপিকেও নতুনভাবে পোশাকের সঙ্গে ব্যবহার করা যায় বলে মনে করেন ভিভিয়ান। সঙ্গে যোগ করা যেতে পারে পিন, ছোটখাটো শৌখিন জিনিস, স্মারক কিংবা নানা ধরনের সংগ্রহ করা উপকরণ। অর্থাৎ ভিভিয়ানের কাছে ফ্যাশন মানে শুধু নতুন পোশাক কেনা বা চলতি ট্রেন্ড অনুসরণ করা নয়। পুরোনো জিনিসকে নতুনভাবে ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিত্ব ও সৃজনশীলতা প্রকাশ করাও তাঁর ফ্যাশন ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর সেই ভাবনার সঙ্গেই যেন মিলে যায় তাঁর প্রচারণার মূলমন্ত্র বর্ন টু ডিসওবে বা অবাধ্য হতে জন্মেছি।

সূত্র: পিপলস ম্যাগাজিন

ছবি: ইন্সটাগ্রাম

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ৩৮
বিজ্ঞাপন