জেফ্রি এপস্টেইন কত টাকার ধনসম্পদ রেখে গিয়েছেন? গার্লফ্রেন্ড কারিনাসহ কে কী পেলেন?
শেয়ার করুন
ফলো করুন

এপস্টেইন ফাইলস নিয়ে তোলপাড় থামছেই না। ফেঁসে যাচ্ছেন বিশ্বের বিখ্যাত সব লোক। তবে একটি কথা সবাই বুঝতে পারছে। কুখ্যাত এই প্রয়াত মার্কিন জেফ্রি এপস্টেইনের সকল কুকর্মের মূলেই ছিল অর্থের লোভ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত কত টাকার ধনসম্পদ রেখে গেলেন জেফ্রি এপস্টেইন?

এপস্টেইনের মোট সম্পদের মূল্য ছিল আনুমানিক ৫৭৮ মিলিয়ন থেকে ৬৩০ মিলিয়ন ডলার
এপস্টেইনের মোট সম্পদের মূল্য ছিল আনুমানিক ৫৭৮ মিলিয়ন থেকে ৬৩০ মিলিয়ন ডলার

তাঁর সাম্প্রতিক গার্লফ্রেন্ড কারিনাই পেয়েছেন সিংহভাগ। এছাড়া আর কাকে কত দিয়ে গিয়েছেন এপস্টেইন? জানা যায়, ২০১৯ সালের আগস্টে মৃত্যুর সময় জেফ্রি এপস্টেইনের মোট সম্পদের মূল্য ছিল আনুমানিক ৫৭৮ মিলিয়ন থেকে ৬৩০ মিলিয়ন ডলার। এই সম্পদের মধ্যে ছিল নগদ অর্থ, বিভিন্ন বিনিয়োগ এবং বিলাসবহুল সম্পত্তি—যার মধ্যে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দুটি দ্বীপ, নিউ মেক্সিকোতে একটি র‍্যাঞ্চ ও নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে একটি বিশাল প্রাসাদ উল্লেখযোগ্য।

বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, এপস্টেইনের মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগে, এই বিপুল সম্পদ একটি গোপন ট্রাস্টে স্থানান্তর করা হয়, যার নাম ছিল “দ্য ১৯৫৩ ট্রাস্ট”। শুরুতে এই অর্থ ৪৩ জন মনোনীত ব্যক্তির মধ্যে বণ্টনের পরিকল্পনা ছিল। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াই, ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ এবং কর পরিশোধের কারণে এপস্টেইনের প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ ব্যাপকভাবে কমে যায়। তাহলে বাস্তবতা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত এই অর্থের বড় অংশই গেছে ভুক্তভোগীদের কাছে, ব্যক্তিগত উত্তরাধিকারীদের হাতে নয়।

অর্থের বড় অংশই গেছে ভুক্তভোগীদের কাছে, ব্যক্তিগত উত্তরাধিকারীদের হাতে নয়
অর্থের বড় অংশই গেছে ভুক্তভোগীদের কাছে, ব্যক্তিগত উত্তরাধিকারীদের হাতে নয়


কে কে এপস্টেইনের রেখে যাওয়া টাকা ও সম্পত্তি পেয়েছেন

ভুক্তভোগীরা (প্রধান প্রাপক)

এপস্টেইনের সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশ গেছে তার নির্যাতনের অভিযোগ করা নারীদের কাছে। বিশেষ একটি ক্ষতিপূরণ কর্মসূচির মাধ্যমে ১৩৫ জনের বেশি নারীকে মোট ১৭০ মিলিয়নের বেশি ডলার দেওয়া হয়েছে।

ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডস সরকার

এপস্টেইনের প্রতিষ্ঠানগুলো যৌন পাচারে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কর–সংক্রান্ত অনিয়ম হয়েছে, এই অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য তার এস্টেট ১০৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে।

এস্টেট পরিচালনা ও আইনি খরচ

আইনজীবীর ফি এবং বিভিন্ন সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের পেছনেও বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কারা ছিলেন উত্তরাধিকারী বা সুবিধাভোগী

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত নথিতে জানা যায়, এপস্টেইন তার সম্পদ ৪৩ জনের মধ্যে বণ্টনের পরিকল্পনা করেছিলেন। এদের অনেকেই ছিলেন তার কর্মচারী। যেমন গৃহকর্মী ও ব্যক্তিগত পাইলটরা। ১৯৫৩ ট্রাস্টে উল্লেখযোগ্য নামগুলো ছিল:

কারিনা শুলিয়াক

এপস্টেইনের প্রেমিকা হিসেবে পরিচিত। তাকে প্রধান সুবিধাভোগী করা হয়। তার জন্য নির্ধারিত ছিল ১০০ মিলিয়ন ডলার (নগদ অর্থ ও অ্যানুইটি মিলিয়ে) এবং এপস্টেইনের সব সম্পত্তি।

কারিনা শুলিয়াক এপস্টেইনের প্রেমিকা হিসেবে পরিচিত
কারিনা শুলিয়াক এপস্টেইনের প্রেমিকা হিসেবে পরিচিত

ড্যারেন ইন্ডাইক

এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত আইনজীবী। তার জন্য নির্ধারিত ছিল ৫০ মিলিয়ন ডলার।

রিচার্ড কাহন

দীর্ঘদিনের হিসাবরক্ষক। বরাদ্দ ছিল ২৫ মিলিয়ন ডলার।

এপস্টেইনের ভাই। তাঁর সন্তানদের জন্য ট্রাস্টে রাখার উদ্দেশ্যে ১০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা ছিল।
এপস্টেইনের ভাই। তাঁর সন্তানদের জন্য ট্রাস্টে রাখার উদ্দেশ্যে ১০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা ছিল।

মার্ক এপস্টেইন

এপস্টেইনের ভাই। তাঁর সন্তানদের জন্য ট্রাস্টে রাখার উদ্দেশ্যে ১০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা ছিল।

গিসালিন ম্যাক্সওয়েল

এপস্টেইনের বহু বছরের গার্লফ্রেন্ড ও দণ্ডিত সহযোগী। তার জন্যও ১০ মিলিয়ন ডলার উল্লেখ ছিল।

অন্যান্য

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতবিদ মার্টিন নাওয়াকসহ আরও কয়েকজনের নাম তালিকায় ছিল (নাওয়াকের জন্য ৫ মিলিয়ন ডলার)।

২০২৫–২০২৬ সালে অর্থের অবস্থা

যদিও এই ব্যক্তিদের নাম সুবিধাভোগী হিসেবে ছিল, তবু পুরো অর্থ তারা পাবেন এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

‘১৯৫৩ ট্রাস্ট’ মূলত একটি পোর-ওভার ট্রাস্ট, অর্থাৎ সব ঋণ, মামলা ও আইনি দাবি নিষ্পত্তির পরেই কেবল অর্থ বণ্টন করা হবে।

২০২৫ সালের মধ্যে এপস্টেইনের এস্টেট নেমে আসে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলারে। তবে পরে ১১২ মিলিয়ন ডলারের কর ফেরত পাওয়ায় ২০২৫ সালের মার্চ নাগাদ মোট সম্পদ আবার বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৩১ থেকে ১৪৫ মিলিয়ন ডলারে।

এস্টেটের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সব আইনি জটিলতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুবিধাভোগীদের অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এপস্টেইনের প্রায় সব বড় সম্পত্তিই বিক্রি করা হয়েছে
এপস্টেইনের প্রায় সব বড় সম্পত্তিই বিক্রি করা হয়েছে

এপস্টেইনের সম্পত্তিগুলোর কী হয়েছে

এপস্টেইনের প্রায় সব বড় সম্পত্তিই বিক্রি করা হয়েছে। যেমন:

ম্যানহাটনের প্রাসাদ: বিক্রি হয়েছে প্রায় ৫১ মিলিয়ন ডলারে

পাম বিচের বাড়ি: বিক্রি হয়েছে ১৮.৫ মিলিয়ন ডলারে

ব্যক্তিগত দ্বীপ (লিটল সেন্ট জেমস ও গ্রেট সেন্ট জেমস): প্রাইভেট ইকুইটি ধনকুবের স্টিফেন ডেকঅফের কাছে বিক্রি হয়েছে ৬০ মিলিয়ন ডলারে

জোরো র‍্যাঞ্চ (নিউ মেক্সিকো): ২০২৩ সালের আগস্টে বিক্রি হয় (মূল্য প্রকাশ করা হয়নি)

প্যারিসের অ্যাপার্টমেন্ট: বিক্রি হয়েছে আনুমানিক ১০ মিলিয়ন ডলারে

পাপের ধন আসলে প্রায়শ্চিত্তেই যায়। জেফ্রি এপস্টেইন অর্থের লোভেই মানুষ থেকে পিশাচে পরিণত হয়েছিল। মানবতার সকল সীমা পার করেছিল। গড়ে তুলেছিল; বিশাল ধনরাশি। আর এখন তিনিও নেই। আর তাঁর এই ধনসম্পদ তার বা তার কাছের লোকদের কোনো কাজে আসল না।

তথ্যসূত্র: ফোর্বস

ছবি: ইন্সটাগ্রাম

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬: ০০
বিজ্ঞাপন