নাম-পরিচয় নিয়ে ট্রাম্পের ঠাট্টার পর ইতিহাস গড়লেন আবদুল আল-সাইদ, দেখুন নবনির্বাচিত মুসলিম সিনেটরের জীবনের ১০টি জানা-অজানা তথ্য
শেয়ার করুন
ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ। দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা মন্তব্য, বিশেষ করে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আক্রমণ এবং নামের উচ্চারণ নিয়ে ঠাট্টা তাঁকে আলোচনায় রেখেছিল। তবে রাজনীতির বাইরেও তাঁর পরিচয় বেশ বৈচিত্র্যময়। মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান আল-সাইদ পড়াশোনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। খেলাধুলা, লেখালেখি ও পডকাস্টের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন আল-সাইদ। তাঁর জীবন ও পরিবার নিয়ে ১০টি তথ্য জেনে নিন এবারে।

মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান

১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে জন্ম আবদুল আল-সাইদের। তাঁর বাবা-মা দুজনই মিসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়েছিলেন। বাবা মোহাম্মদ আল-সাইদ পেশায় অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ার ও সাবেক অধ্যাপক। ছোটবেলায় মা-বাবার বিচ্ছেদ হলে বাবার কাছেই বড় হন আবদুল। তাঁর বেড়ে ওঠা মিশিগানের ডেট্রয়েট অঞ্চলে।

বিজ্ঞাপন

পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও আগ্রহ

ছাত্রজীবন থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ছিল আবদুলের। স্কুলে ল্যাক্রস, রেসলিং ও ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন। পরে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে জীববিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। সেখানেও ল্যাক্রস দলের সদস্য ছিলেন। ২০০৭ সালে সর্বোচ্চ সম্মানসহ স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি।

অক্সফোর্ডে রোডস বৃত্তি পেয়েছিলেন

২০০৯ সালে মর্যাদাপূর্ণ রোডস বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান আবদুল। সেখানে জনস্বাস্থ্যে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাক্রস দলের অধিনায়কত্বও করেছেন। খেলাধুলায় অসামান্য অবদানের জন্য অক্সফোর্ডের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান ‘ফুল ব্লু’ অর্জন করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

শিক্ষাজীবনে চিকিৎসাবিদ্যার প্রতিও আগ্রহ ছিল তাঁর। ২০১৪ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগে শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে কাজ করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল জনস্বাস্থ্য, রোগের বিস্তার এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য।

ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন

রাজনীতিতে আসার আগে জনস্বাস্থ্য খাতেই কাজ করেছেন আবদুল। ২০১৫ সালে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। শহরের স্বাস্থ্য বিভাগ পুনর্গঠন ও জনস্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করেন তিনি। পরে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের পরিচালক এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পরিচয় থেকে বিয়ে

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সারাহ জুকাকুর সঙ্গে পরিচয় হয় আবদুলের। দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, এরপর ২০০৬ সালের মে মাসে বিয়ে করেন তাঁরা। দীর্ঘ দুই দশকের দাম্পত্য জীবনে একে অপরের পড়াশোনা, পেশা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে পাশে থেকেছেন।

স্ত্রী সারাহ ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক

আবদুলের স্ত্রী ডা. সারাহ জুকাকু পেশায় একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উপকূলীয় শহর ভাটকাল। সারাহর বাবা ডা. তাইয়েব জুকাকু একজন কিডনি বিশেষজ্ঞ। তাঁর দাদা জুকাকু শামসুদ্দিন ছিলেন আইনজীবী ও তৎকালীন মহীশূর রাজ্যের অর্থবিষয়ক উপমন্ত্রী। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান ও নিয়ার ইস্ট স্টাডিজে পড়েছেন সারাহ। পরে অক্সফোর্ড ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়াশোনা করেন।

দুই মেয়েকে নিয়ে তাঁদের সংসার

আবদুল ও সারাহর দুই মেয়ে, এমেলি ও সেরিন। পরিবার নিয়ে মিশিগানের অ্যান আরবারে বসবাস করেন তাঁরা। নির্বাচনী প্রচারণায় স্ত্রী ও মেয়েদের সঙ্গে আবদুলের উপস্থিতি দেখা গেছে। তবে ব্যক্তিগত জীবন সাধারণত প্রচারের আড়ালেই রাখতে পছন্দ করেন এই দম্পতি।

লেখক ও পডকাস্ট উপস্থাপক

রাজনীতির পাশাপাশি লেখালেখি ও গণমাধ্যমেও কাজ করেছেন আবদুল। তাঁর উল্লেখযোগ্য বই ‘হিলিং পলিটিকস’। চিকিৎসক মাইকা জনসনের সঙ্গে লিখেছেন ‘মেডিকেয়ার ফর অল: আ সিটিজেনস গাইড’। এ ছাড়া ‘আমেরিকা ডিসেক্টেড’ নামের পডকাস্টের উপস্থাপক ছিলেন তিনি। সেখানে জনস্বাস্থ্য, রাজনীতি ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ভালো কফি, খাবার ও ফুটবল তাঁর পছন্দ

ব্যক্তিগত পছন্দের কথা বলতে গিয়ে আবদুল জানিয়েছেন, ভালো মানুষের সঙ্গ, ভালো কফি, সুস্বাদু খাবার এবং মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল তাঁর বেশ পছন্দের। স্ত্রী সারাহর পরিবারের সঙ্গে দক্ষিণ ভারতীয় সংস্কৃতিরও ঘনিষ্ঠ পরিচয় রয়েছে তাঁর। এক সাক্ষাৎকারে মজা করে বলেছিলেন, দক্ষিণ ভারতীয় পরিবারে ২০ বছর কাটানোর পর নিজেকে কখনো কখনো আরবের চেয়ে বেশি ভারতীয় মনে হয়।

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৩: ৫৬
বিজ্ঞাপন