
দশকের পর দশক ধরে বাণিজ্যিক বেকারিগুলো নিখুঁত রুটি তৈরির জন্য একটি রাসায়নিক শর্টকাট ব্যবহার করে আসছে। পটাশিয়াম ব্রোমেট নামের এই শক্তিশালী রাসায়নিকটি ময়দায় মেশানো হয় ডো বা খামিরের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে এবং রুটিকে আরও বেশি ফুলে উঠতে সাহায্য করতে।

এতে রুটি নরম ও তুলতুলে হয়, যা আমাদের অনেকেরই পছন্দ। তবে এই উপাদানের পেছনে লুকিয়ে আছে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, পটাশিয়াম ব্রোমেট মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে জড়িত। এ কারণে অনেক দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ইতোমধ্যে এটি নিষিদ্ধ করেছে।


ক্যানসারের ঝুঁকি
পটাশিয়াম ব্রোমেট নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো এটি ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত। আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা (IARC) এটিকে “গ্রুপ ২বি কার্সিনোজেন” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে, অর্থাৎ এটি মানুষের জন্য সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী।
গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষাগারে প্রাণীদের শরীরে পটাশিয়াম ব্রোমেট প্রয়োগ করলে তাদের শরীরে ক্যানসারজনিত টিউমার তৈরি হয়। বিশেষ করে কিডনি, থাইরয়েড এবং পেটের আস্তরণে ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। এই রাসায়নিক কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাই বিশেষজ্ঞদের মতে এর কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই।
কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি
পটাশিয়াম ব্রোমেট কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন এটি গ্রহণ করলে কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে, ফলে শরীর থেকে বর্জ্য ঠিকভাবে বের হতে বাধা সৃষ্টি হয়। সময়ের সঙ্গে এটি দীর্ঘমেয়াদি কিডনি জটিলতার কারণ হতে পারে।
এছাড়া এই রাসায়নিক শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে, যা কোষে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর ওপর চাপ ফেলে।

হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা
যদি রুটি ঠিকমতো বেক না করা হয় বা অতিরিক্ত পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহার করা হয়, তাহলে এর কিছু অংশ রুটিতে থেকে যেতে পারে। তখন এটি খেলে তাৎক্ষণিক শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এর ফলে হতে পারে:
বমি বমি ভাব ও বমি
তীব্র পেটব্যথা
ডায়রিয়া
স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব
দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে স্নায়ুতন্ত্রেও প্রভাব পড়তে পারে। যেমন:
মাথাব্যথা
অতিরিক্ত ক্লান্তি
মনোযোগ কমে যাওয়া
চিন্তাভাবনার গতি ধীর হয়ে যাওয়া
গুরুতর ক্ষেত্রে স্থায়ী শ্রবণশক্তি হারানোর ঘটনাও দেখা গেছে।

পটাশিয়াম ব্রোমেট সবসময় সরাসরি আলাদা উপাদান হিসেবে প্যাকেটের গায়ে লেখা নাও থাকতে পারে। আর আমাদের দেশে তো লেবেলের বালাই-ই নেই বেশিভাগ জায়গায়। সম্ভব হলে খোঁজ নিয়ে এমন বেকারি থেকে রুটি নিন, যারা রাসায়নিকের বদলে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে ডো ফুলিয়ে রুটি তৈরি করে।
সূত্র: হেলথলাইন
ছবি: পেকজেলস