লিভারের সুস্থতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন? আগে থেকেই নিয়মিত এই ১০ খাবার না খেলে হতে পারে বিপদ
শেয়ার করুন
ফলো করুন

মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হলো লিভার বা যকৃৎ।  এই অঙ্গটি আমাদের শরীরকে বিষাক্ত উপাদান থেকে রক্ষা করে, খাবার হজমে সহায়তা করে, শক্তি সঞ্চয় করে এবং রক্ত পরিষ্কার রাখে। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার, স্ট্রিট ফুড ও জাঙ্ক ফুডের প্রতি আসক্তি ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করে এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ফ্যাটি লিভার, লিভার ইনফ্লামেশন,লিভার ফেইলর ও লিভার সিরোসিসের মতো সমস্যাগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। এর বড় একটি কারণ অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস।

নিয়মিত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার ফলে  ধীরে ধীরে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যেতে থাকে।
নিয়মিত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার ফলে ধীরে ধীরে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যেতে থাকে।

যেভাবে স্ট্রিট ফুড ও জাঙ্ক ফুড লিভারের ক্ষতি করে

রাস্তার পাশের মুখরোচক খাবার কিংবা প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড দেখতে ও খেতে যতই আকর্ষণীয় হোক, এগুলোর বেশিরভাগেই থাকে অতিরিক্ত ট্রান্স ফ্যাট, নিম্নমানের তেল, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও কৃত্রিম স্বাদবর্ধক উপাদান।

একই তেল বারবার ব্যবহার করে ভাজা খাবারে তৈরি হয় ক্ষতিকর টক্সিন, যা লিভারের কোষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত কোমল পানীয়, বার্গার, ফ্রাইড চিকেন, চিপস বা প্রসেসড মাংস শরীরে চর্বি জমাতে সাহায্য করে। ফলে লিভারে ফ্যাট জমে তৈরি হয় নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ। অন্যদিকে অতিরিক্ত চিনি ও ফ্রুক্টোজ লিভারে গিয়ে চর্বিতে রূপ নেয়। নিয়মিত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার ফলে শরীরে প্রদাহ বাড়ে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যেতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ওষুধ নয়, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই পারে লিভারকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে। চলুন জেনে নেই লিভারের সুরক্ষায় কোন খাবারগুলো উপকারী- 

১. রসুন

রসুনে থাকা সালফার যৌগ লিভারের বিষাক্ত উপাদান বের করতে সহায়তা করে। এটি লিভারের এনজাইম সক্রিয় করতেও সাহায্য করে।

রসুনে থাকা সালফার যৌগ লিভারের বিষাক্ত উপাদান বের করতে সহায়তা করে
রসুনে থাকা সালফার যৌগ লিভারের বিষাক্ত উপাদান বের করতে সহায়তা করে
ব্ল্যাক কফি লাভারদের জন্য সুখবর আছে
ব্ল্যাক কফি লাভারদের জন্য সুখবর আছে

২. কফি

ব্ল্যাক কফি লাভারদের জন্য সুখবর পরিমিত পরিমাণে চিনি ছাড়া কফি লিভারের প্রদাহ কমাতে সহায়ক। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কফি পান লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি কমাতে পারে।

সবুজ সবজিতে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ক্লোরোফিল
সবুজ সবজিতে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ক্লোরোফিল

৩. সবুজ শাকসবজি

শাক কিংবা ব্রকলির মতো সবুজ সবজিতে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ক্লোরোফিল, যা লিভারকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

বিজ্ঞাপন

৪. হলুদ

হলুদের কারকিউমিন উপাদান লিভারের প্রদাহ কমাতে কার্যকর। এটি শরীরের বিষাক্ত উপাদান দূর করতেও সাহায্য করে।

হলুদের কারকিউমিন উপাদান লিভারের প্রদাহ কমাতে কার্যকর
হলুদের কারকিউমিন উপাদান লিভারের প্রদাহ কমাতে কার্যকর

৫. লেবু ও টকজাতীয় ফল

লেবু, মাল্টা ও কমলায় থাকা ভিটামিন সি লিভারের ডিটক্স প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে।

৬. গ্রিন টি

গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের চর্বি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

৭. বাদাম

কাঠবাদাম ও আখরোটে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ভিটামিন ই লিভারকে সুরক্ষা দেয়।

৮. ওটস

ওটসে থাকা আঁশ হজম ভালো রাখে এবং শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমা কমাতে সাহায্য করে।

৯. জলপাই তেল

স্বাস্থ্যকর ফ্যাটসমৃদ্ধ জলপাই তেল লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সহায়ক।

১০. চর্বিযুক্ত সামুদ্রিক মাছ

স্যামন, টুনা বা সারডিনের মতো মাছের ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

লিভার ভালো রাখতে যেসব অভ্যাস জরুরি

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা। 

অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা। 

কোমল পানীয় কম পান করা বা এড়িয়ে চলা। 

নিয়মিত শরীরচর্চা করা। 

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। 

পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা। 

অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন না করা। 

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে

শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশকে সুস্থ রাখতে এখনই সচেতন হওয়া জরুরি। কারণ লিভার একবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পড়ে পুরো শরীরে। তাই সুস্থ জীবনযাপনের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার বিকল্প নেই।

সূত্র: হেলথলাইন

ছবি: পেকজেলস

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০১: ৩১
বিজ্ঞাপন