
এখন আমের ভরা মৌসুম। দামেও সাশ্রয়ী। আম আমাদের লোভনীয় ফলের একটি। আমদুধ খাওয়া একসময় রেওয়াজ ছিল, এখন সেটা দেখা যায় না। আপনার জানা থাকা ভালো যে যবের ছাতু ও আম খাওয়া সাধারণত খুব স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর, এটি একটি চমৎকার স্মুদি। এটি গ্রীষ্মকালীন একটি জনপ্রিয় কম্বিনেশন, যা শরীরকে ঠান্ডা রাখে, হজমশক্তি বাড়ায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। আসুন জেনে নিই, আম–ছাতুর উপকারী দিকগুলো।

যবের ছাতু হলো যবকে ভেজে গুঁড়া করা। এতে প্রচুর আঁশ (দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়), প্রোটিন, ভিটামিন (বি ভিটামিন), খনিজ (আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম) ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট রয়েছে।
প্রধান উপকারিতা
• হজমশক্তির উন্নতি: উচ্চ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে।
• ওজন নিয়ন্ত্রণ: আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি রাখে, ক্ষুধা কমায় এবং মেটাবলিজম বাড়ায়।
• রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ: লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।
• হৃৎস্বাস্থ্য: বিটা-গ্লুকান কোলেস্টেরল কমায় এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।
• শক্তি ও কুলিং ইফেক্ট: গরমে শরীর ঠান্ডা রাখে, ইউটিআইয়ে সাহায্য করে এবং পুষ্টি সরবরাহ করে।

আম (বিশেষ করে পাকা আম) ভিটামিন এ, সি, ই, আঁশ, ফলেট, পটাশিয়াম ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট (ম্যাঙ্গিফেরিন, ক্যারোটিনয়েডস, পলিফেনল)–সমৃদ্ধ।
প্রধান উপকারিতা
• ইমিউনিটি বুস্ট: ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়।
• হজমশক্তি: আঁশ কোষ্টকাঠিন্য দূর করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে।
• ত্বক ও চোখের যত্ন: ভিটামিন এ ও সি ত্বক উজ্জ্বল করে এবং দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করে।
• হৃৎপিণ্ড ও ওজন ব্যবস্থাপনা: আঁশ কোলেস্টেরল কমায় এবং পূর্ণতার অনুভূতি দেয়।
• অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি: অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট প্রদাহ কমায় এবং ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করতে সাহায্য করতে পারে।

এই সমন্বয় ( স্মুদি বা মিশ্রণ) গরমে আদর্শ:
• সম্পূর্ণ পুষ্টি: প্রোটিন, আঁশ, ভিটামিনের ভালো মিশ্রণ।
• এনার্জি ও স্যাচুরেশন: দীর্ঘক্ষণ শক্তি দেয়, ক্ষুধা কমায় এবং ওজন কমানোর জন্য ভালো।
• হজম ও কুলিং: উভয়ই হজমকে সহজ করে এবং গরমে শরীর ঠান্ডা রাখে।
• ডায়াবেটিসবান্ধব: আঁশের কারণে ব্লাড সুগার স্পাইক কম হয় (তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন)।
১ গ্লাস পানি
২ টেবিল চামচ ছাতু
১টা আম
দুধ ঐচ্ছিক
১ গ্লাস পানিতে যবের ছাতু ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পর ছাতু ফুলে উঠবে, তারপর সেই ভেজানো ছাতু ব্লেন্ডারে ঢেলে দিন, তাতে একটি আমের খোসা ছাড়িয়ে কেটে দিন। তারপর ব্লেন্ড করুন, এরপর আরও একগ্লাস পানি মিশিয়ে ব্লেন্ড করুন। হয়ে গেল ছাতু ও আমের স্মুদি। এতে আপনি দুধ মেশাতে চাইলে ব্লেন্ডিং শেষে যে পানি দেওয়া হয়েছে, তার পরিবর্তে দুধ দিন। দুধ–ছাতু–আম শিশুদের জন্য ভালো। বড়দের জন্য আম–ছাতু ভালো।
যবের ছাতু স্বাস্থ্যকর কার্ব হওয়ার কারণে এটি রাতের খাবারেও খেতে পারেন। আম ও ছাতুর কারণে ঘুম ভালো হবে। শিশুদের দুধ মিশিয়ে রাতে খেতে দিন। স্বাস্থ্যকর স্মুদি শিশুদের বাড়ন্ত অবস্থায় ভালো কাজ করবে। বিশেষ করে পেট ভালো থাকবে।
• যবের ছাতু: অতিরিক্ত খেলে গ্যাস বা পেট ফাঁপা হতে পারে (ধীরে ধীরে শুরু করুন)। গ্লুটেন-সেনসিটিভ হলে সতর্কতা অবলম্বন করুন (যব সাধারণত গ্লুটেন-ফ্রি নয়)।
• আম: পাকা আমে প্রাকৃতিক চিনি বেশি, ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমাণ বুঝে খান। অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়তে পারে বা অ্যালার্জি হতে পারে।
পরামর্শ: প্রতিদিন ২ থেকে ৪ টেবিল চামচ যবের ছাতু এবং ১টি মাঝারি আম যথেষ্ট। তাজা, অর্গানিক উপাদান ব্যবহার করুন। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে খান।
আম ও ছাতুর এ সমন্বয় ঐতিহ্যবাহী এবং বিজ্ঞানসম্মতভাবে উপকারী। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে এটি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে! যে কদিন আম পাওয়া যাবে, এটা নিয়মিত খেতে পারেন। শিশুদের নিয়মিত খাওয়াতে পারেন যেকোনো বেলার খাবার হিসেবে।
লেখক: খাদ্য ও পথ্য বিশেষজ্ঞ প্রধান নিবার্হী, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র
ছবি: পেকেজেলসডটকম