
জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের হেপাটাইটিস এ ও ই-তে আক্রান্ত হয়ে লিভার ফেল করে বেদনাদায়ক অকালমৃত্যুর পর হেপাপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত হয়েছেন আরেক তারকা ডিজে সনিকা। সামাজিক মাধ্যমে এই খবর এখন বেশ আলোচনায়। একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ও সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন সনিকা। জনমনেও এখন এ নিয়ে চলছে আতঙ্ক। চলুন জেনে নিই জীবনযাপনে কী কী সতর্কতা জরুরি এ থেকে বাঁচতে।

হেপাটাইটিস এ হলো লিভারের একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। এটি সাধারণত দূষিত খাবার বা পানি খাওয়ার মাধ্যমে ছড়ায়। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, বিশেষ করে যেখানে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ঘাটতি আছে, সেখানে এই রোগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগী কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন, তবে কিছু ক্ষেত্রে জটিলতাও হতে পারে।
হেপাটাইটিস এ হলে কী হয়?
এই ভাইরাস লিভারে সংক্রমণ ঘটায়। শুরুতে অনেক সময় সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন—
জ্বর
দুর্বল লাগা
বমি বমি ভাব বা বমি
ক্ষুধামন্দা
পেটের ডান পাশে ব্যথা
শরীর ও পেশিতে ব্যথা

পরবর্তীতে অনেকের ক্ষেত্রে জন্ডিস দেখা দেয়। তখন চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যায়, প্রস্রাব গাঢ় রঙের হয় এবং পায়খানার রঙ ফ্যাকাসে হতে পারে। শিশুদের মধ্যে অনেক সময় উপসর্গ কম থাকে, কিন্তু বড়দের ক্ষেত্রে অসুস্থতা বেশি তীব্র হতে পারে।
হেপাটাইটিস এ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগ তৈরি করে না। তবে বয়স্ক ব্যক্তি বা আগে থেকে লিভারের রোগ থাকলে জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কীভাবে ছড়ায়?

এই ভাইরাস মূলত “ফিকাল-ওরাল” পথে ছড়ায়। অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তির মল থেকে ভাইরাস খাবার, পানি বা হাতের মাধ্যমে অন্যের শরীরে চলে যায়। বিশেষ করে—
অপরিষ্কার পানি পান করলে
রাস্তার অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে
টয়লেট ব্যবহারের পর ঠিকভাবে হাত না ধুলে
অপরিষ্কার রান্নাঘর বা বাসন ব্যবহার করলে
সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
বাঁচতে কী কী নিয়ম মানতে হবে?
১. নিরাপদ পানি পান করুন
ফোটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে গেলে বোতলজাত নিরাপদ পানি ব্যবহার করা ভালো।
২. হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ুন
খাওয়ার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া জরুরি।
৩. খাবারের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করুন
রাস্তার খোলা খাবার, অপরিষ্কার ফল বা কাঁচা খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। ফল খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
৪. টয়লেট ও রান্নাঘর পরিষ্কার রাখুন
বাসা বা রেস্তোরাঁ—সব জায়গায় স্যানিটেশন ঠিক রাখা জরুরি। রান্নার সময় পরিষ্কার বাসন ও নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে হবে।
৫. টিকা নেওয়া যেতে পারে
হেপাটাইটিস এ প্রতিরোধে কার্যকর টিকা রয়েছে। শিশু, ভ্রমণকারী বা ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে টিকা নেওয়া উপকারী হতে পারে।

কী কী বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে?
যদি কারও হেপাটাইটিস এ হয়, তাহলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রচুর পানি পান করতে হবে। লিভারের ওপর চাপ পড়ে এমন খাবার বা অভ্যাস এড়িয়ে চলা জরুরি।
একই সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে, যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়।
হেপাটাইটিস এ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় উপায় হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন ও নিরাপদ খাবার-পানির অভ্যাস গড়ে তোলা। সচেতনতা থাকলে এই রোগ থেকে অনেকটাই নিরাপদ থাকা সম্ভব।
সূত্র: হেলথলাইন
ছবি: ইন্সটাগ্রাম ও পেকজেলস