
বিশেষ করে যারা দীর্ঘসময় বাইরে কাজ করেন, পর্যাপ্ত পানি পান করেন না বা আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস কিংবা হৃদরোগে ভুগছেন। তাদের জন্য গরমের এই সময়টি হতে পারে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

অতিরিক্ত গরমে শরীর ঘামের মাধ্যমে দ্রুত পানি হারায়। কিন্তু সেই ঘাটতি পূরণ না হলে শরীরে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এতে রক্ত ঘন হয়ে যেতে শুরু করে এবং সহজে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এই জমাট রক্ত যদি মস্তিষ্কে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তপ্রবাহে বাধা দেয়, তাহলে হতে পারে ইস্কেমিক স্ট্রোক। যা সবচেয়ে সাধারণ ধরনের স্ট্রোক হিসেবে পরিচিত।
গরমের সময় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হৃদযন্ত্রকেও বেশি কাজ করতে হয়। ফলে রক্তনালি প্রসারিত হয় এবং রক্তচাপ ওঠানামা করতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তি বা দীর্ঘদিনের রোগীদের ক্ষেত্রে এটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

গরমে দুর্বল লাগা বা মাথা ঘোরা অনেকেই সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু কিছু উপসর্গ স্ট্রোকের প্রাথমিক সংকেতও হতে পারে। যেমন–
* শরীরের এক পাশ হঠাৎ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া
* কথা জড়িয়ে যাওয়া বা স্পষ্টভাবে কথা বলতে না পারা
* তীব্র মাথাব্যথা
* চোখে ঝাপসা দেখা
* হঠাৎ ভারসাম্য হারানো
* বিভ্রান্তি বা অতিরিক্ত মাথা ঘোরা
এ ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় কিছু মানুষ তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। যেমন–
* বয়স্ক ব্যক্তি
* উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষ
* রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক বা রোদে কাজ করা মানুষ
* যারা কম পানি পান করেন
* আগে স্ট্রোক বা হৃদরোগ হয়েছে এমন ব্যক্তি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমে সুস্থ থাকার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিয়মিত পানি পান করা। তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করা উচিত। পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ওরস্যালাইনের মতো পানীয় শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
চা, কফি বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বেশি খেলে শরীর আরও পানিশূন্য হয়ে যেতে পারে। তাই এগুলো সীমিত রাখাই ভালো।

দুপুরের তীব্র রোদে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়াই ভালো। বাইরে বের হলে হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক, ছাতা বা ক্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
যারা নিয়মিত উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের ওষুধ খান, তাদের গরমের সময়ে বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ কিছু ওষুধ শরীরের পানির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
অতিরিক্ত গরমকে শুধু মৌসুমি অস্বস্তি ভেবে অবহেলা না করে এখন থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি। কারণ সময়মতো সতর্কতা ও পর্যাপ্ত পানি পানই অনেক বড় ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।
সূত্র: হেলথলাইন
ছবি: এআই