
একটি টক শোতে স্বামী জ্যাকি ভগনানির সঙ্গে হাজির হয়ে রাকুল প্রীত সিং জানান, জিমে ৮০ কেজি ওজন নিয়ে ডেডলিফট করার সময় তিনি সেফটি বেল্ট ব্যবহার করেননি। সাধারণত তিনি কখনোই এই ব্যায়াম বেল্ট ছাড়া করতেন না। কিন্তু সেদিনের সেই ভুল সিদ্ধান্তই তার জীবনে নিয়ে আসে দীর্ঘ ভোগান্তি।
রাকুলের ভাষায়, ডেডলিফট অনেক সময় ‘ইগো লিফট’-এ পরিণত হয়। নিজের সক্ষমতা প্রমাণের তাড়নায় অনেকেই শরীরের সীমা অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। তার ক্ষেত্রেও ঘটেছিল তেমনই কিছু। ফলস্বরূপ মেরুদণ্ডে ‘স্লিপ ডিস্ক’ সমস্যা দেখা দেয় এবং টানা ৪০ দিন তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়।
তবে এই সময়ের চ্যালেঞ্জ শুধু শারীরিক ছিল না। সবসময় কর্মব্যস্ত ও অ্যাকটিভ লাইফস্টাইলে অভ্যস্ত রাকুল হঠাৎ করে নিজের স্বাভাবিক কাজগুলোও করতে পারছিলেন না। এই পরিবর্তন তাকে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত করে তোলে। তিনি জানান, শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি অসহায়ত্বের অনুভূতিও তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
এই কঠিন সময়টিতে তার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন স্বামী জ্যাকি ভগনানি। রাকুল বলেন, জীবনের সংকটময় মুহূর্তে একজন সঙ্গীর সমর্থন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তিনি এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করেছেন। পুরো সুস্থ হওয়ার পথচলায় জ্যাকি তার পাশে থেকেছেন এবং মানসিকভাবে সাহস জুগিয়েছেন।

আঘাতের কারণে তীব্র ব্যথা, চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা এবং স্নায়ুজনিত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দীর্ঘ বিশ্রাম এবং ধীরে ধীরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন।

রাকুল প্রীত সিংয়ের এই অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, শরীরচর্চা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, নিরাপত্তার বিষয়টি কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা মেনে চলাই সুস্থ ও নিরাপদ ফিটনেস চর্চার মূল চাবিকাঠি।