সকালের কফি শুধুই অভ্যাস নয়, হৃদযন্ত্রের জন্যও উপকারী
শেয়ার করুন
ফলো করুন

গবেষণা বলছে, সকালে নিয়মিত কফি পান হৃদযন্ত্র সুরক্ষিত রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবনের সম্ভাবনা বাড়ায়।সকালের শুরুটা অনেকের কাছেই এক কাপ কফি ছাড়া অসম্পূর্ণ। কফির  প্রথম চুমুক যেন শরীর ও মন দুটোকেই জাগিয়ে তোলে। এতদিন এটাকে আমরা শুধু অভ্যাস হিসেবেই দেখেছি। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, সকালের এই সাধারণ কফির কাপটি আমাদের হৃদয় ও দীর্ঘ জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত হতে পারে।সময়টাই আসল চাবিকাঠি।

কফি খাওয়ার উপকারিতা

শুধু কী পান করছি তার ওপর নয়, কখন পান করছি তার ওপরও নির্ভর করে। এক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা ভোর চারটা থেকে দুপুর বারোটার মধ্যে কফি পান করেন, তাঁদের মধ্যে স্বাস্থ্যগত সুফল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। প্রায় দশ বছর ধরে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা যায়, সকালের কফি পানকারীদের মোট মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ১৬ শতাংশ কম। পাশাপাশি হৃদরোগ জনিত মৃত্যুঝুঁকি কমেছে প্রায় ৩১ শতাংশ।এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যাই নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি ছোট অভ্যাসের বড় প্রভাবের প্রমাণ।

কফির ভেতরের বিজ্ঞান

কফি মানেই শুধু ক্যাফেইন নয়। এর ভেতরে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ কমাতে সহায়ক বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান। এগুলো হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে, শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং মেটাবলিজমকে সক্রিয় রাখে। দিনের শুরুতেই কফি শরীরে প্রবেশ করলে তার সুরক্ষামূলক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে। আমাদের শরীর একটি স্বাভাবিক জৈবিক ছন্দ মেনে চলে, যাকে সার্কাডিয়ান রিদম বলা হয়। সকালে কফি পান করলে এই ছন্দের সঙ্গে শরীরের শক্তি উৎপাদন ও হরমোন নিঃসরণ প্রক্রিয়া ভালোভাবে মানিয়ে নেয়। এর ফলে শক্তি বাড়ে, হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং হৃদযন্ত্রের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ে না।

বিজ্ঞাপন

কতটুকু কফি যথেষ্ট

এখানে সংযমই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মাঝারি মাত্রায় কফি পান করলেই উপকার পাওয়া যায়। অতিরিক্ত কফি হৃদস্পন্দন বাড়াতে পারে, ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং উল্টো চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা ঘুমজনিত সমস্যা রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই ব্যক্তিগত সহনশীলতা ও চিকিৎসকের পরামর্শ বিবেচনায় রাখা উচিত।

জীবনের বড় পরিবর্তন সব সময় বড় সিদ্ধান্ত দিয়ে আসে না। কখনো কখনো সকালের এক কাপ কফিই হয়ে উঠতে পারে নিজের যত্ন নেওয়ার একটি সচেতন পদক্ষেপ। পরের বার কফির কাপ হাতে নিলে নিজেকে শুধু জাগানোর জন্য নয়, বরং হৃদয়কে সুস্থ রাখার কথা ভেবেই হয়তো সেই চুমুকটা আরও অর্থপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সূত্র: মাইন্ডবক্স

ছবি: এআই

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০১: ০০
বিজ্ঞাপন