
পাখির বাসায় খুঁজে পাওয়া প্রায় গোলাকৃতি বস্তুটি ফাটিয়ে বা খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া যেতে পারে এই বুদ্ধি যার মাথায় প্রথম এসেছিল, তাকে নিঃসন্দেহে খাদ্যে নোবেল দেওয়া উচিত। আগুন আবিষ্কারের পর খাদ্যজগতে ডিমের অন্তর্ভুক্তিই বোধ হয় সবচেয়ে যুগান্তকারী ব্যাপার। এরচেয়ে সর্বজনীন কোনো খাদ্যোপকরণ খুঁজে বের করা আসলেই অসম্ভব। ব্যাচেলর–জীবনের গরম ভাত বা খিচুড়ির সঙ্গী, মধ্যবিত্তের নিত্যদিন ঘুরিয়ে–ফিরিয়ে বিভিন্ন পদের প্রধান উপকরণ ডিম।

ফাইন ডাইনিংয়ের হলান্ডেইজ সস আর লেমন কার্ড হোক অথবা বেক করে বানানো কেক, পেস্ট্রি, পাই—ডিম তো লাগবেই। শিশুর প্রথম খাবারের অন্যতম ডিম। গর্ভবতীর স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যাবশ্যক ডিম। বাড়ন্ত আর শেষ বয়সে পড়ন্ত শরীরের জন্যও প্রয়োজন ডিম। আসলে ডিম সবার জন্য। পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে ডিম খাওয়া হয় না। দাম বাড়ুক আর কমুম, ডিমের কেনাবেচায় খুব হেরফের হয় না তাই।
বিশ্বব্যাপী কোয়েল থেকে শুরু করে উটপাখি বা এমুর ডিম খাওয়া হলেও সাধারণত মুরগির ডিমই বেশি প্রচলিত। হাঁসের ডিমও অবশ্য আমাদের দেশে জনপ্রিয়। খাদ্য হিসেবে ডিমের আছে নানা মাত্রা। এর চেয়ে সহজ, সুলভ আর সর্বজনীন খাবার মেলা ভার। তাই তো ডিম সবার, সব সময়ের জন্য। আর এই ডিম খাওয়া যায় নানাভাবে।

ডিমের কুসুমের এক আলাদা আবেদন রয়েছে। খেতেও স্বাদ বেশি। কিন্তু ডিমের সাদা অংশে রয়েছে বেশির ভাগ প্রোটিন। তবে কুসুম বাদ দিয়ে নয়; বরং সপ্তাহে তিনটি আস্ত ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন এখন চিকিৎসকেরা।
ডিমকে বলা হয় উর্বরতা শক্তির প্রতীক। গর্ভস্থ বা নবজাতকের পুষ্টি জোগাতে মাকে ডিম খেতে হবে। শিশুর প্রথম খাবারও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ডিম। ডেঙ্গু আর ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ সামলাতেও ডিম খাওয়ার বিধান দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। ওজন নিয়ন্ত্রণ করার সময় ডায়েটে নিয়মিত ডিম থাকা চাই অন্যান্য কম ক্যালরির খাবারের সঙ্গে। এতে শরীর ভেঙে পড়া প্রতিরোধ করা যায়।

সকালের নাশতায় বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ ডিম। সেদ্ধ, ভাজা, পোচ, স্ক্র্যাম্বল, অমলেট—চলতে পারে সবই। সেদ্ধ ডিম সবচেয়ে সুবিধাজনক ও স্বাস্থ্যসম্মত। এতে বাড়তি তেল নেই। আবার সেদ্ধ ডিম দিয়ে পশ্চিমের ডেভিলড এগ, এগ সালাদ থেকে শুরু করে এদিকের নার্গিসি কোফতা, ডিমের কোরমা, ডিম ভুনা—হতে পারে নানা পদ। ডিম সেদ্ধ হতে পারে আদর্শ লো–ক্যালরি স্ন্যাক। আমরা যাকে ঘরে ঘরে পোচ ডিম বলি, সূর্যের মতো উজ্জ্বল কুসুমের কারণে ইংরেজিতে তাকে বলা হয় সানি সাইড আপ। ফ্রাইড এগও বলা হয়। এতে টোস্ট করা পাউরুটি চুবিয়ে খাওয়ার মজাই আলাদা। চলতে পারে হাতে গড়া রুটিও।
স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই তেল ছাড়া বা পানিতে ভাপিয়ে ডিম খেয়ে থাকেন। একটু গোলমরিচের গুঁড়া সঙ্গে হলে মন্দ লাগে না। তবে সব সময় পোচ, সেদ্ধ আর ভাজা না খেতে ইচ্ছা করলে আছে বহু কায়দা। ডিমের সাদা অংশ ফেটিয়ে মেরাং করে ক্লাউডি এগ বানানো যায়। ইস্টার বা অন্য অনেক উৎসবে ডিমের পরিবেশনে আনা হয় অন্য মাত্রা।

বিশেষ কায়দায় তৈরি চায়নিজ মার্বেল টি এগ তো চোখ জুড়িয়ে দেওয়ার মতো। আবার সব রকম সবজি দিয়ে তৈরি করা যায় সুস্বাদু স্প্যানিশ অমলেট। আমাদের দেশে পেঁয়াজ-মরিচ তো বটেই, শাক বা কুমড়া ফুল দিয়েও ডিম ভাজা হয়। যেভাবেই খাওয়া হোক, ডিম খেতে হবে ছোট-বড় সবাইকে।
ছবি: পেকজেলসডটকম