
তার বার্তা পরিষ্কার: শর্টকাটে নয়, টেকসই অভ্যাসেই মিলবে প্রকৃত পরিবর্তন।
বছরের পর বছর ধরে লো-কার্ব ডায়েটকে দ্রুত ওজন কমানোর জাদুকরী উপায় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু সিদ্ধার্থর মতে, এই দ্রুত ফলের পেছনে লুকিয়ে আছে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি।
তার ভাষায়, খুব দ্রুত ওজন কমলেও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, বাড়তে পারে অস্বাভাবিক ক্ষুধা ও ক্রেভিং। ফলাফল—কিছুদিন পরেই আবার ওজন ফিরে আসা।
সমাধান? অনেক ধরনের খাবার একবারে বাদ না দিয়ে, ক্যালরি ডেফিসিট বজায় রাখা। কার্বোহাইড্রেট উপভোগ করেও স্বাস্থ্যকরভাবে ফ্যাট কমানো সম্ভব, যদি প্রোটিনের পরিমাণ যথেষ্ট থাকে। উচ্চ প্রোটিন পেশি রক্ষা করে, হরমোন স্থিতিশীল রাখে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।
ফিটনেস মানেই বাদ দেয়া নয়, ব্যালান্স।

২০২৬-এও ডিটক্স চা ও ক্লিনজিং সাপ্লিমেন্টের বাজার জমজমাট। কিন্তু সিদ্ধার্থর সবচেয়ে কড়া সমালোচনা এখানেই। তার স্পষ্ট বক্তব্য—“পৃথিবীতে এমন কোনো চা বা সাপ্লিমেন্ট নেই, যা আপনাকে ডিটক্স করবে।”
মানবদেহের নিজস্ব ডিটক্স সিস্টেম আছে—লিভার, কিডনি, অন্ত্র—যারা প্রতিদিন নিঃশব্দে এই কাজ করে যাচ্ছে। বাইরে থেকে ‘ম্যাজিক ড্রিংক’ যোগ করার প্রয়োজন নেই।
বরং তিনি যে বিষয়গুলোর উপর জোর দেন:
* পর্যাপ্ত ফাইবার
* পর্যাপ্ত প্রোটিন
* প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটা বা স্টেপ কাউন্ট
* নিরবচ্ছিন্ন ঘুম
ডিটক্স নয়, ডেইলি ডিসিপ্লিন—এই তার মন্ত্র।

ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ, সোশ্যাল মিডিয়া—সব মিলিয়ে ঘুম এখন সবচেয়ে অবহেলিত স্বাস্থ্যচর্চা। কিন্তু সিদ্ধার্থর মতে, ফ্যাট লসের পথে এটি সবচেয়ে বড় বাধা।
কম ঘুম মানে বাড়তি ক্ষুধা, বেশি ক্রেভিং, ধীর রিকভারি এবং শেষ পর্যন্ত শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমা। অর্থাৎ জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না, যদি ঘুম ঠিক না থাকে।
তার নির্দেশনা স্পষ্ট—প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা “নিঃশর্ত ও নিরবচ্ছিন্ন” ঘুম ফিটনেসের জন্য অপরিহার্য।
সিদ্ধার্থ সিং-এর দর্শন খুব সরল—ফিটনেস আপনার জীবনে অতিরিক্ত চাপ যোগ করবে না; বরং জীবনের মান উন্নত করবে। ভাইরাল ট্রেন্ডের পেছনে না ছুটে যদি নিয়মিত ও বাস্তবসম্মত অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তবে দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতা ও সুন্দর বডি কম্পোজিশন পাওয়া সম্ভব।
তারকাদের মতো ফলাফল পেতে আলাদা ম্যাজিক লাগে না—লাগে ধারাবাহিকতা, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার আর প্রতিদিনের ছোট ছোট সচেতন সিদ্ধান্ত। ২০২৬-এর ফিটনেস মন্ত্র তাই একটাই: ট্রেন্ড নয়, ট্রুথ বেছে নিন।