স্বচ্ছ পানি মানেই কি নিরাপদ পানি? উত্তরটা জানলে চমকে যাবেন
শেয়ার করুন
ফলো করুন

গ্লাসে ঢালা পানিটা একদম স্বচ্ছ। রং নেই, গন্ধ নেই, ময়লাও চোখে পড়ছে না। তাই মনে হচ্ছে, এই পানি নিশ্চয়ই নিরাপদ। কিন্তু সত্যিটা একটু অন্যরকম। পানির সবচেয়ে বড় বিপদ চোখে দেখা যায় না। স্বচ্ছ পানির ভেতরেও লুকিয়ে থাকতে পারে ক্ষতিকর জীবাণু।

চোখে দেখে বোঝা যায় না বিপদ

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো আর ইউনিসেফ বাংলাদেশের ২০২৫ সালের এক জরিপ বলছে ভয়ংকর এক তথ্য। দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ বাড়ির খাবার পানিতে মিলেছে ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া। এটা এমন জীবাণু, যা মলের মাধ্যমে ছড়ায়। শুধু তা-ই নয়, দেশের পানির প্রায় অর্ধেক উৎসও এই একই জীবাণুতে দূষিত।

এই সংখ্যাগুলো শুধু কাগজের হিসাব নয়। প্রতিদিন যে পানি আমরা খাচ্ছি, রান্নায় ব্যবহার করছি, বাচ্চাকে দিচ্ছি, সেটাই আসলে এই সংখ্যার মধ্যে পড়ে। প্রশ্নটা তাই সরাসরি আমাদের নিজেদের।

পানি নোংরা হলে সেটা সবসময় ঘোলা হবে বা দুর্গন্ধ ছড়াবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। বাইরে থেকে একদম পরিষ্কার দেখানো পানিতেও থাকতে পারে ক্ষতিকর জীবাণু। এখানেই আমাদের চোখ আমাদের সঙ্গে একটু ধোঁকা দেয়। শিশু, বয়স্ক মানুষ আর যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য এই দূষিত পানি আরও বেশি ঝুঁকির।

উৎস ভালো হলেও দূষণ থামে না

অনেকে ভাবেন, ভালো উৎস থেকে পানি আনলেই কাজ শেষ। আসলে তা নয়। নিরাপদ জায়গা থেকে পানি তোলার পরও সেটা দূষিত হতে পারে।

কীভাবে? পাত্রটা অপরিষ্কার থাকলে। বারবার হাত বা মগ ডুবিয়ে পানি তুললে। পাত্রের মুখ খোলা রাখলে। দীর্ঘদিন একইভাবে পানি জমিয়ে রাখলে। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই পানিকে আবার অনিরাপদ করে তোলে।

তাই শুধু নলকূপ বা সরবরাহ লাইন নিয়ে ভাবলেই চলবে না। পানি ঘরে আনার পর কীভাবে রাখছি, কীভাবে ব্যবহার করছি, সেটাও সমান জরুরি।

বিজ্ঞাপন

ছোট কিছু অভ্যাসেই বদলাতে পারে অনেক কিছু

পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করুন। পাত্র সবসময় ঢেকে রাখুন। পানি তোলার সময় পরিষ্কার হাত বা আলাদা পরিষ্কার পাত্র ব্যবহার করুন।

পানির উৎস নিয়ে সন্দেহ থাকলে, স্বীকৃত পদ্ধতিতে পানি পরিশোধন করে নিন। খাবার তৈরির আগে আর টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন। পানি আর হাত, দুটোর পরিচ্ছন্নতাই একসঙ্গে চলে।

এটা শুধু একার দায়িত্ব নয়

একটা পরিবার একা চাইলেই সব সমস্যা সমাধান করতে পারে না। নিরাপদ পানির উৎস, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আর সবার সচেতনতা, সবকিছু একসঙ্গে জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে।

বাংলাদেশের মতো ঘনবসতির দেশে এই ব্যবস্থায় সামান্য একটা ফাঁকও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি দরকার নিরাপদ পানি সরবরাহ আর নিয়মিত মান নিয়ন্ত্রণেরও।

শেষ কথা

পানি আমাদের জীবনের সবচেয়ে সাধারণ একটা জিনিস। এত বেশি ব্যবহার করি যে এর নিরাপত্তা নিয়ে আলাদা করে ভাবার সময়ই হয় না। অথচ এক গ্লাস পানির সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটা পরিবারের স্বাস্থ্য, একটা শিশুর বেড়ে ওঠা।

স্বচ্ছতা চোখকে শান্তি দিতে পারে, কিন্তু নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না। আর সেই লুকানো ঝুঁকিটা বোঝার মধ্যেই লুকিয়ে আছে নিরাপদ জীবনের প্রথম ধাপ।

তথ্যসূত্র: ওয়াটারএইড বাংলাদেশ

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০১: ০০
বিজ্ঞাপন