গর্ভাবস্থার শেষ ৪ সপ্তাহে নিয়ম করে নির্দিষ্ট সংখ্যায় খেজুর খেলে মিলবে অভাবনীয় ফল, বলছে নতুন গবেষণা
শেয়ার করুন
ফলো করুন

গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টি ও খাদ্যাভ্যাস শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর শেষ ৪ সপ্তাহে এদিকে আরও মনোযোগী হতে হয়। এই সময় চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদেরা প্রসব সহজ ও নিরাপদ করতে আর শিশুর বিকাশে বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। বর্তমান সময়ে এমনই একটি আলোচিত খাবার হলো খেজুর।

বহু বছর ধরেই পুষ্টিবিদেরা বলেন, গর্ভাবস্থার প্রথম থেকে শেষ পর্যায় পর্যন্ত নিয়মিত খেজুর খেলে মা ও শিশুর জন্য নানা উপকার হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, গর্ভাবস্থার শেষ ৪ সপ্তাহে নিয়ম করে নির্দিষ্ট সংখ্যায় খেজুর খেলে মিলবে অভাবনীয় ফল।

বিজ্ঞাপন

খেজুরে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, পটাশিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং প্রাকৃতিক শর্করা। এসব উপাদান গর্ভবতী নারীর শক্তি জোগাতে এবং শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণে সাহায্য করে।

বিশেষ করে আয়রন থাকায় এটি রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে, যা অনেক গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে একটি সাধারণ সমস্যা।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক কিছু অথেনটিক গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গর্ভাবস্থার শেষ দিকে খেজুর খাওয়ার সঙ্গে স্বাভাবিক প্রসবের সম্ভাবনা বাড়ার একটি সম্পর্ক থাকতে পারে। এই ধারার গবেষণায় ২০১১ সালে জর্ডান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা গর্ভাবস্থার শেষ কয়েক সপ্তাহে নিয়মিত খেজুর খেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রসব প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হয়েছে এবং অনেক সময় প্রসব ত্বরান্বিত করতে কৃত্রিম ওষুধের প্রয়োজন কম পড়েছে।

আর সম্প্রতি ২০২৫ সালে ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের এক নতুন গবেষণায় ১২০ জন গর্ভবতী মায়ের ওপরে একটি স্টাডি করা হয়েছে, যার ফল চমকে দিচ্ছে সবাইকে। এখানে ৬০ জন হবু মাকে গর্ভাবস্থার শেষ ৪ সপ্তাহে দিনে ৬টি করে খেজুর খেতেদেওয়া হয়েছে। আর বাকি ৬০ জন গর্ভবতী নারী খেজুর খান নি। খেজুর খেয়েছেন এমন নারীদের গ্রুপের ৬০ শতাংশের সহজ ও স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে কোনো মেডিকেল স্টেপ ছাড়াই।

গবেষকদের মতে, খেজুরে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান অক্সিটোসিনের মতো হরমোনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে, যা প্রসব প্রক্রিয়াকে সহজ করতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি খেজুরের প্রাকৃতিক চিনি দ্রুত শক্তি জোগায়, যা প্রসবের সময় মায়ের জন্য উপকারী হতে পারে।

এছাড়া খেজুরে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে অনেক নারী কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন। নিয়মিত খেজুর খেলে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা স্বাভাবিক থাকতে পারে।

প্রতিদিন কয়টি খেজুর খাওয়া উচিত

বিভিন্ন গবেষণা ও পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে প্রতিদিন ৪ থেকে ৬টি খেজুর খাওয়া নিরাপদ ও উপকারী বলে ধরা হয়। এর বেশি খেলে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ঝুঁকি থাকতে পারে, তাই পরিমিত খাওয়াই ভালো।

এই সময় থেকে প্রতিদিন কয়েকটি খেজুর খেলে প্রসবের সময় কিছু সুবিধা পাওয়া যেতে পারে
এই সময় থেকে প্রতিদিন কয়েকটি খেজুর খেলে প্রসবের সময় কিছু সুবিধা পাওয়া যেতে পারে

কয় মাস থেকে খাওয়া শুরু করা উচিত

গবেষণায় দেখা গেছে, সম্ভাব্য তারিখের হিসেবে গর্ভাবস্থার শেষ ৪ সপ্তাহে নিয়মিত এই পরিমাণে খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই সময় থেকে প্রতিদিন কয়েকটি খেজুর খেলে প্রসবের সময় কিছু সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে যদি কারও ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত। আর এই খেজুর খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ এবং পুষ্টিকর খাবার—এই তিনটি বিষয় মেনে চললে গর্ভাবস্থা আরও স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ হয়ে উঠতে পারে।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ (এন আই এইচ)

ছবি: এআই ও পেকজেলস

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৪: ২৪
বিজ্ঞাপন