সুইচ-অন ডায়েট: কোরীয় এই পদ্ধতিতে এক সপ্তাহে চার কেজি ওজন কমানোর দাবি ফ্রিল্যান্স মডেল শেরির
শেয়ার করুন
ফলো করুন

সম্প্রতি যোগাযোগমাধ্যমে সিউলে বসবাসকারী ফ্রিল্যান্স মডেল শেরি, নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পর সুইচ-অন ডায়েট নিয়ে অনেকের আগ্রহ বেড়েছে। শেরির মতে, আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস—যেখানে চিনি, রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট ও অতিরিক্ত প্রসেসড খাবারের আধিক্য—ফ্যাট কমানোর প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। সুইচ-অন ডায়েট সেই জায়গাতেই পরিবর্তন আনে।

সুইচ-অন ডায়েট কী?

সুইচ-অন ডায়েট হলো চার সপ্তাহের একটি কোরিয়ান হেলথ প্রোগ্রাম, যা তৈরি করেছেন স্থূলতা গবেষক ডা. পার্ক ইয়ং-উ। এই ডায়েটের মূল দর্শন হলো—শরীরকে ধীরে ধীরে কার্বোহাইড্রেট-নির্ভর শক্তি ব্যবস্থার বদলে জমে থাকা ফ্যাট পোড়াতে অভ্যস্ত করা, একই সঙ্গে মাংসপেশি রক্ষা করা এবং ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত করা।

এই ডায়েটের মূল ভিত্তি

এই ডায়েটে প্রোটিনকে দেওয়া হয় বিশেষ গুরুত্ব। পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ শরীরের মাংসপেশি ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে, যা দ্রুত ওজন কমানোর সময় একটি বড় ঝুঁকি। পাশাপাশি ডায়েট থেকে বাদ দেওয়া হয়—

চিনি, ক্যাফেইন, অ্যালকোহল, প্রসেসড মিট ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ফাস্টিং বা নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকা, যা ধাপে ধাপে ডায়েটে যুক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

চার সপ্তাহের কাঠামো কেমন?


শেরির বর্ণনা অনুযায়ী,
* প্রথম সপ্তাহ মূলত ডিটক্স ও গাট রিসেটের জন্য। প্রথম কয়েক দিন প্রোটিন শেক, এরপর ধীরে ধীরে সবজি ও উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার যোগ করা হয়।

* দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হয় ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, যাতে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাংসপেশির পুনরুদ্ধার বজায় থাকে।

* তৃতীয় সপ্তাহে ফাস্টিংয়ের দিন বাড়ে এবং ফোকাস আরও বেশি হয় ফ্যাট বার্নিংয়ের দিকে।

* ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় যোগ হয় মাল্টিগ্রেইন ভাত, লিন চিকেন, মাছ, ডিম, বাদাম, বেরি, কলা ও মিষ্টি আলু। তবে চিনি ও প্রসেসড খাবার পুরো সময়ই নিষিদ্ধ থাকে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি

শেরি জানান, তিনি আগেও এই ডায়েট অনুসরণ করেছিলেন এবং শরীরের ফ্যাট কমতে দেখেছেন। তবে শীতকালীন জীবনযাপন ও হরমোনজনিত সমস্যার কারণে তাঁকে আবার নতুন করে শুরু করতে হয়। এবার তিনি দুগ্ধজাত খাবার বাদ দিয়েছেন, ফাইবার বাড়িয়েছেন এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি খাবারে জোর দিয়েছেন।

সুইচ-অন ডায়েট নিয়ে আগ্রহ তৈরি হলেও এটি মনে রাখা জরুরি—দ্রুত ওজন কমানোর অভিজ্ঞতা সবার ক্ষেত্রে একরকম নাও হতে পারে। শরীরের প্রয়োজন, বয়স, হরমোন ও জীবনযাপনভেদে ফল ভিন্ন হয়। তাই এমন কোনো ডায়েট অনুসরণ করার আগে পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

ট্রেন্ডের পেছনে ছোটা নয়, বরং নিজের শরীরকে বোঝাই হোক সুস্থতার প্রথম ধাপ—এই দর্শনেই এগোতে চায় আধুনিক ওয়েলনেস।

সূত্র: দা কোরিয়ান টাইমস

ছবি: শেরির ইনস্টাগ্রাম

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪: ০৬
বিজ্ঞাপন