কুমড়া বীজও ফেলনা নয়, রয়েছে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান
শেয়ার করুন
ফলো করুন

কুমড়া অত্যন্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। আমাদের দেশে কুমড়া সবজি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বিশ্বে কুমড়া ফল হিসেবেই পরিচিত। কারণ, শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী কুমড়া কিউকারবেট পরিবারের অন্তর্গত। তাই বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে এটি ফল। কুমড়ার পাশাপাশি এর বীজও খাওয়া যায়। খাদ্য হিসেবে কুমড়ার বীজ অত্যন্ত মজার। খেতে কিছুটা বাদামের মতো। ছোটবেলায় বিশেষ করে গ্রামে অনেকেই হয়তো কুমড়ার বীজ ভাজা খেয়েছেন। পুষ্টিবিদদের মতে, কুমড়ার বীজে রয়েছে প্রচুর আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, যা মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটায় ও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখে। এ ছাড়া হৃদ্‌যন্ত্রের জন্যও অনেক উপকারী। বাজারে এই কুমড়ার বীজ কাঁচা এবং ভাজা বা রোস্টেড পাওয়া যায়।

পুষ্টি উপাদান

আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড (গুড ফ্যাটি অ্যাসিড), প্রোটিন, ফাইবার, প্রয়োজনীয় মিনারেল, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট (কোষের ক্ষয়রোধ করে), জিংক, কপার ও ফসফরাস।

কুমড়া বীজের স্বাদ

কুমড়ার বীজের স্বাদ কিছুটা বাদামের মতো। কাঁচা কুমড়ার বীজ চিবিয়ে খেতে হয়। যদিও বা বীজ ভেজে খেলে বাদামের মতো স্বাদ এবং ক্রাঞ্চি বা কুড়মুড়ে একটা ভাব আসে।

বিজ্ঞাপন

কীভাবে খাবেন

কুমড়ার বীজ বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। পুরো খোসাসহ বা ওপরের খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের অংশ খাওয়া যায়। ভেতরের অংশের নাম পেপিটাস। কাঁচাও খাওয়া যায়। আবার পেপিটাস তেলে ভেজেও খাওয়া যায়। তা ছাড়া ভাজা বীজ বিভিন্ন খাবারে গার্নিস হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। আবার স্ন্যাক্স হিসেবেও খাওয়া যায়। কাঁচা বীজে পুষ্টিগুণ বেশি থাকলেও কাঁচা বীজ চ্যাপটা এবং একটু শক্ত, তাই চিবিয়ে খাওয়া অনেকের কাছেই বিরক্তিকর লাগতে পারে। তাদের জন্য তেলে ভেজে খাওয়াটাই যুক্তিযুক্ত। সুপারশপে খোসা ছাড়ানো পেপিটাস প্যাকেটে কাঁচা কিংবা ভাজা দুটোই পাওয়া যায়।
বিভিন্ন খাবার বানানো যায় এই বীজ দিয়ে। যেমন:

গ্রানোলা বার: ঘরে বসেই ড্রাই ফ্রুটস, ডার্ক চকলেট, বাদাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বীজ দিয়ে বানাতে পারেন গ্রানোলা বার; যা বেক করে খেতে পারেন। সরাসরিও খেতে পারেন।

বিভিন্ন খাবারে গার্নিস হিসেবে: ব্রেড, স্যুপ, শাকসবজির সঙ্গে গার্নিস হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। দই, ফিরনি, পায়েস ইত্যাদিতে ব্যবহার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে খাবারের স্বাদও বেড়ে যাবে। পুষ্টিও পাওয়া যাবে।

পামকিন সিড বাটার: যাঁদের পিনাটবাটারে অ্যালার্জি আছে, তাঁরা পরিপূরক হিসেবে পামকিন সিড বাটার ব্যবহার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পামকিন সিড হালকা মাখন, লবণ, প্রয়োজনীয় তেল ইত্যাদি দিয়ে ব্লেন্ড করে খুব সহজেই বাসায় বানাতে পারেন।

বীজ সংরক্ষণ

পামকিন সিড বায়ুমুক্ত কনটেইনারে সংরক্ষণ করতে হয়। কাঁচা খোসা ছাড়ানো বীজ ঠান্ডা এবং শুষ্ক জায়গায় সংরক্ষণ করে রাখলে প্রায় ছয় মাস পর্যন্ত এই বীজ খাওয়া যাবে। বীজ ভাজা হলে সাধারণ তাপমাত্রায় দুই সপ্তাহ খাওয়া যায়। তাই বেশি সময় সংরক্ষণের জন্য রেফ্রিজারেটরে রাখা যায়। সে ক্ষেত্রে ভাজা বীজগুলো প্রায় দুই মাস খাওয়া যাবে। কাঁচা খোসাযুক্ত বীজ রেফ্রিজারেটরে প্রায় এক বছর সংরক্ষণ করা যায়।

বীজ নষ্ট হলে কীভাবে বুঝবেন

বীজ নষ্ট হলে বীজের স্বাদ টক হয়ে যায়, বীজের রংও পরিবর্তিত হয়। তা ছাড়া দুর্গন্ধ পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন

ছবি: পেকজেলসডটকম ও উইকি কমন্স

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০১: ০০
বিজ্ঞাপন