
শীতকাল মানেই আরাম, কম ঘাম, মন ভালো রাখা আবহাওয়া আর ঠিক এই সময়টাই ওজন কমানোর জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময় বলছে নতুন গবেষণা। গরমের তুলনায় শীতে শরীর বেশি ক্যালরি বার্ন করে, ক্ষুধাও তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই একটু সচেতন হলেই এই মৌসুমে ওজন কমানো সম্ভব, তাও বাড়তি কষ্ট ছাড়াই।
চলুন জেনে নেওয়া যাক শীতের দিনে সুস্থভাবে ওজন কমানোর ১০টি কার্যকর ও স্বাস্থ্যকর টিপস।

ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করলে মেটাবলিজম ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়। এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং শরীরের ভেতরের টক্সিন বের করতে সাহায্য করে যা ওজন কমানোর প্রথম ধাপ।

সকালের নাশতায় ডিম, ওটস কিংবা লাল আটার রুটি রাখলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। ফলে অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাক্স খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং সারা দিন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ডিম, মাছ, চিকেন, ডাল এই খাবারগুলো প্রোটিনে সমৃদ্ধ। প্রোটিন শরীরের ফ্যাট বার্নে সাহায্য করে এবং মাংসপেশি ধরে রাখতে সহায়ক। শীতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে ওজন কমানো আরও সহজ হয়।

লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, গাজর শীতের এই সবজিগুলো ক্যালরি কম কিন্তু ফাইবার বেশি। এগুলো হজমে সাহায্য করে এবং পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখে।
ভাত পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দুপুরে আধা কাপ ভাত শরীরের জন্য যথেষ্ট শক্তি জোগায়। কিন্তু এর বেশি ভাত নিয়মিত খেলে তা ওজন কমানোর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে পরোটা, পাউরুটি, বিস্কুট ও বিভিন্ন বাইরের স্ন্যাকসেও প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা সহজেই শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমিয়ে ফেলে। তাই ওজন কমাতে চাইলে এসব খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

রাতে সবজি বা চিকেন স্যুপ খেলে শরীর গরম থাকে, পেট ভরে যায় এবং অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছা কমে। শীতের রাতে এটি আদর্শ ডিনার।
শীত মানেই পিঠার মৌসুম। লোভ হওয়াটা স্বাভাবিক। মাঝেমধ্যে স্বাদ নেওয়া যেতেই পারে, কিন্তু এটাকে নিয়ম বানাবেন না। মনে রাখবেন, অল্প স্বাদই যথেষ্ট।

ঠান্ডায় তৃষ্ণা কম লাগে, কিন্তু শরীরের পানির চাহিদা কমে না। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। এটি ফ্যাট মেটাবলিজমে সাহায্য করে এবং শরীরকে রাখে সতেজ।
চেষ্টা করুন রাত ৮টার মধ্যে খাবার শেষ করতে। ভারী ও তেলচর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। হালকা খাবার হজম সহজ করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।

শীতের ঠান্ডায় হাঁটা তুলনামূলক সহজ ও আরামদায়ক। প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ হাজার স্টেপ হাঁটার চেষ্টা করুন। এটি ফ্যাট বার্নের জন্য দারুণ কার্যকর।
সবশেষে একটা কথাই মনে রাখতে হবে ওজন কমানো কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত বা স্বল্পমেয়াদি চ্যালেঞ্জ নয়, এটা একটা অভ্যাস । শীতের আরামদায়ক সময়টাকে যদি একটু বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজে লাগানো যায়, তাহলে শরীর নিজেই সাড়া দিতে শুরু করবে। খুব কড়া ডায়েট বা অতিরিক্ত ব্যায়াম নয়, বরং নিয়মিত খাবার, পর্যাপ্ত পানি, হালকা চলাফেরা আর নিজের শরীরের প্রতি যত্ন এই ছোট ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন এনে দেয়। শীতকে ভয় না পেয়ে, এই সময়টাকেই বানান সুস্থ ও ফিট হওয়ার সবচেয়ে সুন্দর সুযোগ হিসেবে।
ছবি: এআই ও পেকজেলসডটকম