লো ব্লাড প্রেশারে উপকার দিতে পারে রান্নাঘরের এই সাধারণ ২টি উপকরণ
শেয়ার করুন
ফলো করুন

উচ্চ রক্তচাপ ও নিম্ন রক্তচাপ। এই দুটিকে নিয়ন্ত্রণ না করা হলে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। সাধারণত চিকিৎসকেরা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন, যা দীর্ঘদিন অথবা চিরদিন সেবন করে যেতে হয়। আধুনিক কিছু গবেষণা বলছে যে উচ্চ রক্তচাপ ও নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ঘরোয়া কিছু উপায় বেশ কার্যকর। এর সঙ্গে মেডিটেশন, ঘুম, শিথিলায়ন ও আকুপ্রেশার বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে।

আমাদের পথ্যগুলোতে এ সমস্যায় প্রাকৃতিক প্রতিকার রয়েছে, যা কার্যকরভাবে রক্তচাপ পরিচালনা এবং এর ছন্দ ঠিক রাখতে সাহায্য করতে পারে। একটি শক্তিশালী সংমিশ্রণ হলো লেবু ও রসুন। দুটি সাধারণ উপাদান, যা কার্ডিওভাস্কুলার স্বাস্থ্যকে ঠিক করতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে একসঙ্গে কাজ করে।

বিজ্ঞাপন

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে অনেক বেশি ওষুধনির্ভর হতে দেখা যায়; অথচ নিম্ন রক্তচাপের ক্ষেত্রে তেমন ওষুধনির্ভরতা থাকে না। মানুষ নানাভাবে খাওয়ার ওপর জোর দিয়ে এটা ঠিক করার চেষ্টা করে থাকেন। আদতে এই রক্তচাপজনিত সমস্যা কেবল খাওয়াদাওয়ার ওপর নির্ভর নয়। বিশেষ করে নিম্ন রক্তচাপ একটি জটিল প্রক্রিয়া। আমাদের শরীরের অনেকগুলো অঙ্গ এর সঙ্গে জড়িত।

নিম্ন রক্তচাপ হওয়ার অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে কিছু সাধারণ কারণ হলো:
• দেহে পানির অভাব: যথেষ্ট পরিমাণে পানি না পান করলে রক্তের পরিমাণ কমে যেতে পারে এবং ফলে রক্তচাপ কমে যায়।
• ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু ওষুধ, যেমন রক্তচাপ কমানোর ওষুধ, হার্টের ওষুধ এবং কিছু মূত্রবর্ধক ওষুধ নিম্ন রক্তচাপের কারণ হতে পারে।
• হৃদ্‌রোগ: হৃৎপিণ্ডের দুর্বলতা, হার্টের ভালভের সমস্যায় নিম্ন রক্তচাপ হতে পারে।
• হরমোনজনিত সমস্যা: থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল বা পিটুইটারি গ্রন্থির সমস্যা নিম্ন রক্তচাপ হতে পারে।
• রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুর সমস্যা: এই স্নায়ুগুলো যদি সঠিকভাবে কাজ না করে, তাহলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
• গুরুতর রোগ: কিডনি, লিভার ও সংক্রমণের কারণে নিম্ন রক্তচাপ হতে পারে।
• পুষ্টিহীনতা: লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে গেলে বা শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ না থাকলে নিম্ন রক্তচাপ হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

নিম্ন রক্তচাপের লক্ষণ

মাথা ঘোরা, চোখের সামনে কালো দেখা, দুর্বলতা, অস্থিরতা
বমি বমি ভাব, হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি ও শ্বাসকষ্ট।

লেবু ও রসুন কেন

• লেবু ভিটামিন সি ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা রক্তনালিগুলোকে শিথিল করতে এবং রক্তপ্রবাহ উন্নত করতে সাহায্য করে। প্রাকৃতিক অম্লতাও শরীরে সোডিয়ামের মাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে একটি মূল কারণ। লেবুর মূত্রবর্ধক বৈশিষ্ট্যগুলো শরীরকে অতিরিক্ত তরল বের করতে সাহায্য করে, হার্টের ওপর চাপ কমায়।

• রসুন রক্তচাপ কমানোর এবং হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করার ক্ষমতার জন্য পরিচিত। এটিতে অ্যালিসিন রয়েছে, একটি যৌগ যা রক্তনালিগুলোকে শিথিল করতে এবং নাইট্রিক অক্সাইড উত্পাদন বাড়াতে দেখানো হয়েছে, যা উন্নত সঞ্চালন ও নিম্ন রক্তচাপকে সঠিক মাত্রায় রাখে। রসুন কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে। সুস্থ হার্টের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

উপকরণ

• লেবুর রস ১ টেবিল চামচ
• রসুনের ২–৩ কোয়া
• পানি ১ কাপ
• মধু (ঐচ্ছিক, স্বাদের জন্য)

প্রণালি

লেবুর রসের সঙ্গে রসুনের কোয়া বেটে মিশিয়ে এক কাপ কুসুম গরম পানির সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন। যদি মধু খাওয়ায় কোনো সমস্যা না হয়, ডায়াবেটিক না থাকে, তাহলে মধু মিশিয়ে নিন। এই তিন উপাদান ভালো করে মিশিয়ে চায়ের মতো পান করুন।

লেবু ও রসুনের মিশ্রণটি দিনে একবার সকালে খালি পেটে পান করুন। এই মিশ্রণ প্রাকৃতিক প্রতিকারের সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবহার সময়ের সঙ্গে আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে, স্বাভাবিকভাবে আপনার হার্টের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে কাজ করবে।

লেবু ও রসুনের এই সহজ কিন্তু শক্তিশালী সংমিশ্রণটি ওষুধের প্রয়োজন ছাড়াই নিম্ন রক্তচাপ ঠিক করার একটি প্রাকৃতিক উপায়। মজার বিষয় হলো, এই মিশ্রণ রক্তে প্রবহমান ঠিক করার কারণে যাঁরা উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় আছেন, তাঁদের জন্য ভালো কারণ হচ্ছে এই মিশ্রিণ কার্ডিওভাস্কুলার স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। যার কারণে রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখতে এ প্রতিকার আপনার দৈনন্দিন রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
আপনি আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং এই সহজ ও কার্যকর প্রাকৃতিক সমাধান দিয়ে আপনার হার্টের যত্ন নিন।

লেখক: খাদ্য ও পথ্যবিশেষজ্ঞ; প্রধান নির্বাহী, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র

ছবি: পেকজেলসডটকম

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০১: ০০
বিজ্ঞাপন