
চলছে রমজান মাস। টানা রোজা রেখে অনেক সময় শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয়। আর এক্ষেত্রে প্রোটিন দিয়েই দূর করতে হয় এই সমস্যা। আর প্রোটিন বুস্টের জন্য যে সুপারফুডটি সবচেয়ে বেশি সহজলভ্য ও কার্যকরী তা হলো ডিম। তবে বাজারে তো লাল আর সাদা দুই ধরনের ডিমই আছে। দুর্বলতা কাটাতে আর শক্তি দিতে কোন ডিম বেশি ভালো? লালটা না সাদাটা?

আমরা সবাই জানি, শরীরের বৃদ্ধি ও নানা পুষ্টির ঘাটতি পূরনে ডিম অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিদিনের ডায়েটে অবশ্যই ডিম রাখা উচিত। ডিমে রয়েছে পর্যাপ্ত উচ্চ মানের ও সহজে শোষণযোগ্য প্রোটিন। সেই সঙ্গে ডিম খেলে পাবেন সকল মিনারেল ও ভিটামিন যা আমাদের শরীর গঠন এবং শরীরের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তাছাড়া শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্যাটও থাকে এই সুপারফুডে।
ডিমের সাদা অংশে পর্যাপ্ত প্রোলিন থাকে। প্রোলিন হচ্ছে শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অ্যামিনো অ্যাসিড। কোলাজেন তৈরিতে কাজ করে এই অ্যামিনো এসিড। কোলাজেন শরীরের শক্তি বৃদ্ধি, শরীরের মৃত কোষকে সরিয়ে নতুন কোষ তৈরীতে, ত্বকের রুক্ষতা দূর করতে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের কোলাজেন উৎপন্নের হার কমে যেতে থাকে। তখন এর ঘাটতি পূরনে ডিম অনেক কার্যকরী। রমজান মাসে অনেকেই রোজা রাখেন। তাই ইফতার এবং সেহরীতে পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ খাবারের তালিকায় অবশ্যই ডিম যুক্ত করুন।

এখন বাজারে দুই ধরনের মুরগির ডিম আমরা দেখি। একটা সাদা আর একটি লাল বর্ণের। অনেকেই মনে করেন সাদা ডিমের পুষ্টিগুন বেশি তাই দামও একটু বেশি। কিন্তু আসলে গবেষকদের মতে সাদা ডিমের পুষ্টিগুন আর লাল ডিমের পুষ্টিগুন একই। বর্ণের পার্থক্য হওয়ার কারন মুরগির পালকের এবং কানের লতির রং। যেসব মুরগির পালক এবং কানের লতি লাল, ঐ মুরগির ডিম লাল বর্ণের হবে। একই রকমভাবে সাদা ডিমের ক্ষেত্রেও কানের লতি এবং পালক সাদা হবে।
তাই সত্যি বলতে, ডিমের পুষ্টিগুন এর রঙের ওপর নির্ভর করে না, বরঞ্চ তা নির্ভরশীল মুরগির খাদ্যতালিকার ওপর। মুরগিকে যদি সাধারণ ফিডের সঙ্গে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ তিসির বীজ বা ফ্ল্যাক্স সিড খাওয়ানো হয়, তাহলে ঐ মুরগির ডিম ওমেগা-৩, ভিটামিন - ডি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হবে। তাছাড়া ডিম শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল, এলডিএল এর পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। আবার ডিমে পর্যাপ্ত বায়োটিন থাকে যা চুল, দাড়ি বৃদ্ধিতে এবং ত্বকের মসৃণতা বজায় রাখে।

এদিকে প্রায়ই শোনা যায়, বর্তমানে ডিমেও নাকি ভেজাল। তাই বড় বাজার কিংবা শপিং মল থেকে ডিম কিনতে পারেন। বাজারে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ডিমও বিক্রি হচ্ছে। স্বাভাবিক ডিমের চেয়ে এইসব ডিমের দাম একটু বেশি। এই ডিমগুলোর আকার বড় এবং কুসুমের রং একটু ভিন্ন।

যারা অপুষ্টিতে ভুগছেন, শরীরে শক্তি পাচ্ছেন না কিংবা শরীরের ওজন বাড়াতে চাচ্ছেন তাঁরা সাদা লাল না বেছে প্রতিদিনের ডায়েটে অবশ্যই ২টা ডিম রাখুন। এতে কিছুদিনের মধ্যেই শরীরে পরিবর্তন দেখতে পারবেন।
তথ্যসূত্র : টাইমস এন্টারটেনমেন্ট
ছবি: পেকজেলস ডট কম