
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, ইফতারে একমুঠো বাদাম ও বীজ যোগ করা হতে পারে স্বাস্থ্যকর জীবনের সহজ সূচনা। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় বাদাম ও বীজ রাখলে শরীর পায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী শক্তি।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কেন ইফতারের টেবিলে জায়গা পেতে পারে বাদাম ও বীজ।
বাদাম ও বীজ প্রকৃতির ছোট্ট পাওয়ারহাউস। এতে রয়েছে ভিটামিন ই, বি-গ্রুপ ভিটামিন, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, সেলেনিয়ামসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও ফাইবার শরীরকে রাখে সজীব ও কর্মক্ষম।

সারা দিন রোজার পর শরীরের প্রয়োজন ধীরে ধীরে শক্তি ফিরে পাওয়া। বাদাম ও বীজে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিন ধীরে হজম হয়, ফলে দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায়। এতে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
বাদাম ও বীজে রয়েছে ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলে হার্ট সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে।

অনেকে ভাবেন, বাদাম খেলে ওজন বাড়ে। বাস্তবে পরিমিত পরিমাণে বাদাম ও বীজ ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এতে থাকা ফাইবার ও প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।
ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাদাম ও বীজ উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা কমায়।

ভাজাপোড়ার বদলে ইফতারের প্লেটে রাখতে পারেন—
* বাদাম
* আখরোট
* চিয়া বীজ
* ফ্ল্যাক্সসিড
* কুমড়োর বীজ
* সূর্যমুখীর বীজ
এসব উপাদান দুধ বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন, ফলের সালাদে যোগ করতে পারেন, কিংবা সরাসরি একমুঠো করে চিবিয়ে খেতে পারেন।
ইফতার মানেই তেল-ঝাল নয়। সামান্য সচেতনতা বদলে দিতে পারে পুরো মাসের খাদ্যাভ্যাস। এবারের রমজানে ইফতার হোক হালকা, পুষ্টিকর এবং স্মার্ট—এক মুঠো বাদাম ও বীজের সহজ সংযোজনে।
ছবি: এআই ও পেকজেলসডটকম