
রমজান মানেই আমাদের সারাবছরের খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে আমরা সাধারণত ভাজাপোড়া, মিষ্টি ও ভারী খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ি। ফলে দেখা দেয় গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যা। এই সমস্যার সমাধানে সাধারণ কিন্তু কার্যকর একটি খাবার হতে পারে টক দই। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই প্রোবায়োটিক রোজার মাসে শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষা দিতে পারে নানা ভাবে।

টক দইয়ে থাকে উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যেগুলো প্রোবায়োটিক নামে পরিচিত। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে যখন হঠাৎ খাবার গ্রহণ করা হয়, তখন হজম প্রক্রিয়ায় চাপ পড়ে। টক দই অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য রক্ষা করে এবং খাবার দ্রুত ও স্বাভাবিকভাবে হজমে সাহায্য করে। ফলে অম্বল, গ্যাস ও পেটের অস্বস্তি কমে।

রমজানে অনেকেই ভাজাপোড়া বা মসলাযুক্ত খাবার বেশি খান। এতে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হতে পারে। টক দইয়ের প্রাকৃতিক ঠান্ডা ও ল্যাকটিক অ্যাসিড পাকস্থলীর অম্লতা কমাতে সাহায্য করে। ইফতারে এক বাটি টক দই পেটকে আরাম দেয় এবং হজমে ভারসাম্য আনে।
রোজায় দীর্ঘ সময় পানি না খাওয়ার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। টক দইয়ে থাকে প্রচুর পানি ও ইলেকট্রোলাইট। সাহরিতে বা ইফতারে টক দই খেলে শরীর দীর্ঘ সময় আর্দ্র থাকে এবং ক্লান্তি কমে। বিশেষ করে গরমের দিনে দই, চিড়া ও ফল মিশিয়ে খেলে তা হতে পারে পুষ্টিকর ও হাইড্রেটিং খাবার।

টক দই প্রোটিনের ভালো উৎস, যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী। রোজায় অনেকে দুর্বলতা অনুভব করেন, নিয়মিত দই খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়।
প্রোবায়োটিক উপাদান শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। রোজার সময় খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে অনেকের হজমের সমস্যা দেখা দেয়। টক দই অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রেখে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে।
রমজানে অনেকেই ইফতারে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করেন। টক দই পেট ভরিয়ে রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। এতে থাকা প্রোটিন ও প্রোবায়োটিক উপাদান মেটাবলিজম ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

ইফতারে এক বাটি টক দইয়ের সঙ্গে ফল ও সামান্য মধু
সেহরিতে চিড়া, কলা ও টক দই
শসা ও পুদিনা দিয়ে দইয়ের রায়তা
লবণ, ভাজা জিরা ও বিটলবণ দিয়ে ঘোল
রমজানের রোজা শুধু আত্মশুদ্ধির নয়, এটি শরীরকেও বিশ্রাম দেওয়ার একটি সুযোগ। তাই ইফতার ও সাহরির টেবিলে ভারী ও তৈলাক্ত খাবারের পাশাপাশি রাখুন এক বাটি টক দই। সহজলভ্য এই খাবারটি আপনার রমজানকে করে তুলতে পারে আরও সুস্থ, সুষম ও প্রাণবন্ত।
তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন
ছবি: পেকজেলসডটকম