ইফতার থেকে সাহরি— স্বাস্থ্যরক্ষার প্রাকৃতিক সঙ্গী এই সহজলভ্য প্রোবায়োটিক
শেয়ার করুন
ফলো করুন

রমজান মানেই আমাদের সারাবছরের খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে আমরা সাধারণত ভাজাপোড়া, মিষ্টি ও ভারী খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ি। ফলে দেখা দেয় গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যা। এই সমস্যার সমাধানে সাধারণ কিন্তু কার্যকর একটি খাবার হতে পারে টক দই। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই প্রোবায়োটিক রোজার মাসে শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষা দিতে পারে নানা ভাবে।

বিজ্ঞাপন

হজমে সহায়ক প্রোবায়োটিক শক্তি

টকদই হজমে সহায়ক
টকদই হজমে সহায়ক

টক দইয়ে থাকে উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যেগুলো প্রোবায়োটিক নামে পরিচিত। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে যখন হঠাৎ খাবার গ্রহণ করা হয়, তখন হজম প্রক্রিয়ায় চাপ পড়ে। টক দই অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য রক্ষা করে এবং খাবার দ্রুত ও স্বাভাবিকভাবে হজমে সাহায্য করে। ফলে অম্বল, গ্যাস ও পেটের অস্বস্তি কমে।

বিজ্ঞাপন

পেট ঠান্ডা ও অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণ

টক দই অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণ করে
টক দই অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণ করে

রমজানে অনেকেই ভাজাপোড়া বা মসলাযুক্ত খাবার বেশি খান। এতে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হতে পারে। টক দইয়ের প্রাকৃতিক ঠান্ডা ও ল্যাকটিক অ্যাসিড পাকস্থলীর অম্লতা কমাতে সাহায্য করে। ইফতারে এক বাটি টক দই পেটকে আরাম দেয় এবং হজমে ভারসাম্য আনে।

পানিশূন্যতা রোধে কার্যকর

রোজায় দীর্ঘ সময় পানি না খাওয়ার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। টক দইয়ে থাকে প্রচুর পানি ও ইলেকট্রোলাইট। সাহরিতে বা ইফতারে টক দই খেলে শরীর দীর্ঘ সময় আর্দ্র থাকে এবং ক্লান্তি কমে। বিশেষ করে গরমের দিনে দই, চিড়া ও ফল মিশিয়ে খেলে তা হতে পারে পুষ্টিকর ও হাইড্রেটিং খাবার।

প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের সমৃদ্ধ উৎস

ক্যালসিয়ামের দারুণ উৎস টক দই
ক্যালসিয়ামের দারুণ উৎস টক দই

টক দই প্রোটিনের ভালো উৎস, যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী। রোজায় অনেকে দুর্বলতা অনুভব করেন, নিয়মিত দই খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

প্রোবায়োটিক উপাদান শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। রোজার সময় খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে অনেকের হজমের সমস্যা দেখা দেয়। টক দই অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রেখে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

রমজানে অনেকেই ইফতারে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করেন। টক দই পেট ভরিয়ে রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। এতে থাকা প্রোটিন ও প্রোবায়োটিক উপাদান মেটাবলিজম ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

ইফতার ও সাহরিতে টক দই খাওয়ার সহজ উপায়

টক দই ও কলা হতে পারে দারুণ স্বাস্থ্যকর ইফতার
টক দই ও কলা হতে পারে দারুণ স্বাস্থ্যকর ইফতার


ইফতারে এক বাটি টক দইয়ের সঙ্গে ফল ও সামান্য মধু

সেহরিতে চিড়া, কলা ও টক দই

শসা ও পুদিনা দিয়ে দইয়ের রায়তা

লবণ, ভাজা জিরা ও বিটলবণ দিয়ে ঘোল

রমজানের রোজা শুধু আত্মশুদ্ধির নয়, এটি শরীরকেও বিশ্রাম দেওয়ার একটি সুযোগ। তাই ইফতার ও সাহরির টেবিলে ভারী ও তৈলাক্ত খাবারের পাশাপাশি রাখুন এক বাটি টক দই। সহজলভ্য এই খাবারটি আপনার রমজানকে করে তুলতে পারে আরও সুস্থ, সুষম ও প্রাণবন্ত।
তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

ছবি: পেকজেলসডটকম

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০১: ০০
বিজ্ঞাপন