
দুটি জনপ্রিয় পানীয়। প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট বলা হয় এগুলোকে। কিন্তু রোজায় হাউড্রেটেড থাকতে কোনটি বেশি ভালো?
সারাদিন রোজা রাখার পরে আমাদের শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে। তাই শরীরকে হাইড্রেশন দিতে দরকার হয় উপকারি যেকোনো পানীয়। আর সেটি যদি হয় আখের রস কিংবা ডাবের পানি তাহলে তো কোন কথাই নেই! গরমের সময়ে আখের রস বা ডাবের পানি ছোটবড় সকলেরই অনেক পছন্দের। সারা দিন রোজা রেখে শরীর সতেজ রাখা সত্যিই একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা সেই চ্যালেঞ্জ খুব সহজেই অতিক্রম করতে পারি। এই গরমে পানিশূন্যতা এড়াতে ও প্রশান্তি পেতে কমবেশি সবাই ডাবের পানি কিংবা আখের রস পান করছেন। এ দুটি উপকরণ শরীরের জন্য বেশ উপকারি। কিন্তু ইফতারে কোনটি পান করা ভালো হবে? আসুন, জেনে নেওয়া যাক।


প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটআখের রস ও ডাবের পানিতে উভয়ই প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটে সমৃদ্ধ হওয়ায় হাইড্রেশনের জন্য খুবই উপকারি। তবে, ডাবের পানিতে ইলেক্ট্রোলাইটের (বিশেষ করে পটাসিয়াম) ঘনত্ব বেশি থাকে। ডাবের পানি উচ্চ ইলেক্ট্রোলাইট উপাদানে পরিপূর্ণ হওয়ার কারণে শারীরিক পরিশ্রমের পরে বা গরম আবহাওয়ায় শরীরের হারিয়ে যাওয়া খনিজ পদার্থ পূরণ করার এটি অন্যতম ভালো উপায়।
পানির পরিমাণ
ডাবের পানির প্রায় ৮০ শতাংশ তুলনায় আখের রসে পানির পরিমাণ বেশি প্রায় ৯০ শতাংশ থাকে। তবে, ডাবের পানির ইলেক্ট্রোলাইটগুলি শরীরে পানির ঘাটতি বেশি পূরণ করতে পারে।
ক্যালোরি ও শর্করার পরিমাণ
ডাবের পানির তুলনায় আখের রসে ক্যালরি এবং শর্করা বেশি থাকে। যেখানে এক কাপ আখের রসে প্রায় ১৫০-২০০ ক্যালোরি ও ৩০-৪০ গ্রাম চিনি থাকে, সেখানে প্রতি কাপ ডাবের পানিতে প্রায় ৪৫ ক্যালোরি এবং ১১ গ্রাম চিনি থাকে।


পটাসিয়ামের পরিমাণ
ডাবের পানি পটাসিয়ামের একটি উৎকৃষ্ট উৎস। প্রতি কাপ ডাবের পানিতে প্রায় ৬০০-৭০০ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম থাকে। অন্যদিকে, আখের রসের প্রতি কাপে প্রায় ২০০-৩০০ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম থাকে।
সোডিয়ামের পরিমাণ
এক কাপ ডাবের পানিতে প্রায় ৪৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে। সেখানে প্রতি এক কাপ আখের রসে প্রায় ১০-২০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে।
পুষ্টিবিদরা যা বলছেন
আখের রসে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ়, পটাসিয়ামসহ বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও সহজপাচ্য ফাইবার। এই পানীয়র মধ্যে প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে, যা ক্লান্ত শরীরে তৎক্ষণাৎ চনমনে ভাব এনে দিতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি রয়েছে এতে। তবে এত গুণ থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন আখের রস খাওয়া ঠিক নয়। কারণ যাদের রক্তে শর্করা বেশি থাকে তারা তো বটেই, সাথে যাদের শরীরে স্থূলতাজনিত সমস্যা রয়েছে বা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদেরও রোজ আখের রস খেতে নিষেধ করেন পুষ্টিবিদরা।

অন্যদিকে, শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হলে কিংবা শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে পুষ্টিবিদরা ডাবের পানি পানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ডায়রিয়া, হিট স্ট্রোক, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা দুর্বলতা কাটাতে এই পানির উপকারিতা অতুলনীয়। মাংসপেশির কার্যকারিতার জন্যও ডাবের পানি বেশ কার্যকরী। তবে, ডাবের পানিতে পটাসিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকায় যাদের রক্তচাপ এমনিতেই কম তাদের এই পানীয় বেশি না পান করাই শ্রেয় । কিডনির সমস্যা থাকলেও ডাবের পানি বেশি পান করা যায় না। এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীরা যে নিয়মিত নিশ্চিন্তে এই পানি পান করতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করে বলা যায় না। এক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।

তাই সব মিলিয়ে বলা যায় যে, শক্তির জোগান বা এনার্জির দিক থেকে ডাবের পানির চেয়ে আখের রসই ভালো বলে মনে করেন অধিকাংশ পুষ্টিবিদরা। আর মিনারেলের ঘটতি পূরণ করে হাইড্রেটেড রাখতে ডাবের পানিই এগিয়ে আছে।পাশাপাশি, এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, ডাবের পানি বা আখের রস কিন্তু সাধারণ পানির বিকল্প হতে পারে না কখনও।
সূত্র: ইন্ডিয়া টিভি নিউজ
ছবি: ইন্সটাগ্রাম