
বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ মানুষ আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত—২০২০ সালের একটি গবেষণাই সে তথ্য জানাচ্ছে। ব্যথা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ, ফিজিওথেরাপি, ব্যায়াম কিংবা অস্ত্রোপচার—সবই আছে আধুনিক চিকিৎসায়। তবু দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তির খোঁজে অনেকেই ঝুঁকছেন প্রাকৃতিক ও সহায়ক উপায়ের দিকে।
এই জায়গাতেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে শীতের একেবারে পরিচিত সবজি—বাঁধাকপি।

বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিবেদন ও গবেষণায় বলা হচ্ছে, বাঁধাকপিতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান আর্থ্রাইটিসজনিত ব্যথা ও ফোলাভাব কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূল চিকিৎসার বিকল্প নয়, তবে সহায়ক পদ্ধতি হিসেবে আরাম দিতে পারে।
ইউরোপসহ বিশ্বের নানা দেশে বহুদিন ধরেই হাঁটু বা অস্থিসন্ধিতে বাঁধাকপির পাতা পেঁচিয়ে রাখার প্রচলন আছে। আধুনিক গবেষণা সেই পুরোনো ঘরোয়া পদ্ধতির পেছনে বৈজ্ঞানিক যুক্তির ইঙ্গিতও দিচ্ছে।

বাঁধাকপির পাতায় থাকা সক্রিয় উপাদান ত্বকের মাধ্যমে ধীরে ধীরে শোষিত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এতে জয়েন্টের চারপাশের টিস্যুর প্রদাহ কিছুটা কমে এবং অস্থিসন্ধিতে সাময়িক আরাম আসে। বিশেষ করে হাঁটুর আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কিছু সময়ের জন্য স্বস্তি দিতে পারে।
তবে চিকিৎসকেরা একমত—এটি কোনো নিরাময় নয়, বরং ব্যথা ব্যবস্থাপনার একটি সহায়ক উপায় মাত্র।

বাঁধাকপি শুধু রান্নার সবজি নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এটি বেশ সমৃদ্ধ।
-ভিটামিন সি শরীরের প্রদাহ কমাতে ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে
-ভিটামিন কে হাড় ও জয়েন্টের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
-অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের ক্ষয় কমাতে ভূমিকা রাখে
-ফাইবার হজম ভালো রাখে এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখে
এই উপাদানগুলো মিলেই বাঁধাকপিকে প্রাকৃতিকভাবে শরীরের প্রদাহ মোকাবিলায় সহায়ক একটি খাবার হিসেবে পরিচিত করেছে।

পদ্ধতিটি বেশ সহজ এবং বাড়িতেই করা যায়।
সতেজ বাঁধাকপির পাতা ভালো করে ধুয়ে নিন। পাতা সামান্য চেপে বা রোলিং পিন দিয়ে নরম করে নিন, যাতে ভেতরের রস বের হতে পারে। এরপর ব্যথার জায়গায়—হাঁটু বা অস্থিসন্ধিতে—পাতা পেঁচিয়ে দিন। আলতো করে কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে বেঁধে রাখুন।
৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা রাখলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। অনেকেই রাতে ঘুমানোর আগে এটি ব্যবহার করেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট মত—আর্থ্রাইটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগ। নিয়মিত চিকিৎসা, চিকিৎসকের পরামর্শ, উপযুক্ত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই এর মূল ব্যবস্থাপনা। বাঁধাকপির পাতা পেঁচিয়ে রাখা বা এ ধরনের ঘরোয়া উপায় কেবল সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, স্থায়ী সমাধান নয়।
সহজলভ্য, কম খরচের এবং প্রাকৃতিক হওয়ার কারণে শীতকালে বাঁধাকপির এই ব্যবহার অনেকের কাছেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। বিজ্ঞান বলছে—এর পেছনে যুক্তি আছে, তবে সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে প্রয়োজন অনুযায়ী এমন প্রাকৃতিক লাইফস্টাইল পদ্ধতিকে সহায়ক সমাধান হিসেবে গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
ছবি: পেকজেলসডটকম ও এআই