
শরীর ভালো রাখতে এখন সাপ্লিমেন্টের ব্যবহার খুবই কমন। উচ্চ কোলেস্টেরল থেকে শুরু করে দীর্ঘস্থায়ী পেটের সমস্যার জন্য এখন বিভিন্ন রকমের ভিটামিন ও মিনারেলযুক্ত সাপ্লিমেন্ট দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এগুলো সাধারণত শরীরের উপকার করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এগুলো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও বেশি ব্যবহার হচ্ছে। এই যেমন অ্যাংজাইটি। এখন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু পুষ্টি উপাদানের অভাবে এই উদ্বেগ বা অ্যাং জাইটি খুব খারাপ রূপ ধারণ করতে পারে। হয়ে যেতে পারে ক্রনিক ও তীব্র। আর এজন্য বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট উপকারী হতে পারে বলে তাঁরা মত দিচ্ছেন। তবে নতুন সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি। তিনি আপনার প্রাথমিক চিকিৎসক, সাইকিয়াট্রিস্ট বা অন্য কোনো বিশেষজ্ঞ যেই হোন না কেন।

কীভাবে সাপ্লিমেন্ট অ্যাংজাইটি কাটায়
অনেক সাপ্লিমেন্ট শরীরকে সেরোটোনিনের মতো কার্যকরভাবে নিউরোট্রান্সমিটার শোষণে সাহায্য করে। আর এভাবেই অ্যাংজাইটি দূর হয় দ্রুত। তবে সাপ্লিমেন্ট কোনো চিকিৎসা নয়। খেয়াল রাখতে হবে যে এগুলো সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ নাও করতে পারে। আর এক্ষেত্রে পরিবর্তন সঙ্গে সঙ্গে হয় না। আবার কিছু সাপ্লিমেন্ট অন্য ওষুধের সঙ্গে মিশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। সেদিকেও লক্ষ্য করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদী কোনো রোগ থাকলে সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
উদ্বেগ কমাতে যেসব সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা যায়
ভিটামিন ডি-৩
মুড ও এনার্জি ভালো রাখতে সাহায্য করে এটি। সূর্যালোক হলো সবচেয়ে ভালো উৎস। দিনে ১৫–২০ মিনিট রোদে থাকা ভালো, তবে শীতে তা কঠিন হতে পারে। তাই রক্ত পরীক্ষা করে ডাক্তার প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট নিতে বলতে পারেন।
ম্যাগনেসিয়াম
সেরোটোনিন নিয়ন্ত্রণ ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত করে উদ্বেগ ও অনিদ্রা কমাতে সাহায্য করে। হজম, হৃদপিণ্ডের কাজ ও ঘুমেও উপকার করে। ডার্ক চকলেট, বাদাম আর বিনস ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎস।

মেলাটোনিন
সবচেয়ে প্রচলিত স্লিপ এইড। শরীরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়, তবে অনেকের ঘাটতি থাকে। ঘুমের সমস্যা কমাতে এবং উদ্বেগজনিত নেতিবাচক অনুভূতি হ্রাসে সাহায্য করে।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
মাছের তেল ও ক্রিল অয়েলে পাওয়া যায়। হার্ট ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী, মুড উন্নত করে। স্যামন, ম্যাকারেল, সার্ডিন ইত্যাদি ভালো উৎস। নিরামিষভোজীদের জন্য ফ্ল্যাক্সসসিড, চিয়া, পালং শাক ইত্যাদি বিকল্প খাবার আছে।
ক্যামোমাইল
চা হিসেবে খাওয়া যায়। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অ্যাপিজেনিন মস্তিষ্কের রিসেপ্টরে কাজ করে উদ্বেগ কমায়। তবে ব্লাড থিনার ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকি আছে।
ভ্যালেরিয়ান রুট
উদ্বেগ ও বিষন্নতা কমাতে সাহায্য করে। পিএমএস ও এডিএইচডিতেও উপকারী হতে পারে। তবে সিডেটিভ ওষুধের সঙ্গে খেলে সাবধান থাকতে হবে।
অশ্বগন্ধাএটী একটি অ্যাডাপ্টোজেন, যা কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) কমিয়ে শরীরকে স্ট্রেস মোকাবিলায় সাহায্য করে।

কাভা
ডোপামিন বাড়ায় এবং উদ্বেগ কমায়। তবে এটি নিয়ে গবেষণায় বিতর্ক আছে এবং অপব্যবহার ক্ষতিকর হতে পারে। সেডেটিভ ওষুধের সঙ্গে খেলে ঝুঁকি থাকে।
প্রাকৃতিক সাপ্লিমেন্টেও আছে ঝুঁকি
অনেকে মনে করেন প্রাকৃতিক মানেই নিরাপদ। কিন্তু সবসময় তা নয়। বেশি খেলে বা ভুলভাবে খেলে শ্বাসকষ্ট, মানসিক অস্পষ্টতা, লিভারের ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ, হার্ট, ক্যান্সার,এইচআইভি ইত্যাদির ওষুধের কার্যকারিতা কমাতে পারে। ভিটামিন ও মিনারেল সাধারণত নিরাপদ, কিন্তু ভেষজ সাপ্লিমেন্টে ঝুঁকি বেশি।
সূত্র: জেফারসন হেলথ
ছবি: পেকজেলস, ইন্সটাগ্রাম