
সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ও হেপাটোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি জানিয়েছেন, লিভার সুস্থ রাখতে তিনি প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে ব্ল্যাক কফি পান করেন। হার্বার্ড ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া এই চিকিৎসকের মতে, কফি লিভারের জন্য সবচেয়ে উপকারী পানীয়গুলোর একটি।

তার ভাষায়, নিয়মিত কফি পান করলে লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। বিভিন্ন বড় গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত কফি পান করেন তাদের মধ্যে লিভার জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ব্ল্যাক কফি লিভারের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ এনজাইমের মাত্রাও কমাতে সাহায্য করতে পারে। সাধারণত লিভারে চাপ বা প্রদাহ তৈরি হলে রক্তে এএলটি (ALT) ও এএসটি (AST) নামের এনজাইম বেড়ে যায়। নিয়মিত কফি পান এই মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের সমস্যা। অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত প্রসেসড খাবার ও কম শারীরিক পরিশ্রম এর বড় কারণ। চিকিৎসকদের মতে, কফিতে থাকা উপকারী উপাদান ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
কফির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনল। বিশেষ করে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড নামের একটি উপাদান শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, যা দীর্ঘমেয়াদি লিভার ক্ষতির অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়।

তাহলে দিনে কত কাপ কফি পান করা ভালো? বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন দুই থেকে তিন কাপ ব্ল্যাক কফিই সবচেয়ে উপকারী। খুব কম বা অতিরিক্ত নয়, বরং এই পরিমাণই লিভারের জন্য সবচেয়ে ভালো ফল দিতে পারে।

আর যারা ক্যাফেইন এড়িয়ে চলেন, তাদের জন্যও আছে সুখবর। চিকিৎসকদের মতে, কফির উপকারিতা শুধু ক্যাফেইনের জন্য নয়, বরং এতে থাকা পলিফেনলের কারণেও আসে। তাই ডিক্যাফ কফিতেও মিলতে পারে প্রায় একই ধরনের উপকার।

তবে মনে রাখতে হবে, উপকারী হতে হলে কফি হওয়া উচিত যতটা সম্ভব সাদামাটা। অর্থাৎ অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ বা হেভি ক্রিম ছাড়া। কারণ অতিরিক্ত মিষ্টি বা ক্যালোরি যোগ হলে সেই স্বাস্থ্য উপকারিতার অনেকটাই কমে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, প্রতিদিনের ছোট্ট এক কাপ ব্ল্যাক কফি হয়তো শুধু আপনার সকালটাই নয়, দীর্ঘমেয়াদে লিভারের সুস্থতাও একটু বেশি নিশ্চিত করতে পারে।
ছবি: এআই