
একেবারে সহজ একটি কাজও শরীরকে ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করতে পারে? সেটি হলো, এক গ্লাস বরফ ঠান্ডা পানি পান করা। কিন্তু এতে কি আসলে ওজন কমে? কতটুকু?
আমরা সাধারণত ক্যালরি বার্ন করা মানেই ভাবি, জিমে ব্যায়াম, দৌড়ঝাঁপ, বা বিশেষ ওয়ার্ক আউট প্ল্যান। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে একেবারে সহজ একটি কাজও শরীরকে ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করতে পারে। সেটি হলো, এক গ্লাস বরফ ঠান্ডা পানি পান করা। কিন্তু এতে কি আসলে ওজন কমে? কতটুকু?

শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বরফ ঠাণ্ডা পানি যখন শরীরে প্রবেশ করে, তখন আমাদের শরীরকে আবার নিজস্ব স্বাভাবিক তাপমাত্রায় নিয়ে আসতে শক্তি ব্যয় করতে হয়। এই প্রক্রিয়াকে থার্মোজেনেসিস বলে, অর্থাৎ পানি গরম করতে শরীর ক্যালরি খরচ করে। এভাবে এক গ্লাস (প্রায় ২৫০ মি.লি.) বরফ ঠাণ্ডা পানি শরীরের ভেতরে ঢুকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসতে প্রায় ৭–৮ ক্যালোরি খরচ হয়। তাই এ কথা কিন্তু আসলেই ঠিক যে বরফ ঠান্ডা পানি পান করলে ক্যালরি বার্ন হয়।
এই বরফ পানি পান করার অভ্যাসকে 'ওজন কমানোর জাদুকরী উপায়' ইত্যাদি বলা না গেলেও, গবেষণা থেকে জানা যায়, পানি পান করলে শরীরের বিপাক হার (metabolic rate) কিছুটা বেড়ে যায়।

২০০৩ সালে দ্য জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, ৫০৪ মি.লি. ঠাণ্ডা পানি পান করলে বিপাক ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যা প্রায় এক ঘন্টা ধরে বজায় থাকে। তবে, এই প্রভাব অল্প সময়ের হলেও মোট শক্তির ব্যয়ের প্রেক্ষিতে বরফ ঠাণ্ডা পানির এই ক্রিয়া যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য।
প্রতিদিন কয়েক গ্লাস এরকম তাপমাত্রার পানি পান করলে মাসে অবশ্যই কিছু ক্যালরি পুড়তে পারে। সামগ্রিকভাবে এর প্রভাব ইতিবাচক।
সামগ্রিক উপকারিতা কী কী
এটি সহজ ও নিরাপদ অভ্যাস। এর জন্য তেমন কোন জটিল প্রক্রিয়ার প্রয়োজন নেই,শুধু পানির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করলেই চলে।

এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি পান করলে সামান্য ক্যালোরি পোড়ানো হয় ঠিকই। তবে শুধু এই পদ্ধতিতে ওজন কমবে না। এটি ক্যালরি খরচে অতিরিক্ত একটি ছোট পদক্ষেপ হিসেবে সহায়ক হতে পারে ক্যালরি ডেফিসিট ডায়েট ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি।
সূত্র: ভিনমেক, গুড আর এক্স