কোনো ডায়েট কাজে না এলে কী করবেন
শেয়ার করুন
ফলো করুন

সুস্থ জীবনের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য আমরা অনেকেই অনুসরণ করি বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি। আর এ তালিকায় এখন তুমুল আলোচনায় ডিএনএ ডায়েট। বহুল প্রচলিত কিটো ডায়েট, লো কার্ব ডায়েট, হাই-প্রোটিন ডায়েট ইত্যাদি ফ্যাড বা অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়াই খুব দ্রুত ওজন হ্রাস করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ডায়েটের সঙ্গে ডিএনএ ডায়েটের পার্থক্য এই যে এটি অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত একটি পদ্ধতি। যাঁর যাঁর দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী এটি ডিজাইন করা হয়। এই নতুন ডায়েট সম্পর্কে জানার আগে আমাদের কিছু মৌলিক বিষয়ে ধারণা থাকা চাই।

ডিএনএ কী

ডিএনএ ডায়েট কথাটি শোনার পর প্রথমেই যে প্রশ্নটি মাথায় আসে, তা হলো ডিএনএ কী? ডিএনএ বা ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড দুটি চেইন দ্বারা গঠিত একটি অণু, যা আমাদের জেনেটিক গঠন বা ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে। মানুষ, উদ্ভিদ আর কিছু ভাইরাসসহ অন্য সব জীবন্ত প্রাণীর দেহের বিভিন্ন জৈবিক বৈশিষ্ট্য গঠন এই ডিএনএর ওপরেই নির্ভর করে।

বিজ্ঞাপন

ডিএনএ ডায়েটের ধারণা

এবার জেনে নেওয়া যাক ডিএনএ ডায়েট কী? বিজ্ঞানের অসীম অবদানের ফলে ডিএনএ সিকোয়েন্সিংয়ের মতো প্রযুক্তি মানুষের বিভিন্ন জেনেটিক বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করার সুযোগ করে দিয়েছে। এটি স্বাস্থ্যের উন্নয়ন আর রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিকার উভয় ধরনের গবেষণার জন্য কাজে লাগে। এরই সাহায্যে কিছু গবেষক ও খাদ্যবিশেষজ্ঞ আবিষ্কার করেন যে ডিএনএ পরীক্ষা করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্যের জন্য কোন খাদ্য কখন ও কী পরিমাণে খাওয়া সবচেয়ে উপযুক্ত হবে, তা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

প্রত্যেক মানুষের শরীরের ধরন আলাদা। প্রত্যেক ব্যক্তি অনন্য। তাই দেহ পরিচালনার জন্য একেকজনের প্রয়োজন একেক রকম খাবার। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে একজন নির্দিষ্ট মানুষের জন্য কোন খাবারটি সবচেয়ে উপযুক্ত, তা বের করে আনা যায়। যাঁরা সব ধরনের ডায়েট ফলো করে দেখেছেন, কিন্তু কিছুতেই ফলাফল পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্য এই ডিএনএ ডায়েট বয়ে আনতে পারে সুসংবাদ। বিশেষ করে যাঁরা পিসিওডি বা পিসিওএস কিংবা আরও নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং ট্রেন্ডে থাকা কোনো ডায়েটই আপনার শরীরের প্রয়োজনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন না, তাঁদের জন্য পারসোনালাইজড এই ডায়েট তালিকা সুফল বয়ে আনতে পারে।


কীভাবে ডিএনএ ডায়েট কাজ করে

ডিএনএ ডায়েট নিয়ে গবেষণা করে এমন কোম্পানি কিংবা সংস্থাগুলো গ্রাহকদের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে খুঁজে বের করে যে তাঁর ডিএনএ সিকোয়েন্সের কোন দিকগুলো তাঁর স্বাস্থ্য বা যেকোনো রোগের প্রতি সংবেদনশীলতাকে প্রভাবিত করে। প্রত্যেক গ্রাহকের জন্য একটি সম্পূর্ণ আলাদা খাদ্যতালিকা তৈরি করা হয়, যা বিশেষভাবে শুধু ওই ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য। এসব সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান খাদ্যতালিকার পাশাপাশি রেসিপি ও দৈনন্দিন বাজারের তালিকাও দিয়ে দেয়।
ডিএনএ ডায়েট তৈরির জন্য যা করতে হয়
ডিএনএ ডায়েট তৈরি করার সময় যেকোনো সম্ভাব্য অ্যালার্জি বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া গ্রাহকের কোনো নির্দিষ্ট জেনেটিক সমস্যা রয়েছে কি না কিংবা কোনো জেনেটিক কারণ তাঁদের শারীরিক স্থূলতা কিংবা অ্যালার্জির জন্য দায়ী কি না, তা–ও পরীক্ষা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ডিএনএ ডায়েটের অসুবিধা

যদিও খাদ্যবিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে একমত যে কোনো একটি নির্দিষ্ট ডায়েট সব ব্যক্তির জন্য উপযুক্ত নয়, তবে ডিএনএ ডায়েটের মাধ্যমে করা খাদ্য পরিকল্পনাগুলো সুপারিশ করা হবে কি না, তা নির্ধারণ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। কারণ, ডিএনএ ডায়েট স্থূলতা ও অ্যানোরেক্সিয়ার মতো ঝুঁকিগুলো বিবেচনা করে না। আবার একজন ব্যক্তির দৈনিক খাদ্যাভ্যাস থেকে একটি নির্দিষ্ট ধরনের খাবার বাদ দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। এ ছাড়া টাইপ-২ ডায়াবেটিস আর স্থূলতার মতো রোগের মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ কারণ জেনেটিক। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তা ডিএনএ পরীক্ষায় ধরা না পড়ার ভয় থাকে। এতে ডিএনএ ডায়েটের মাধ্যমে তৈরিকৃত খাদ্য পরিকল্পনা অনুসরণ করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকলেও অপেক্ষাকৃত নতুন এ ডায়েট নিয়ে বিস্তর গবেষণা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢালাওভাবে একধরনের ডায়েট ফলো করে ফল না পেয়ে হতাশ এক বিশাল জনগোষ্ঠী স্থূলতা আর ভুল খাদ্যাভ্যাসের দুষ্টচক্রে পড়ে যাচ্ছে। আর এ থেকে পরিত্রাণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় পদ্ধতি হতে পারে ডিএনএ ডায়েট।

তথ্যসূত্র: সায়েন্স ডেইলি, হেলথলাইন

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৪, ১৩: ১০
বিজ্ঞাপন