
শীতের সকালে ঠান্ডা পানিতে গোসলের কথা চিন্তাই করা যায় না। কিন্তু এর এমন এক উপকারিতা আছে, যা জানলে আপনি সাহস করে নিয়েও নিতে পারেন কোল্ড শাওয়ার। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ঠান্ডা পানিতে গোসলের কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনার ডোপামিন লেভেল ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, শরীর হয় চনমনে। বিজ্ঞান বলছে, আপনি যখন হঠাৎ ঠান্ডা পানির স্পর্শ পান, শরীর সঙ্গে সঙ্গে সারভাইবাল মোডে (survival mode)-এ চলে যায়। তখন শরীর তিনটি শক্তিশালী রাসায়নিক উপাদান নিঃসরণ করে। ডোপামিন, নরএপিনেফ্রিন এবং এন্ডোরফিন। আমরা অনেকেই জানি, ডোপামিন মন ভালো রাখা ও মোটিভেশনের কাজ করে।

নরএপিনেফ্রিন: ফোকাস ঠিক রাখতে এবং সবকিছুতে সতর্ক থাকতে সহায়তা করে।
এন্ডোরফিন: ন্যাচারাল পেইনকিলার যা আপনাকে সতেজ ও সুস্থ অনুভূতি দেয়।
সবকিছু মিলেই আপনাকে চনমনে অনুভূতি দেবে সারা দিন।
সকাল সকাল ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল নিয়ে চালানও হয় সমীক্ষা। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা বলছেন- এতে মন ভালো হয়ে যায়, কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে, অলসতা কমে, স্ট্রেস হালকা হয়, মেজাজ ভালো থাকে। বিজ্ঞান বলছে, নিয়মিত ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে স্ট্রেস-রেসিলিয়েন্স বাড়ে। মানে, আপনি ধীরে ধীরে মানসিকভাবে আরও শক্ত, স্থিতিশীল ও সহনশীল হয়ে উঠবেন।
আপনি যদি স্ট্রেস কমাতে চান এবং সারা দিন ফুরফুরে মেজাজে থাকতে চান তাহলে ঠান্ডা পানির গোসল সবচেয়ে দারুণ থেরাপি। জেনে নেই নিয়মিত ঠান্ডা শাওয়ার বা ঠান্ডা পানিতে ডুব (cold plunge) মারলে কি পরিবর্তন হয় আমাদের দেহে-
ইনফ্লামেশন কমে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
রক্তসঞ্চালন আরও কার্যকর হয়।
মেটাবলিজম বাড়ে (চর্বি কমাতে সহায়ক)
ঘুম আরও গভীর হয়।

ঠান্ডা পানির শাওয়ার প্রথমে খানিকটা কাঁপুনি ধরালেও কিছুক্ষণ পরেই মন দারুণভাবে শান্ত হয়ে যায়। কারণ আমাদের নার্ভাস সিস্টেম ঠান্ডার ধাক্কা সামলে নিতে শেখে এবং আপনি হয়ে ওঠেন আরও ইমোশনালি ব্যালান্সড।

প্রথম দিনেই পুরো ঠান্ডা পানি দিয়ে নয়, ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হোন। ৩-৪ দিনের মধ্যে আপনি নিজেই বুঝবেন ব্যাপারটা এত কঠিন নয়। ভালো থাকার জন্য এমন সাশ্রয়ী পন্থা যেকোনো দামি সুপার ফুডের চেয়ে বেশি কার্যকর। তাই একবার সাহস করে ফেলুন ঠান্ডা পানির স্নান আর হয়ে উঠুন সতেজ।
সূত্র: মিডিয়াম
ছবি: এআই