
আজকাল অনেকেই ওজন কমাতে অ্যাপল সিডার ভিনেগার গ্রহণ করে থাকেন। আর তা অনেকটাই ওজন কমানোর জন্য। তবে একেবারে বোতলকে বোতল খেয়ে ফেললে হতে পারে বিপত্তি। তাই বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে বাঁচতে নিয়ম মেনে বিভিন্ন ডোজ বা পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে এই অ্যাপল সিডার ভিনেগার। অতিরিক্ত সেবন করলে এর অ্যাসিড দাঁতের অ্যানামেল ক্ষয় করে ফেলে। তবে পরিমিত পরিমাণে এটি যুগ যুগ ধরে প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে সমাদৃত। বহ গবেষণায় দেখা গেছে, ওজন হ্রাস, রক্তের চিনি কমানো, বদহজম থেমে মুক্তি এমনকি ক্যানসার বা হৃদ্রোগ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখতে পারে অ্যাপল সিডার ভিনেগার।
সাধারণভাবে অ্যাপল সিডার ভিনেগার উপকারী তা জানলেও দিনে কখন কতটুকু ও কীভাবে গ্রহণ করা উচিত, সেটি আসলে বলা মুশকিল। এমনিতে খাওয়ার আগে বা কিছুক্ষণ পরে ১ থেকে ২ টেবিল চামচ গ্রহণ করা উচিত এটি। তবে তা পান করতে হবে পানির সঙ্গে। তবে কী উদ্দেশ্যে আপনি এই ভিনেগার সেবন করছেন, তার ওপরে নির্ভর করে এর সঠিক ডোজ।
১. ডায়াবেটিস প্রতিরোধ
রক্তের চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করার এক প্রাকৃতিক পদ্ধতি অ্যাপল সিডার ভিনেগার সেবন। বিশেষ করে যাদের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আছে,,তাদের জন্য এটি খুবই কার্যকর।

উচ্চ শর্করা–জাতীয় খাবারের আগে এই ভিনেগার সেবন করলে দেখা গেছে তা দ্রুত পেট খালি হয়ে যাওয়া আর রক্তে চিনি বেড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে৷ তবে লো কার্ব বা উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রে এটি বড় কোনো পার্থক্য গড়ে দেয় না। চার চা চামচ ভিনেগার একটু পানিতে মিশিয়ে খাওয়ার ঠিক আগে গ্রহণ করতে হবে রক্তের চিনি নিয়ন্ত্রণ করতে।
২. পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের লক্ষণ কমাতে
পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের রোগী দিন দিন বেড়েই চলেছে। হরমোনের অস্বাভাবিক ভারসাম্যজনিত এই রোগ খুবই কষ্টদায়ক। এতে মাসিকে অনিয়ম হওয়া, অ্যানড্রোজেন হরমোন বেড়ে যাওয়া, ডিম্বাশয়ের সিস্ট আর ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হয়।

গবেষণা বলে, রাতের খাবারের পর ৭ আউন্স পানিতে ১ টেবিল চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে নিয়মিত খেলে হরমোনে ভারসাম্য আসে। পিরিয়ডও কিছুটা নিয়মিত ও ব্যথামুক্ত হয়।
৩. বাড়তি ওজন ঝেড়ে ফেলতে
খাওয়ার অতিরিক্ত ইচ্ছা দমন করার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে অ্যাপল সিডার ভিনেগার, বলছে বিভিন্ন সূত্র। তবে এ ক্ষেত্রে তা পান করতে হবে খাবারের সঙ্গে।

১ থেকে ২ টেবিল চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগারই যথেষ্ট এ জন্য। এক গ্লাস পানিতে এটি মিশিয়ে নিয়ে খাবারের আগে আগে পান করা যায়। সালাদ ড্রেসিং হিসেবেও গ্রহণ করা যায়।
৪. হজমের গন্ডগোল ঠিক করতে
উচ্চমানের ও বেশি পরিমাণে প্রাণিজ আমিষ খেলে সঙ্গে অ্যাপল সিডার ভিনেগার সেবন করলে হজমে সহায়ক হয় তা। তত্ত্বটি হচ্ছে, এটি পাকস্থলীর অম্লত্ব বাড়ায়। এতে শরীরে বেশি করে পেপসিন নামের পাচক রস উৎপন্ন হয়৷ আর এটিই প্রোটিন হজম করে।

১ থেকে ২ টেবিল চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার আধা গ্লাস পানিতে মিশিতে খাওয়ার ঠিক আগে পান করতে হবে। আর হজমে সমস্যা হয়ে গেলে মোটামুটি খালি পেটে এক টেবিল চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার গ্রহণ করতে হবে।
সূত্র: ভেরি ওয়েল ফিট
ছবি: পেকজেলস ডট কম