বিয়ের পর কেন বাড়ে ওজন? দম্পতিদের জন্য ফিটনেস কোচের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
শেয়ার করুন
ফলো করুন

সানিয়া ওয়াধেরা মতে, উপমহাদেশের বিয়েগুলোতে পাত্র-পাত্রী বাছাইয়ের তালিকায় পরিবারের পটভূমি, আয়, পেশা কিংবা রাশিফল—সবকিছুই গুরুত্ব পায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, স্বাস্থ্য প্রায়ই সেই তালিকার বাইরে থেকে যায়।

বিয়ের আগে আর পরে—দুই ভিন্ন ছবি

সানিয়া ওয়াধেরার মতে, বিয়ের আগে অনেক তরুণ-তরুণী নিজেদের ফিট রাখতে নিয়মিত জিমে যান, স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং নিজের যত্ন নেন। কিন্তু বিয়ের পর ধীরে ধীরে সেই অভ্যাসগুলো বদলে যায়।

প্রথম দিকে ‘হানিমুন সময়’ বলে একটু বেশি খাওয়া-দাওয়া হয়। এরপর কয়েক মাসের মধ্যেই ব্যস্ততা, সংসারের দায়িত্ব বা সামাজিক আয়োজনের কারণে ব্যায়াম কমতে থাকে। একসময় অনেকেই বলেন—“বিয়ের পর তো এমন হয়ই”—এবং বিষয়টি স্বাভাবিক বলে মেনে নেন।

কেন ভেঙে যায় স্বাস্থ্যকর রুটিন

ফিটনেস কোচ সানিয়া ওয়াধেরা মনে করেন, বিয়ের পর ওজন বাড়ার পেছনে শুধু খাবার নয়, জীবনযাপনের কিছু পরিবর্তনও বড় কারণ।

প্রথমত, দুজন মানুষের আলাদা অভ্যাস একসঙ্গে মিশে যায়। অনেক সময় ভালো অভ্যাসের বদলে খারাপ অভ্যাসগুলোই বেশি প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

দ্বিতীয়ত, সামাজিক দায়িত্ব বেড়ে যায়। বিয়ে, দাওয়াত, পারিবারিক অনুষ্ঠান—সব মিলিয়ে খাওয়া-দাওয়ার সুযোগ বাড়ে, আর না বলা কঠিন হয়ে পড়ে।

তৃতীয়ত, ‘এখন তো সংসার হয়ে গেছে’—এই মানসিকতা অনেককে নিজের যত্ন নেওয়া থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ফলে ব্যায়াম, নিয়মিত ঘুম কিংবা স্বাস্থ্যকর খাবার ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারায়।

বিজ্ঞাপন

সুস্থ দাম্পত্যের জন্য কী করা উচিত

এই প্রবণতা বদলাতে দম্পতিদের একসঙ্গে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন সানিয়া। তার মতে, ভালোবাসা মানে শুধু একসঙ্গে সময় কাটানো নয়—একসঙ্গে সুস্থ থাকার চেষ্টা করাও।

তিনি কয়েকটি সহজ অভ্যাসের কথা বলেন—

খোলামেলা আলোচনা

প্রথমেই একসঙ্গে বসে নিজেদের শারীরিক অবস্থা ও অনুভূতি নিয়ে কথা বলা জরুরি। শুধু ওজন নয়, শরীর কতটা ভালো লাগছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

একটি স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস

প্রতিদিন অন্তত একটি খাবার একসঙ্গে স্বাস্থ্যকরভাবে তৈরি ও খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।

৩০ মিনিটের নিয়ম

প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, ব্যায়াম বা কোনো শারীরিক কার্যক্রম একসঙ্গে করার চেষ্টা করা উচিত।

একজন আরেকজনকে অনুপ্রেরণা দেওয়া

অলসতাকে প্রশ্রয় না দিয়ে বরং একে অপরকে উৎসাহ দেওয়া দরকার। “আজ না করলেও চলবে”—এই মানসিকতার বদলে “চলো একসঙ্গে চেষ্টা করি”—এই ভাবনাই সুস্থ জীবনের পথ তৈরি করতে পারে।

সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক

সানিয়া ওয়াধেরার মতে, বিয়ের তালিকায় আয়, পেশা বা সামাজিক মর্যাদার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সুস্থ জীবনযাপন তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ সুস্থ শরীর ও মনই দীর্ঘ মেয়াদে একটি সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে।

তাই দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়াও সমান জরুরি—এটাই তার বার্তা।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ছবি: এআই

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০২: ০০
বিজ্ঞাপন